Opu Hasnat

আজ ৩ জুলাই শুক্রবার ২০২০,

মুকসুদপুরে লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের ২ হোতা আটক গোপালগঞ্জ

মুকসুদপুরে লিবিয়ায়  মানব পাচারকারী চক্রের ২ হোতা আটক

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে লিবিয়ায়  মানব পাচারকারী চক্রের ২ হোতাকে আটক করছে র‌্যাব-৮। ৪ জুন মধ্যে রাতে তাদের আটক করা হয় । পরে মুকসুদপুর থানায় সোর্পদ করা হয় তাদের। আটকৃত মানব পাচারকারী হলো উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের লোহাইড় গ্রামের রত্তন শিকদারের ছেলে সেন্টু শিকদার (৪৫) এবং গোহালা ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রামের আব্দুল রব মোড়লের স্ত্রী নারগীস বেগম (৪০)। 

লিবিয়ায় গুলি করে দুই যুবকে হত্যা ও অপর যুবকে আহত করার ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় তিন মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দয়ের করা হয় । সোমবার (১ জুন) দুপুরে নিহত সুজন মৃধার পিতা কাবুল মৃধা বাদী হয়ে থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১, তাখির ০১-০৬-২০২০। 

মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর্জা আবুল কালাম আজাদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি জানান, মামলার ৩ আসামীর মধ্যে সুন্দরদী গ্রামের ওসমান শেখের ছেলে লিয়াকত শেখ ওরফে লেকু শেখ ব্যতিত ২ আসামীকে আটক করা হয়েছে। 

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত মৃধার পিতা কাবুল মৃধা গত ১ জানুয়ারী তার ছেলে সুজন মৃধা ও ভাগিনা ফরিদপুর জেলার সালথা  থানার আলমপুর গ্রামের কবির শেখের ছেলে কামরুল শেখকে ৮ লাখ টাকা ও কালাম শেখের ছেলে ওমর শেখের চার লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া পাঠানোর পর ভাল বেতনের চাকরী দেবার জন্য মৌখিক চুক্তি হয়। এরপর ১৫ জানুয়ারী তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার ও কালাম শেখ ৫০হাজার টাকা দালাল রব মোড়লেকে দেন । পরে রব মোড়ল  অন্য দুই আসামীর কাছে টাকা পৌঁছে দেন গত ৫ ফেব্রুয়ারী আসামীরা বাড়ীতে এসে লিবিয়া পাঠানোর উদ্দেশ্যে সুজন মৃধা, কামরুল শেখ ওমর শেখের বাড়ী থেকে ঢাকায় নিয়ে যান। এরপর ভারত থেকে কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়া পাঠায়। পরর্বতীতে ১১ ফেব্রুয়ারী আসামীদেরকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেয় হয়। লিবিয়ায় যাওয়ার পর ১মাস পর চুক্তি ভেঙ্গে লিবিয়ার বেনগাজীর মিজদাহ শহরে নিয়ে আটক করে অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় মুক্তিপণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে পরে দালাল চক্রটি সুজন, কামরুল, ওমর শেখের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে নির্যাতন করার ভয়েস ম্যাসেজ নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রেরণ করে। ম্যাসেজ পেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি আসামী তিন দালালকে জানালে তারা দাবীকৃত টাকা না দিলে কিছুই করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। এর পর ২৮ মে সুজন মৃধা ও কামরুল শেখেকে গুলি কওে হত্যা করে ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হন। আহত ওমর শেখের পিতা কামাল শেখ ও মা শাহিদা বেগম তারা আহত ছেলেকে ফেরত চেয়েছেন । একই সাথে তারা মানব পাচারকারী দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, দই যুবককে গুলি করে হত্যা ও অপর এক যুবককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে । ২ আসামীকে র‌্যাব-৮ মাদারীপুর গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করছে । বাকী আসামীদের গ্রেফতার করে আইনে আওতায় আনা হবে। লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিদের হত্যা করা হয়।  নিহতদের মধ্যে মুকসুদপুর উপজেলার সুজন মৃধা রয়েছেন। অপর যুবক ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে লিবিয়ার ত্রিপলির একটি হাসপাতালে জীবন-মরনের সন্ধিক্ষণে রয়েছে।