Opu Hasnat

আজ ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ২০২০,

নলছিটিতে ত্রাণের টিনের ঘরের মুল্য ৫০ হাজার টাকা! ঝালকাঠি

নলছিটিতে ত্রাণের টিনের ঘরের মুল্য ৫০ হাজার টাকা!

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নে ৬ নং ইউপি সদস্য মোঃ মালেক হাওলাদার ওরফে মালেক মেম্বার এর নামে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও হতদরিদ্র আঃ রহিমের সাথে এমন প্রতারনার খবর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সূত্রমতে জানাগেছে, বৈশাখিয়া গ্রামের জব্বার হাওলাদারের পুত্র হতদরিদ্র দিনমজুর আঃ রহিম প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত “হতদরিদ্র যাদের জমি আছে ঘর নেই” তাদের ঘর তুলে দেয়া হবে ঘোষণা দিলে চেয়ারম্যান কবির হোসেনের কাছে একটি ঘর দাবি করেন। চেয়ারম্যান কবির তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক’র সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সে অনুযায়ী মালেক মেম্বারের সাথে কথা বলেন আব্দুর রহিম। মেম্বর রহিমকে বলেন ১০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে তাহলে একটা ঘর তোমাকে দেওয়া হবে। দিনমজুর আঃ রহিম অনেক কষ্টে টাকা সংগ্রহ করে মালেক মেম্বারের কাছে দেয়। কিছুদিন পর মালেক মেম্বার ও গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) কেতাব আলী একত্রে আঃ রহিমের বাড়িতে গিয়ে টিনশেট বিল্ডিং দেয়ার কথা বলে আরো ৪০ হাজার টাকা দাবি করে।

আঃ রহিম দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বলেন আমি দিনমজুরি কাজ করি এতো টাকা কোথায় পাবো? তখন মালেক মেম্বার ধমক দিয়ে বলেন ঘরের দাম ৩ লক্ষ টাকা কোথায় পাবি আমরা কি জানি তুই যেভাবে পারো যোগাড় কর নইলে অই ১০ হাজার আর ফেরত পাবিনা। নিরুপায় হয়ে আঃরহিম বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ধার দেনা করে চৌকিদার কেতাব আলী মাধ্যমে মেম্বারের কাছে দেন।

এখন আঃ রহিম ২১ টি পিলার নির্মিত টিনের ঘর পেয়েছে তার মুল্য ৫০ হাজার টাকার কম বলে ধারণা করছে এলাকা বাসী। একই এলাকার বারেক এর পুত্র আলমগীর এর কাছ থেকে একটি ঘর দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে বলেও জানাগেছে।

ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক প্রধানমন্ত্রীর দরিদ্রদের জন্য ঈদের বকশিস ২৫০০ টাকার নামের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কয়েকজনের কাছ থেকে ৫০০ এবং ১ হাজার করে টাকা নিয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ব্যক্তি। 

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক মুঠোফানে জানান, স্থানীয়ভাবে আঃ রহিমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছিলো, যার জন্য সে অভিযোগ দিয়েছিলো। পরে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন’র মধ্যস্থতায় সমাধান হয়েছে। আলমগীরের কাছ থেকে ২০হাজার টাকা এবং দরিদ্রদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ব্যাপারে তিনি জানান, স্থানীয় রাজনীতির প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছি। তারা আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক। 

এলাকার সচেতন মহল নলছিটি উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার রূম্পা সিকদারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং দুর্নীতিবাজ মালেক মেম্বার ও সহযোগী কেতাব আলী চকিদারের শাস্তি দাবি করছেন।