Opu Hasnat

আজ ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ২০২০,

নিয়ম লঙ্ঘন করে ‘সওজ’র টেন্ডারের অভিযোগ, ঠিকাদারদের ক্ষোভ সুনামগঞ্জ

নিয়ম লঙ্ঘন করে ‘সওজ’র টেন্ডারের অভিযোগ, ঠিকাদারদের  ক্ষোভ

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই দরপত্রটি আহবান করে জোন সিলেটের অধীনস্থ করোনাকালীন সময়ে বিশাল একটি রাস্তার দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এই কাজটি সুনামগঞ্জ থেকে শাল্লা-জলসুকা হয়ে হবিগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য। এই কাজের দরপত্র আহবানের শেষ তারিখ হিসেবে দেখানো হয়েছে ১ জুন ২০২০। যদিও দুইমাস আগে দরপত্রটি আহবান করা হয় বলে জানান সওজ সিলেটের কতৃপক্ষ।

এদিকে, দরপত্র আহবানের দিন থেকে শুক্র ও শনিবার ব্যাংকগুলো ছিলো বন্ধ। সরকারি নির্দেশে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংক খোলা থাকলেও সব শাখায় পাওয়া যাচ্ছেনা ব্যাংকিং সকল সেবা। তাছাড়া, এই বিষয়ে ওয়েবসাইটেও নেই কোনো সঠিক তথ্য। ই-টেন্ডারের নিয়ম থাকলেও এই কাজের বিপরীতে ওয়েব সাইটে  ই-টেন্ডার প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ঠিকাদারদের।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক টিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে দরপত্রের সময় বৃদ্ধির সুপারিশ জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব  নজরুল ইসলাম বরাবরে একটি আবেদন করেছেন এফবিসিসিআই’র মহাসচিব হোসাইন জামিল।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে আবেদন জানিয়েছেন রাজধানীর বৃহৎ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শুভ নিকেতনী বিল্ডার্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জালাল আহমেদ চৌধুরীও। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে লিখিত আবেদনপত্রে দরপত্র আইডি নম্বর ৪১৪৭৪৭, ৪১৪৭৪৪, ৪১৩৩৫২, ৪১৩৩৫১ ও ৪১৩৩৫০ দাখিলের মেয়াদ বর্ধিতকরণ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই’র মহাসচিব হোসাইন জামিল উল্লেখ করেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারনে গত ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখ হতে আগামী ৩০ মে ২০২০ তারিখ পর্যন্ত সরকারি ঘোষিত সাধারন ছুটি চলমান।এরমধ্যে আপনার মন্ত্রণালয়ের অধীনে রোড জোন সিলেট এর ঘোষিত দরপত্র আহবানের শেষ তারিখ ১ লা জুন ২০২০। যেহেতু অতীব প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ব্যতিত সকল প্রতিষ্ঠান সরকার কর্তৃক বন্ধ ঘোষণা করা হয়, সেহেতু উক্ত দরপত্রে গ্রহনযোগ্য এবং প্রতিযোগিতা মূলক অংশগ্রহনের যথেষ্ঠ অভাব প্রতিয়মান। তাছাড়া উল্লেখিত দরপত্রসমূহের সঠিক তথ্যাদি আপনাদের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েব সাইটে সঠিক ভাবে উল্লেখ নাই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত দরপত্রসমূহের সঠিক ও গ্রহনযোগ্য অংশগ্রহনের লক্ষে সময়সীমা বৃদ্ধিকরন এবং পরিপূর্ন তথ্যাদী ওয়েব সাইটে প্রচারের বিষয়ে আপনার সহযোগিতাএকান্তভাবে কামনা করছি।

মেসার্স নিকেতনী বিল্ডার্স এর আবেদন পত্রে বলা হয় যেহেতু কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা বিঘ্নিত, সেই অবস্থায় ৪১৪৭৪৭, ৪১৪৭৪৪, ৪১৩৩৫২, ৪১৩৩৫১ও ৪১৩৩৫০ দরপত্রে অংশ গ্রহণের সময়সীমা কমপক্ষে আরো ১৫ দিন বাড়িতে দেওয়া হলে সেখানে মানসম্মত এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা করার সুযোগ পেতো। আবেদনে বলা হয়, এখনও স্বাভাবিক হয়নি মানুষের জীবনযাত্রা । জনবল সঙ্কট, স্বাস্থ ব্যবস্থার সঙ্কট, নিরাপত্তা ও আর্থিক সঙ্কটের কবলে অনেক প্রতিষ্ঠান। সবস্থানে এখনও স্বাভাবিক হয়নি ব্যাংকিং কার্যক্রম। সরকারি ছুটি প্রায় ৬৫ দিন শেষ করায় অনেকেই এই সময়ে কাগজপত্র যথাযথভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ বঞ্চিত হয়েছে। এই অবস্থায় ঘোষিত দরপত্র কোনোরকম প্রতিযোগীতা ছাড়াই সম্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ৪১৪৭৪৭, ৪১৪৭৪৪, ৪১৩৩৫২, ৪১৩৩৫১ ও ৪১৩৩৫০ দরপত্র আরো ১৫ দিন বাড়ানোর জন্য আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া ও ৪১৪৭৪৭, ৪১৪৭৪৪, ৪১৩৩৫২ এর সঠিক কোনো তথ্য নেই এবং ৪১৩৩৫১ ও ৪১৩৩৫০ দরপত্র হালনাগাদ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসিসটেন্ট চিপ ইঞ্জিনিয়ার (সিলেট জোন) তুষার কান্তি সাহা বলেন, দরপত্র আহবানকে যারা নতুন বলতে চান-তাঁরা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এই কাজের টেন্ডার দু’মাস আগের এবং যথারীতি ই-টেন্ডারও হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো বাহানা খুঁজে লাভ নেই ২ জুন দরপত্র আহবানের শেষ তারিখ বলে গণ্য হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তা পরিবর্তন যোগ্য নয়। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর