Opu Hasnat

আজ ৮ জুলাই বুধবার ২০২০,

লোহাগড়ায় কুয়েত প্রবাসীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মামলা নড়াইল

লোহাগড়ায় কুয়েত প্রবাসীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মামলা

নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রবাসীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গুরুতর আহত প্রবাসী আমিনুর ফকির (৪০) কে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমিনুর লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের চর-দৌলতপুর গ্রামের নওশের ফকিরের ছেলে। 

আহত আমিনুরের পিতা নওশের ফকির বাদী হয়ে শনিবার (৩০ মে) বিকালে ছেলে কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে ১৫জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এলাকাবাসি ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের চর-দৌলতপুর গ্রামের নওশের ফকিরের ছেলে আমিনুর ফকির (৪০) কুয়েত থাকেন। চর-দৌলতপুর গ্রামের মৃত জয়নাল মোল্যার ছেলে সোহেল মোল্যা তার আপন ভায়রাভাই। বিদেশ থেকে আমিনুর ভায়রাভাই সোহেলের নিকট ১৮ লক্ষ টাকা পাঠান। সেই পাওনা ১৮লক্ষ টাকা চাইতে গেলে সোহেল মোল্যা টাকা দিতে অস্বীকার করে এবং আমিনুর ফকিরকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার (২৯ মে) বিকালে সোহেল মোল্যা লোকজন নিয়ে আমিনুরের উপর হামলা চালায়। আমিনুর গ্রামের বাড়ি চর-দৌলতপুর থেকে লোহাগড়া উপজেলা শহরের মদিনাপাড়াস্থ বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে চর-দৌলতপুর বাজারের কামাল মীরের দোকানের সামনে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে সন্ত্রাসী সোহেল মোল্যার নেতৃত্বে একই গ্রামের কুটি মিয়ার ছেলে চুন্নু মোল্যা ও তার ভাই বিদ্যুত মোল্যা, মৃত ওয়াদুদ মোল্যার ছেলে মুরাদ ও তার ভাই মনোয়ার মোল্যা, কুদ্দুস মোল্যার ছেলে সাদ্দাম মোল্যা, গোলাম মোল্যার ছেলে সৌরভ ও তার ভাই সোহান মোল্যা, মালেক মোল্যার ছেলে হাবি মোল্যা, আফছার মোল্যার ছেলে হৃদয় মোল্যা, সাবু মোল্যার ছেলে হাফিজ মোল্যা, হিরু মোল্যার ছেলে সুমন মোল্যা, মিঠু মোল্যার ছেলে সজিব মোল্যা, মোছলেম মোল্যার ছেলে লালন মোল্যা ও লুৎফর মোল্যার ছেলে প্রিন্স মোল্যাসহ ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী তার মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। এরপর সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র চাপাতি, রাম দা, ছ্যান দা, হাতুড়ি, লোহার রড ও বাশেঁর লাঠি দিয়ে আমিনুরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় আমিনুরের দুই হাত ও দুই পা ভেঙ্গে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থান ধারালো অস্ত্রের কোপে ক্ষত বিক্ষত হয়। স্থানীয়রা মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। 

এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় আহতের পিতা নওশের ফকির বাদী হয়ে সোহেল মোল্যাকে প্রধান আসামি করে ১৫জনের নামে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। 

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান এজাহার পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।