Opu Hasnat

আজ ৩ জুলাই শুক্রবার ২০২০,

গাইবান্ধায় মধ্যরাতে হাসপাতালে ভাঙচুর, পুলিশ কনস্টেবল আটক গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় মধ্যরাতে হাসপাতালে ভাঙচুর, পুলিশ কনস্টেবল আটক

এল.এন.শাহী, গাইবান্ধা থেকে : মধ্যরাতে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে পিবিআইয়ের এক পুলিশ কনস্টেবল। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ করলে বুধবার (২৭ মে) সকালে তাকে আটক করে পুলিশ।

জানা গেছে, হাসপাতালটির বিছানা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, জানালার গ্লাস থেকে শুরু করে জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করেন তিনি। এছাড়া হাসপাতালের সামনে পার্কিং করে রাখা ৬টি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করেছে ওই পুলিশ কনস্টেবল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায, মঙ্গলবার রাতে মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গভীর রাতে কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহারের পর হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় পিবিআইয়ের কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম। এ সময় চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা ভয়ে পালিয়ে যায়।

সাইফুলের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে। তিনি ঢাকায় পিবিআইয়ের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। শ্বশুর বাড়ি গাইবান্ধার বোনারপাড়া থেকে তার হাত পা বেঁধে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, আমার মাথায় মনে হয় সমস্যা ছিল। তবে এখন আমি সুস্থ। আমি যখন জ্ঞান ফিরে দেখলাম আমার হাত পা বাঁধা, তখন আমি ঠিক থাকতে পারি নাই। দেখলাম কয়েকজন আমাকে বাধা দিচ্ছিলেন, আমি আত্মরক্ষার্থে সেখান থেকে বের হই। পরে রাগান্বিত হয়ে সদর হাসপাতালের সাত, আটটি জানালা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ভাঙচুর করি। এছাড়া রড দিয়ে চার,পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সের কাঁচ ভেঙে দেই।

কেন এত ভাঙচুর করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন অর রশিদ জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ কিনা আমার জানা নেই। তবে ওই ব্যক্তি ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে হাসপাতালের মূল্যবান জিনিসের ক্ষতি করে। এ ব্যাপারে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

পিবিআই গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হাই সরকার জানান, ঢাকার রামপুরার পিবিআই অফিসে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর