Opu Hasnat

আজ ১ জুন সোমবার ২০২০,

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট : ফেরিতে মানুষের ঢল রাজবাড়ী

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট : ফেরিতে মানুষের ঢল

প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছে মানুষ। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে দেশের গুরুত্বপূর্ন নৌরুট দৌলতদিয়া পাটুরিয়ায়। শনিবার সকাল থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেরে আসা প্রতিটি ফেরিতে ছিলো হাজার হাজার যাত্রী।

ছিলো ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও। শুধু চোখে পরেনি স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা। কোন প্রকার নিয়মের তোয়াক্কা না করেই একেবারে গাদাগাদি করে শরীরের সাথে শরির মিশিয়ে পার হচ্ছে মানুষ।

শনিবার সকালে দৌলতঘাটে সরেজমিনে দেখা যায় বাড়ি ফেরা মানুষের অবর্ননীয় দূর্ভোগ। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় দক্ষিনাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ পরেছে বিপাকে। মানুষ কয়েকগুন বেশি ভারা দিয়ে ব্যটারি চালিত অটো রিকশা, মাহেন্দ্র, মোটর সাইকেল, মাইক্রোবাস ও ট্রাকের ছাদে দারিয়ে পৌচাচ্ছে বাড়ি। প্রচন্ড রোদে তাপে দিশেহারা হয়ে পরছে শিশু ও বয়স্করা। 

এ সময় ঢাকা থেকে ঝিনাইদহগাামী যাত্রী উজ্জল শেখর বলেন, ঢাকার গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাটে একটি মোটর সাইকেল ভারা করে এসেছি। ভারা দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা। নদী পার হলাম ২৫ টাকা দিয়ে এরপর দৌলতদিয়া থেকে আবার এক হাজার টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল ভারা নিয়ে ঝিনাইদহ যেতে হবে। করোনার এই সময়ে ঝুকি নিয়ে কেন আসতে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামের বাড়িতে মা বাবা ভাই বোন রয়েছে। সকলের সাথে ঈদ করতেই বাড়ি যাচ্ছি। করোনার ভয় করে লাভ নেই বলেও দাবী করেন তিনি।

ঢাকা থেকে আসা ফরিদপুর জেলার নগরকান্দাগামী যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, পথে পথে ভোগান্তি আর কষ্ট নিয়ে যাচ্ছি। কারন অফিস ছুটি হয়ে গেছে। এই দশ দিন ঢাকা থেকে খাওয়া দাওয়ায় প্রচুর টাকা খরচ হবে তাই জীবনের ঝুকি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ৭ টি ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়াগামী যাত্রী ও যানবাহন একেবারেই নেই। তাই ফেরিগুলো পাটুরিয়া থেকে যাত্রী ও যানবাহন আনতে ফেরিগুলো অনেকটা খালিই চলে যাচ্ছে। ওদিক থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে আসছে। 

ফেরিতে গাদাগাদি করে পারের ব্যপারে তিনি জানান, যাত্রী পারাপারে কোন বাধা নিষেধ নেই। তাই তাদের না এনেও উপায় নেই। তাছারা স্থানীয় প্রশাসন ফেরিঘাট এলাকায় মানুষকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে কাজ করছে। কিন্তুু মানুষ কোনক্রমেই নিয়ম মানতে চায় না। কার আগে কে ফেরিতে উঠবে তার প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়।