Opu Hasnat

আজ ১৩ জুলাই সোমবার ২০২০,

অমৃতাভ দে’র দু’টি কবিতা শিল্প ও সাহিত্য

অমৃতাভ দে’র দু’টি কবিতা

ঘুড়ি

রং বেরঙের নানান ঘুড়ি                               
উড়ছে দ্যাখো এ বৈশাখে                         
একটা ঘুড়ি মেঘের মতোই
গোলাপ ফুলের আবির মাখে।

একটা ঘুড়ি নৌকো হয়ে
আকাশ নীলে ভাসতে থাকে
একটা ঘুড়ি গল্প হয়ে
নানান ভাষায় ডাকতে থাকে।

এক পৃথিবী অসুখ এখন
এক পৃথিবী মনের ব্যথা
উড়ছে ঘুড়ি, বলছে ঘুড়ি
ছোট্টবেলার কত কথা।

ওই ঘুড়িটা ফুলের মতোন                       
নক্সাকাটা পাখির পালক       
মেঘের ভেলায়, আতসবাজি             
কৃষ্ণঠাকুর রাখাল বালক। 

উড়তে উড়তে একটা ঘুড়ি                           
পৌঁছে গেল নতুন দেশে                     
সেই যেখানে কৃষ্ণঠাকুর
বাজায় বাঁশি পথের শেষে।

অসুখ তো নেই সে-পথ জুড়ে
কৃষ্ণ চূড়ার পরাগ মাখা
পথের বাঁকে দুঃখ তো নেই
সুরের নদী বইছে একা।

সুরের নদীর ছন্দ নিয়ে
উড়ল ঘুড়ি এপার-ওপার
শব্দ নিল মনের মতো
মেঘ পরীদের গল্প লেখার।

নতুন দেশে সেই ঘুড়িটাই                           
লিখল নতুন গল্পগাথা                                  
সেই ছেলেটা সুতোর টানে                           
কুড়িয়ে নিল সেসব পাতা।

কোন্ ছেলেটা? আমিই নাকি?
ভুল হয়ে যায়, চিনতে বুঝি!
আকাশ জুড়ে উড়ছে ঘুড়ি 
ঘুড়ির ভিতর গল্প খুঁজি।

ঘুড়ির ভিতর গল্প লেখা
কাব্য লেখা এক পৃথিবী
রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে মেয়ে
বলল ডেকে, ‘সঙ্গে নিবি?’

এক পৃথিবী অসুখ এখন
এক পৃথিবী  মনের ব্যথা   
উড়ছে ঘুড়ি, বলছে ঘুড়ি
তোমার কথা, আমার কথা।

*******************

গৃহবন্দি

ঘরবন্দী মন যে বলে,
‘সাদা পাতায় আঁকো’
পলাশ রাঙা লাল মাটিতে
গল্পগুলো রাখো।

নদীর ধারে ছবির মতো
ছোট্ট বেলার গ্রাম
দুপুর বেলা সেই পাখিটা
ডাকছে প্রিয় নাম।

নৌকো বাঁধা আজ‌ও আছে
ডুলুং নদী তীরে
পুতুল মেয়ে আমায় শুধু 
থাকবে ঘিরে ঘিরে।

পথ গিয়েছে দূরের দেশে
সন্ধে নেমে আসে
ঘরবন্দী মন যে আমায়
বড্ড ভালোবাসে।

মন বললো সাদা পাতায়
‘সেই ছবিটা আঁকো’
পাহাড়ঘেরা মেঘের বাড়ি
চূর্ণী নদীর বাঁক‌ও

আঁকছি আমি এসব ছবি 
ঘরবন্দী মনে
দুঃখগুলো হারিয়ে গেল
কৃষ্ণচূড়ার বনে।

বনের পথে ওই শোনা যায়
বাঁচার অভিলাষ
কাজ হারানো মানুষগুলো
হাঁটছে বারো মাস।

হাঁটতে থাকি ওদের সাথে
নেই তো পথের শেষ
ঘরবন্দী মন যে বলে
ওরাই তোমার দেশ।

 

কথার ঘর, শিবতলা লেন, ঘূর্ণি, কৃষ্ণনগর, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত - ৭৪১১০৩