Opu Hasnat

আজ ২৬ মে মঙ্গলবার ২০২০,

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী বহন! মুন্সিগঞ্জ

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী বহন!

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মাওয়াসহ দক্ষীনাঞ্চলগামী শতশত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার পুলিশের বাঁধায় ঘুরিয়ে দেওয়া হলেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে গাড়ীগুলো মাওয়ার দিকে ছুটছেই। তার পরেও পণ্যবাহী ট্রাকে ও মোটর সাইকেলে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে দিনব্যাপী এমনই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রীনগর থানার এসআই মনিষ ও এসআই আশিকের নেতৃত্বে এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ী ও বেজগাঁও এলাকায় আলাদাভাবে দুইটি চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের শক্ত অবস্থানের ফলে ভাড়ায় চালিত শত শত মোটর সাইকেল ও প্রাইভেটকার ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ আইন অমান্য করে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে গাড়ীগুলো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লিংক রোড ব্যবহার করে যাচ্ছে। 

দেখা যায় ষোলঘর বাজার রোড, শ্রীনগর উপজেলার চক বাজার-ঝুমুর হল রোড, আটপাড়া-কল্লিগাঁও রোড, বাড়ৈগাঁও-পাটাভোগ-বেজগাঁও রোড, কুকুটিয়া-নাগের হাট রোড, টুনিয়ামান্দ্রা-ঝাপুটিয়া রোড গুলো ব্যবহার করে যানবাহন গুলো মাওয়া দিকে চলছে। 

ছোট ছোট ট্রাক ও মোটর সাইকেলে করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শতশত নারী-পুরুষসহ শিশুদেরও উঠানো হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাকে গাদাগাদি করে প্রায় ২৫-৩০ জন করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। চালক ও শিশুসহ আরোহী কোনও কোনও মোটরসাইকেলে ৪/৫ জন করেও নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে দ্রুত গতিতে এসব বাইকগুলো ছুটছে মাওয়ার দিকে। 

এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশের উপস্থিতি থাকার কারণে গাড়ীর চালকরা গ্রামের ভিতর দিয়ে রাস্তা ঘুরে মাওয়া যাচ্ছেন। শুধু মোটর সাইকেল বা ট্রাকে করে নয়। ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সায়ও অনেক যাত্রীকে যেতে দেখা গেছে। 

স্থানীয়রা জানায়, এভাবে গাদাগাদি করে যাত্রী চলাচলে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার লক্ষণ থেকেই যাচ্ছে। মানা হচ্ছেনা সামাকিজ দূরুত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি। এছাড়াও শতশত যাত্রী কোনও যারবাহন না পেয়ে হেঁটেই মাওয়া ফেরী ঘাটের দিকে যাচ্ছেন। 

এসময় কয়েকজন পথচারী বলেন, কি করবো এই পর্যন্ত ভেঙে ভেঙে এসেছি। বাড়িতে যেতেই হবে। তাই সময় নষ্ট না করে হেঁটেই যাত্রা করছি। শ্রীনগর থেকে মাওয়ার দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান ঢাকায় ফিরাও সম্ভবনা। তাই বাধ্য হয়েই যাচ্ছি। দ্রুত ফেরি ধরতে হবে। 

শ্রীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিষ জানান, সকাল থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৫’শতাধিক বিভিন্ন যানবাহন বুঝিয়ে সুজিয়ে ঢাকার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছি। তারপরেও দেখেন কত গাড়ী আসছে। করোনা মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য ডিউটি করছি। অথচ তাদের দেখে মনে হচ্ছে করোনার প্রভাব তাদের মধ্যে কোনও প্রকার প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। এসময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এর পরেও যানবাহন গুলো বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে মাওয়ার দিকে ছুটছে। কি করবো? মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতার লেশ মাত্র নেই। এমন অবস্থায় কিভাবে আমার দেশটা করোনা মুক্ত হবে।