Opu Hasnat

আজ ৫ জুন শুক্রবার ২০২০,

সনৎ বসু’র অণুগল্প ‘লকডাউন’ শিল্প ও সাহিত্য

সনৎ বসু’র অণুগল্প ‘লকডাউন’

দুপুর দেড়টা। বৈশাখের জ্বলন্ত দুপুর। টোটোতে সবজি নিয়ে পাড়ায় ঢুকেছে বিধান চ্যাটার্জি। এস এস সির পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েও সিলেক্ট লিস্টে নাম ওঠেনি।

 চার বছর ধরে অবস্থান, ডেপুটেশন, মন্ত্রীর আশ্বাস, পুলিশের লাঠি। কাজ হয়নি।

      হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার শেষ মুহূর্তে পরিযায়ী শ্রমিক দাদার  টাকায় এই টোটো।

বাঁচার নতুন পথটা যখন সবে মাত্র উঁকি দিচ্ছে  তখনই হঠাৎ এই লকডাউন। মানুষ বাঁচানোর অনিবার্য  উপায়।

     তাতেও রক্ষা নেই। দেশে দেশে লোক মরছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, ইটালি ফ্রান্স, জার্মানী। সব উন্নত দেশ। ভারত কি বাঁচবে।

       মাস্কে নাক ঢেকে রাস্তা থেকে বিধানের হাঁক সবজি।
দোতলা থেকে দড়ি বেয়ে নেমে আসে টাকাশুদ্ধ ব্যাগ।

      এভাবেই পঞ্চাশ দিন পার। আর কি বাড়বে।
     ছোটভাই কলেজের সেকেন্ড ইয়ার। দাদাকে সাহায্য করতে সেও নেমেছে রাস্তায়।

মা একাশি। গুরুতর অসুস্থ। ওষুধ ডাক্তার কিছুই মিলছে না। কি করে বাঁচবে।
     দু’দিন পর ভোর রাতে শ্বাস উঠল। অ্যাম্বুলেন্স ছুটল হাসপাতাল। দু-দিনেই শেষ। মৃত্যুর পর কভিড টেস্ট। রেজাল্ট পজিটিভ।

দু-জনে সেলফ কোয়ারিন্টিনে। বারান্দায় টোটোয় তালা, গলির মুখে পুলিশ।

পৌরসভার বাছাই কর্মীদের জিম্মায় মা-র নিথর দেহ। ধাপার মাঠে সৎকার।

   প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী — সবাই পথ খুঁজছেন।
লকডাউন থেকে বেরোবার পথ।