Opu Hasnat

আজ ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ২০২০,

নির্দেশিকার সাহায্যে সহজেই পরিষ্কার করুন ওয়াশিং মেশিন লাইফ স্টাইল

নির্দেশিকার সাহায্যে সহজেই পরিষ্কার করুন ওয়াশিং মেশিন

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯, ধারণ করেছে বৈশ্বিক মহামারির রূপ। এখন পর্যন্ত, বিশ্বের ৪৫ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, এখনও আবিষ্কৃত হয়নি কোনো প্রতিষোধক। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, করোনাভাইরাস মারাত্মক ছোঁয়াচে ধরনের রোগ, যা দ্রুত বিস্তারে সক্ষম। তাই, এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নিরাপদে বাসায় অবস্থান করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা খুবই জরুরি। এর পাশাপাশি, এ সময় পরিষ্কার কাপড় পরাও জরুরি; কেননা পরিধেয় কাপড়ও ভাইরাস বহন করতে পারে। 

বিভিন্ন ধরনের ফাইবারের কারণে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন দিন পর্যন্ত কাপড়ে করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে। তাই, বাইরে থেকে আসার পরপরই কিংবা করোনার সংক্রমণ ঘটতে পারে এমন জায়গা থেকে আসার সাথে সাথে কাপড় ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে, কাপড় ধোয়ার সহজ উপায় হতে পারে ওয়াশিং মেশিন। কেননা, হাতের তেমন কোনো স্পর্শ ছাড়াই ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া যায়। কাপড়ে জীবাণু ও অণুজীব নিষ্ক্রিয় করতে কার্যকারিতার কারণে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গরম পানি, ব্লিচযুক্ত ডিটারজেন্ট এবং ড্রায়ার ব্যবহারেরও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ কারণেই, কেউ যদি জরুরি প্রয়োজনে বাসার বাইরে যায় অথবা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর দেখভালের জন্য নিয়োজিত থাকেন, সেক্ষেত্রে প্রতিবার ব্যবহারের পর পরিধেয় কাপড় ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিং মেশিন বেশ কার্যকরী ইলেক্ট্রনিকস যন্ত্র। কেননা, হাতের তেমন কোনো স্পর্শ ছাড়াই ওয়াশিং মেশিনে সহজে কাপড় ধোয়া যায়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গরম পানি, ব্লিচ যুক্ত ডিটারজেন্ট ও ড্রায়ার খুব সহজেই জীবাণু নিষ্ক্রিয় করতে পারে। 

ইতিমধ্যেই, দেশে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়েছে। গ্রীষ্মের দিনগুলি উষ্ণ ও শুষ্ক। তাই, এ সময় আমাদের শরীরের ঘামের সৃষ্টি হবে ফলে, স্বাভাবিকভাবেই এ সময় ময়লা কাপড়ের সংখ্যা বেড়ে যাবে। এর চাপ পড়বে ওয়াশিং মেশিনের ওপর। অনেক সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে থাকা ইনলেট ফিল্টারসহ ছোট পার্টিকেল ও পানি প্রবাহিত হওয়ার মিনারেল ডিপোজিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই, প্রয়োজনীয় পানির সরবরাহ ব্যাহত হলে ওয়াশিং মেশিনের পারফরম্যান্সের ওপর এর প্রভাব পড়বে। লকডাউনের কারণে দেশব্যাপী সকল সার্ভিস সেন্টারগুলোও বন্ধ রয়েছে। তবে, চিন্তার কোন কারণ নেই! খুব সহজে ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে থাকা ইনলেট ফিল্টার পরিষ্কারের জন্য স্যামসাং বাংলাদেশ কিছু নির্দেশিকা দিয়েছে। এই ধাপগুলো অনুসরণ করে যে কেউ ইনলেট ফিল্টার পরিষ্কার করতে পারবেন। 

ধাপ ১- ইনলেট ফিল্টারের অবস্থান 
ওয়াশিং মেশিনের পেছনের দিকে সাধারণত ইনলেট মেশ ফিল্টার থাকে। ফিল্টারটিকে খুলতে প্রথমে ট্যাপ বন্ধ করুন, তারপর উল্টো দিকে ( ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে) ইনলেট হোসটি ঘুরান।

ধাপ ২- ফিল্টারটিকে খুলে ফেলুন 
অনেক সময় খালি হাতে খুব সহজেই ফিল্টারটিকে খুলে ফেলে যায়। কিন্তু, ফিল্টারটি যদি ভেতরে আটকে থাকে, তখন ফিল্টারটি খুলতে টুল বা যন্ত্র (প্লায়ার) ব্যবহার করতে পারেন। 

ধাপ ৩- ফিল্টারটি পরিষ্কার করুন
যে কোনো বিষাক্ত কিংবা দূষণ সৃষ্টিকারী বস্তু দূর করতে ফিল্টারটিকে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ফিল্টারটি পরিষ্কারের জন্য অব্যবহৃত ব্রাশ (যেটা দিয়ে ফিল্টারটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা যাবে) ব্যবহার করতে পারেন। 

ধাপ ৪- ফিল্টারটি পুনঃসংযোজন করুন
পরিষ্কার শেষে ফিল্টারটিকে জায়গামতো পুনঃসংযোজন করুন। পানির হোস পাইপটি ঠিকমতো শক্ত করে বাঁধুন। অন্যথায়, হোস পাইপ ছিদ্র হয়ে পানি নির্গত হতে পারে এবং দুর্ঘটনার ঘটতে পারে।

ধাপ ৫- ওয়াশার পরীক্ষা করে দেখুন
শেষ ধাপে এসে, ট্যাপটি খুলুন এবং পানির প্রবাহ দেখার জন্য ওয়াশিং মেশিনটিকে চালু করুন। আপনি, নিশ্চিতভাবে দেখতে পাবেন যে, ওয়াশিং মেশিনের পানির প্রবাহ বেড়েছে এবং আপনি বাধাহীনভাবে কাপড় ধুতে পারবেন।
 
নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ : প্রথমে ওয়াশিং মেশিনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিতে হবে। এটা আপনার বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি কমাবে। যেকোনো ধরনের জীবাণু থেকে সুরক্ষিত থাকতে পুরো পরিষ্কার প্রক্রিয়ায় গ্লাভস ব্যবহার করুন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, স্যামসাং সার্ভিস টিমের সদস্যরা ক্রেতাদের বাসায় গিয়ে সেবা দিতে পারছে না, তাই, ওয়াশিং মেশিনের কর্মদক্ষতা বাড়াতে প্রতি দু’সপ্তাহে একবার ইনলেট ফিল্টার পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছে স্যামসাং। লকডাউন শেষ হলে খুব শিগগিরই স্যামসাংয়ের দক্ষ কারিগররা ক্রেতাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে।

যে কোনো ধরনের তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন এই নম্বরে : ০৮০০০-৩০০-৩০০ (টোল ফ্রি)