Opu Hasnat

আজ ৫ জুন শুক্রবার ২০২০,

সৈয়দপুরে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা, মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব! নীলফামারী

সৈয়দপুরে জমজমাট ঈদের কেনাকাটা, মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব!

কেনাকাটায় করোনার প্রভাব যেনো বিন্দুমাত্র নেই নীলফামারীর সৈয়দপুর ঈদের বাজারে। কেনাকাটায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরুত্ব আর নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। ফলে এখানে পুরোদমে জমেছে ঈদের কেনাকাটা। 

বাজারে যেমন হাটা মুশকিল তেমনি দোকানে দোকানে ক্রেতার উপচেপড়া ভিড়। যেনো কারোর মনে নেই করোনার ভয়। মানা হচ্ছে না কোন সরকারি নির্দেশনা। তবে বাজারে ভিড় আর জমজমাট কেনাকাটা হলেও ক্রেতারা খুঁজছেন কমদামে ভালো পোশাক। করোনার বিরুপ প্রভাব আর লকডাউনে টাকার ঘাটতি মেটাতেই কম দামেই পোশাক কিনে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষদের।

শনিবার (১৬ মে) সৈয়দপুরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সৈয়দপুর সুপার মার্কেট,  নিউ ক্লথ মার্কেট, সৈয়দপুর প্লাজা ও শিল্প সাহিত্য সংসদ মার্কেটের বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের জটলা। করোনার বিরুপ প্রভাবে আর্থিক মন্দায় বেশিভাগ ক্রেতারা খুঁজছেন কমদামে ভালো পোশাক। তাই এবার ভারতীয় সিরিয়াল কিংবা মুভির নামে নামকরা পোশাকগুলোর উপস্থিতি নেই বাজারে। এজন্য এবার বাজারে ইন্ডিয়ান কিংবা পাকিস্তানী কাপড়ের স্থলে বেশি বিক্রি হচ্ছে দেশি সুতি কাপড়গুলো। বিভিন্ন বিপনি বিতানগুলোতে সকাল ৬ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলছে জমজমাট কেনাকাটা। 

নিউ সুপার মার্কেটের বাগদাদ ক্লথ স্টোরের সামদানী জানান, মাস্ক ছাড়া এবং বাচ্চাকে নিয়ে আসা ক্রেতাদের দোকানে না আসতে বারণ করছি আমরা। গতবারের ন্যায় এবারো কেনাকাটা বেশ ভালো চলছে। তবে মধ্যম ও নিম্নশ্রেণির ক্রেতারা কমদামে কাপড় খুজছেন। সানডে, বলিউড, আলিফ গোল্ড নামের দেশি থ্রিপিসগুলো এবার ভালো বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ থেকে ৭০০ এর মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এসব থ্রিপিস। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর্থিক মন্দা আর গরমকাল থাকার কারনে কম দামে দেশি সুতি থ্রিপিসগুলোই পছন্দ আর বিক্রির শীর্ষে রয়েছে।

মেয়েদের জন্য কাপড় কিনতে চম্পাতলী থেকে এসেছিলেন রেহানা ইয়াসমিন। তিনি জানান, করোনার কারনে আয় রোজগার তেমন নেই। তবে ঈদতো করতেই হবে। তাই মেয়ে দুটির জন্য কম দামের হলেও পোশাক নিতে এসেছি। ১৭শ টাকায় দুটি দেশি সুতি থ্রিপিস নিয়েছি। করোনার প্রভাব না থাকলে হয়তো মেয়ে দুটিকে আরো উন্নত মানের কাপড় কিনে দিতে পারতাম বলে জানান তিনি। কাশিরাম বেলপুকুর  থেকে আসা ক্রেতা আয়েশা তার ছোট ছেলের জন্য নিয়েছেন শার্ট প্যান্ট। তিনি জানান, ঈদের নতুন জামার বায়না ধরেছিল বাচ্চাটি। তবে করোনার জন্য তেমন কিছু কিনে দিতে পারিনি। কম দামে শার্ট প্যান্ট কিনে দিলেও সেন্ডেল জুতা এখনো কিনতে পারিনি।

সৈয়দপুর নিউ ক্লথ মার্কেটের থ্যাঙ্কস ক্লথ স্টোর, মিলন ক্লথ স্টোর, আলহাজ্ব ক্লথ স্টোর, সৈয়দপুর প্লাজার পিন্ধন, দর্শিনী, নিলম্বরী, হোয়াইট হাউজ, সাউদি ফ্যাশন, সৈয়দপুর নিউ সুপার মার্কেটের বাগদাদ ক্লথ স্টোর, কোহিনুর ক্লথ স্টোর, আসফাক ক্লথ স্টোর, সাজু ক্লথ স্টোর সহ বিভিন্ন বিপনী বিতানগুলোতে দেশি কাপড়ই শোভা পাচ্ছে। 

তবে ফুটপাতে দোকানগুলোতে নিম্নবিত্বদের প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। কাপড় মার্কেটে শিশু ও মেয়ের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন সমসের আলী। তিনি বলেন, আমাদের দোকানের ভাড়া তেমন দিতে হয় না তাই আমরা অনেক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারি। এ বছর প্রচুর ক্রেতা আসছেন এখানে। ভিড় দেখে মনে হচ্ছে এ বছর ফুটপাতে রেকর্ড পরিমান বিক্রি হবে। এসব দোকানে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, জিনস প্যান্ট ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, টি-শার্ট ১৫০ থেকে ২৫০, মেয়েদের থ্রি-পিস ৪৫০ থেকে ১২০০, শিশুদের থ্রি-কোয়ার্টার জিনস প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৫০০, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৫০০, এবং ছেলে ও মেয়ে শিশুদের কাপড় ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়।

এদিকে এবার টাঙ্গাইল শাড়ি ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা, জর্জেট ১২০০ থেকে ২১০০ টাকা, সিল্ক শাড়ি দেড় হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।