Opu Hasnat

আজ ৩ জুন বুধবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

লোহাগড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ নড়াইল

লোহাগড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ

নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বর রবিউল ইসলাম পরস্পর যোগসাজসে ১৪ মাসে প্রায় ২৪ মেট্রিকটন ভিজিডি চাল আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ। তারা ভূয়া নাম ঠিকানা ও একই নাম একাধিকবার ব্যবহার করে ৫৭টি কার্ডের বিপরীতে এই বিপুল পরিমান চাল আত্মসাৎ করেন। বিগত ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এ ভিজিডি চাল বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়। 

লোহাগড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত ক্রমিকের ১৫৩, ১৭০, ১৭৩, ১৭৪ ও ৮৪ নং সহ ৫৭টি কার্ডের বিপরীতে প্রতি মাসে বরাদ্দকৃত ১৭১০ কেজি করে ১৪ মাসে প্রায় ২৪ মেট্রিকটন চাল বিভিন্ন ভুয়া নামে তুলে আত্মসাত করা হয়েছে। তালিকায় নাম আছে অথচ চাল থেকে বঞ্চিত ঈশানগাতী গ্রামের খিজির শেখের মেয়ে জলি বেগম জানান, ১৩ বছর আগে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাঁচই গ্রামে হাবিবুর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়েছে। তার ৮ ও ১০ বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। জলি স্বামী-সন্তান নিয়ে লোহাগড়ার পোদ্দার পাড়ায় থাকেন। তার নামে ভিজিডি’র কার্ড আছে তা তিনি জানেন না। একই গ্রামের  মিজানুর রহমানের মেয়ে আদরী খানম জানান, ৪ বছর আগে মল্লিকপুর ইউনিয়নের আলমগীর হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়েছে। তার নামে ভিজিডি’র কার্ড করে চাল উত্তোলনের কথা শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। বসুপটি গ্রামের মুকুল হোসেনের স্ত্রী আন্না বেগম আদৌ জানেন না তার নামে ভিজিডি চালের কার্ড আছে। আর সেই কার্ডে চাল উত্তোলন করা হয়। 

গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে ভিজিবি’র চাল আত্মসাতের ব্যাপারে খবর নিলে এলাকার মানুষজনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চাল আত্মসাতের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেন চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। যাদের নামে কার্ড করে চাল আত্মসাৎ করেছেন গ্রাম পুলিশ দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে ক্ষমা চান। আত্মসাতকৃত চাল ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কার্ড হারিয়ে গেছে মর্র্মে থানায় জিডি করান। এরপর গত ৩ মে তাদের কিছু চাল দেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বর রবিউল ইসলামের মুঠোফোন (০১৭০৫ ৩৩৭৫৯৬) একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভিজিডি তালিকা প্রণয়ন করে উক্ত কার্ড সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বরদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়ে থাকে। চারজনের কার্ড হারিয়ে ফেলায় সমস্যা হয়েছিল। থানায় জিডি করে তাদের নামে নতুন কার্ড ইস্যু করার পর তাদের ৪ জনের ১৪ মাসে পাওনা ৫৬ বস্তা চাল প্রদান করা হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি। 

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী রাণী মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কৃমার মৈত্র বলেন, করোনাকালে এহেন ঘটনা দুঃখজনক। এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন এলাকাবাসি নিরোপেক্ষ তদন্ত পূর্বক দোষিদের বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরনের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সঠিক তদন্ত হলে চাল আত্মসাতের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে তাদের ধারনা।