Opu Hasnat

আজ ২৬ মে মঙ্গলবার ২০২০,

মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান তুহিন খুলনা

মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান তুহিন

মানব সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন। তিনি প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার, ইয়ার ফোন প্রদান, অন্ধদের চিকিৎসাসহ অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি মানব সেবায় বিশেষ করে প্রতিবন্ধীদের সেবা করতে পারলে তার মনটা না কি খুবই ভালো লাগে। 

২৭ শে ফেব্রুয়ারী লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রতিবন্ধী ১৯ বছরের একটি ছেলেকে দেখতে পাই। তখন লোক দিয়ে ওই ছেলেটিকে ডেকে তার নাম পরিচয় জানতে চায় কিন্তু সে কিছুই বলতে পারে না। চেয়ারম্যান তুহিন তাৎক্ষনিক জনৈক মান্নান মিস্ত্রী ও আব্দুল আজিজের তত্বাবধানে রাখেন। ঐ প্রতিবন্ধীকে চেয়ারম্যান প্রতিদিন সকাল ও বিকালে ২০ ও ৫০ টাকা করে চা, পান খরচ করার জন্য প্রদান করতেন। তারপর ঐ প্রতিবন্ধীর ছবি তুলে আলোর দিশারী একটি সংগঠন চেয়ারম্যানের নির্দেশে ও চেয়ারম্যানের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২ মাস পরে ময়মনসিংহ জেলার কতোয়ালী (সদর) উপজেলার ৮ নং আকুয়া ইউনিয়নের আকুয়া মোড়লপাড়া গ্রামের আনকাজ মিয়া বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান তুহিনের কাছে মোবাইল করে। মোবাইলে বলেন, ফেসবুকে যে ছবিটি দেখেছে তার ছেলে আরিফুল। চেয়ারম্যান তার কথা বিশ্বাস না হলে তাকে বলেন আপনার ছবি আমার মোবাইল ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে দিন। তিনি ছবি পাঠালে প্রতিবন্ধী আরিফুলকে দেখালে তার পিতার ছবি দেখে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকে। তখন চেয়ারম্যান তার পিতা কে আসতে বললে তিনি না আসতে পেরে আরিফুলের বড় ভাই আপেল মিয়াকে শনিবারে লস্কর ইউনিয়নে লক্ষীখোলা গ্রামে আসেন। আরিফুল তার ভাই আপেলা মিয়াকে দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। 

এ খবর সাংবাদিকরা জানতে পেরে রবিবার সকালে লস্কর ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সবার সম্মুখে প্রতিবন্ধী আরিফকে তার ভাই আপেল মিয়ার হাতে খরচের ২ হাজার টাকা ও ১ প্যাকেট মিষ্টি তুলে দেন। এ সময় প্রতিবন্ধী আরিফ শত শত লোকের ভিতরে চেয়ারম্যান তুহিনের গলা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে। সে এক আবেগ ঘনময় পরিবেশ। ওখানে প্রায় মানুষের চোখে পানি পড়তে দেখা যায়। ছেলেটি ৪/৫ বার চলে যাওয়ার মুহুর্তে ছুটে এসে চেয়ারম্যানের গলা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে কি যেন বলতে চায়। কিন্তু তার ভাষা কেউ না বুঝলেও তার ভাই আপেল মিয়া সবাইকে জানায় চেয়ারম্যান তুহিন তার যে সেবা যত্ন করেছে সে এখান থেকে গেলে কিভাবে ভুলবে আরিফুল এটাই বুঝাতে চেয়েছে। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান, তাজউদ্দীন, প্রকাশ মন্ডল সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর