Opu Hasnat

আজ ৫ জুন শুক্রবার ২০২০,

স্বামীকে জামিনের আশ্বাসে স্ত্রীকে গণধর্ষণ! নারী ও শিশুকুমিল্লা

স্বামীকে জামিনের আশ্বাসে স্ত্রীকে গণধর্ষণ!

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কারাগারে থাকা স্বামীকে জামিনে বের করার আশ্বাসে এক ইউপি সদস্যের (মেম্বার) নেতৃত্বে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য ভোলা মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। মামলার পর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়াকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভোলা মিয়া মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত জায়েদ প্রধানের ছেলে। মামলার অপর আসামিরা হলেন মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের ছাফর আলী প্রধানের ছেলে মোশারফ হোসেন, জসিম মিয়ার ছেলে রিয়াজ মিয়া, শাহিনের ছেলে জালাল মিয়া, হাশেম মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া ও মৃত বেয়ারি মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া।

পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে যান। ওই গৃহবধূ স্বামীর জামিনের জন্য একই গ্রামের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভোলার কাছে সহযোগিতা চান। কাজের অজুহাত দেখিয়ে গৃহবধূকে রাতে বাসায় আসার কথা বলেন ভোলা মিয়া।

গত বছরের ২১ নভেম্বর রাতে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ভোলা ওই নারীর স্বামীকে জামিন করিয়ে দেয়ার আশ্বাসে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কারও কাছে প্রকাশ না করতে গৃহবধূকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখান ভোলা। এ ঘটনার ১৪ দিনের মাথায় মামলার দ্বিতীয় আসামি ইউপি সদস্য ভোলার সহযোগী মোশারফ হোসেন একই কায়দায় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। এরপর দিন তৃতীয় আসামি, পরদিন ৪র্থ আসামি, তারও একদিনের মাথায় পঞ্চম আসামি ও সাতদিনের মাথায় ৬ষ্ঠ আসামি গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে স্বামী বাড়ি গেলে সবকিছু খুলে বলেন ওই গৃহবধূ।

গৃহবধূর স্বামী বলেন, আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমাকে ছাড়িয়ে আনতে সব রকমের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে ভোলা মেম্বার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। মেম্বারের ঘটনাটিকে পুঁজি করে তার আরও পাঁচ সহযোগী আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আমি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসে স্ত্রীর কাছ থেকে এসব ঘটনা জানতে পারি। এ বিষয়ে মেম্বারের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বলেন। অন্যথায় আমাদের গ্রামছাড়া করবেন বলে হুমকি দেন। এ ঘটনায় সোমবার থানায় মামলা করেছেন আমার স্ত্রী। পরে মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য ভোলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মুরাদনগর থানা পুলিশের ওসি একেএম মনজুর আলম বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন গৃহবধূ। মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়াকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।