Opu Hasnat

আজ ৫ জুন শুক্রবার ২০২০,

বলিউড অভিনেতা ঋষি কাপুরের মহাপ্রয়ান, বলিউডে শোকের ছায়া বিনোদন

বলিউড অভিনেতা ঋষি কাপুরের মহাপ্রয়ান, বলিউডে শোকের ছায়া

বলিউডে আবারও নক্ষত্রের পতন। বৃহস্পতিবার সকালে চলে গেলেন ঋষি কাপূর। শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুম্বাইযে়ের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।  সংবাদমাধ্যমকে তাঁর বড় ভাই অভিনেতার  রণধীর কাপূর তাঁর মহাপ্রয়াণের খবর জানান। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন ঋষি। বিদেশে  এক টানা চিকিৎসার পর গত বছর দেশে ফেরেন তিনি। কিন্তু মাঝেমধ্যেই সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। 

সংবাদসংস্থার খবর, বুধবার সকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় এইচ এন এন রিলায়েন্স হাসপাতালে ফের ভর্তি করা হয় অভিনেতাকে।  একের পর এক মৃত্যুর খবরে দিশাহারা চলচ্চিত্র জগৎ।

রাজ কাপূর ঘরানার এই উজ্জ্বল উত্তরসূরী ‘মেরা নাম জোকার’ ছবিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭০ সাল। নিতান্তই শিশু তিনি তখন। কিন্তু প্রথম আত্মপ্রকাশেই জাতীয় পুরস্কার তাঁর অভিনয় জীবনের পথ তৈরিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। ১৯৭৩ এ একেবারেই ভিন্ন ধারায় তাঁর আবির্ভাব, ‘ববি’। ঝড় তুলে দিয়েছিলেন ঋষি। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে যৌবন তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে আজীবন।

তাঁর শেষ ছবি হয়ে রইলো ‘১০২ নট আউট’। সেই ছবিতে সহ অভিনেতা ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। যিনি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘‘আই অ্যাম ডেসট্রয়েড।’’ ঋষি কাপূরের চলে যাওয়া তাঁকে এতটাই বিষণ্ণ করে তুলেছে। ঋষি কাপূরের আত্মজীবনী ‘খুল্লাম খুল্লা: ঋষি কাপূর আনসেন্সরড’ বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থেকে গেল আজ। অভিনেতা সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, তিনি একটি হলিউড ছবি ‘ইনটার্ন’-এর রিমেকের কথা ভাবছেন। যেখানে তিনি দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই স্বপ্ন কী অধরাই থেকে যাবে? বলবে সময়।

ক্যানসারের মতো মারণ রোগ ধরার পড়েও তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে হেসে খেলেই বাকি জীবনটা কাটাতে চেয়েছিলেন রাজ কাপূরের দ্বিতীয় পুত্র ঋষি। মৃত্যু প্রসঙ্গ এলে সহাস্যে বলতেন, ‘‘আমি আমার হাসি নিয়ে মানুষের কাছে বেঁচে থাকতে চাই। কান্না আমার পছন্দ না।’’ চিকিৎসা চলাকালীন চিকিৎসকদের নানা ভাবে হাসি খুশি রাখতেন ঋষি। দেশ জুড়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে থাকার জন্য জনসাধারণকে আবেদন করেছিলেন তিনি। এপ্রিলের শুরুতে করা সেই আবেদনই ছিল তাঁর শেষ টুইট। ঋষি বরাবরই সক্রিয় ছিলেন টুইটারে। সরস, বিতর্কিত মন্তব্যে নেটাগরিকদের চিন্তার খোরাক জুগিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে।

হুল্লোড়ে সদাহাস্যময় এই অভিনেতা যদিও প্রয়োজনে স্পষ্ট এবং রূঢ় কথা বলতে কখনও পিছপা হননি। বিভিন্ন সময়ে করা তাঁর সেই টুইটগুলিই তাঁর এই চরিত্রের এই দিকটির প্রমাণ। তবে শেষ জীবনে বাড়িই ছিল তাঁর প্রাণ। 

২০১৮তে ধরা পড়ে ক্যানসার। বিদেশে চিকিৎসা চলাকালীন বারবার বাড়ি ফেরার কথা বলতেন তিনি। ১০ সেপ্টেম্বর মুম্বই ফিরে টুইট করেন, ‘‘১১ মাস ১১ দিন পর বাড়ি ফিরলাম। সবাইকে ধন্যবাদ।’’ সেই বাড়িতেই আজ তিনি নেই। থাকলেন নীতু কাপূর, ছেলে রণবীর ও মেয়ে রিধিমা।

ঋষি রেখে গেলেন প্রায় শতাধিক ছবি। যাক মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘ববি’, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’,  ‘লায়লা মজনু’, ‘রফু চক্কর’, ‘সরগম’, ‘কর্জ’, ‘বোল রাধা বোল’ ইত্যাদি।

জীবনের শেষে এসে কাজ করেছেন ইমরান হাসমির ‘দ্য বডি’ ছবিতে। শুধু জীবনের ক্ষেত্রেই নয়, নীতুর সঙ্গে সেলুলয়েডে ১২টি ছবিতে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন চিন্টু কপূর। 

গতকালই চলে গেলেন ইরফান খান। তাঁর মৃত্যু কোথাও যেন এক জায়গায় নিয়ে এল সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ ও চলচ্চিত্র তারকাদের। যাঁরা ইরফানের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাঁরা তাঁকে দেখেছেন, যাঁরা তাঁকে কোনওদিন দেখেনি সবার মৃত্যুশোক এক। আজ সেই রাস্তায় ঋষি কাপূর। এই সাম্রাজ্যের কোথাও যেন ইরফানের সঙ্গেও জুড়ে গেলেন তিনি। ডিডে ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। ঋষিকে ঘিরেও অনেকখানি তৈরি হয়েছে মুম্বাই চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাস। তিনি রাজ কাপূরের ছেলে। তিনি পৃথ্বীরাজ কাপূরের নাতি। রণবীর কাপূরের বাবা। কারিশ্মা-কারিনার কাকা। নীতু কাপূরের স্বামী।

আজ বোধহয় ‘ডিডে’ ছবির ওয়ালি খান ও ইকবাল শেঠ মুখোমুখি হবেন এক অদেখা সেলুলয়েডে। লাইট, সাউন্ড, ক্যামেরা নয়, মৃত্যু পেরিয়ে দুই অন্তহীন প্রাণ যেন মুখোমুখি হবেন সিনে আড্ডায়। ক্যামেরার শাটারের খচখচ শব্দ আজ বড় বেমানান। আনন্দবাজার