Opu Hasnat

আজ ৭ জুন রবিবার ২০২০,

করোনা : বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কেন্দ্রিকতার মধ্যে বিকেন্দ্রীক মডেল মতামত

করোনা : বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কেন্দ্রিকতার মধ্যে বিকেন্দ্রীক মডেল

ডিসেম্বর ২০১৯ এ চীনের রাজধানীতে (?) না হয়ে উহান থেকে শুরু হওয়া করোনা নিয়ে ট্রাম্প চীনকে করোনা ছড়াতে অভিযুক্ত, তথ্য লুকানো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে তহবিল স্থগিত ঘোষণা ইত্যাদি এখন পরাশক্তির পাল্টাপাল্টি খেলা। ইতালি, আমেরিকা, জার্মানী, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ আরো অনেক নামজাদা অভিজাত শিল্প-ধনী, সর্ব-সুরক্ষিত, সীমিত বসতি, স্বচ্ছ, আইন-কানুনশীল দাবীদার স্বর্গরাজ্য তুল্য দেশসমূহ আজ করোনায় পর্যুদস্ত। ঐ ভয়ংকর ভাইরাস যার বিশ্বায়ণে আমরাও আক্রান্ত। সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাসের তান্ডব ‘না জানা অপশক্তি নিয়ে’ আমাদের কি কি করতে হবে, ভবি মন্দা ও দূর্ভিক্ষ আশংকা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনন্য ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। 

বর্তমানে শোষক, শোষণ, তোষণ ও বৈষম্য ভিন্ন চরিত্র রূপে দেশে সাইলকের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। তাদের খোরাকের জন্য মানুষ ও দেশকে ত্রাণ- খয়রাতমুখী না করে কর্ম-উৎপাদনমুখী জনশক্তি করাই হবে আমাদের শক্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ পুনর্গঠনকাল বৃহত্তর নোয়াখালী জেলায় ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস। জনাব আজিজুর রহমান (এসডিও) মহকুমা প্রশাসক  (নোয়াখালী)। আমরা নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধা, সমবায়ী, রাজনীতিক যারা কৃষি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত ছিলাম সবাইকে নিয়ে এসডিও সাহেবের অফিস কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় আসে যে, ‘‘আমরা ব্রিটিশকে তাড়িয়েছি, পাকিস্তানকে তাড়িয়েছি, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। প্রস্তাব হয় যে, আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, জনকল্যাণ ও সেবামুখী হতে হবে। এ প্রেক্ষিতে বিস্তারিত আলোচনায় মহকুমা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক নাম পদবী’র পরিবর্তে স্বাধীন মুক্ত চিন্তা চেতনার প্রতীক যথাক্রমে মহকুমা সেবক ও জেলা সেবক পদবী হবে। এসডিও সাহেবও বলেন যে, আমরা জনগণের খাজনায় চাকরী করি। তাই বঙ্গবন্ধুর সৃষ্ট বাংলাদেশে জনগণের সেবা ও কল্যাণই হবে আমাদের মূল কাজ।’’ আমার লেখাটির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য বহু বছর পর মুক্তিযোদ্ধা-সাবেক অতিরিক্ত সচিব জনাব আজাহার আলী তালুকদার মারফৎ প্রাপ্ত টেলিফোন নাম্বারে জনাব আজিজুর রহমানকে ফোন করলে, তিনি শুধু একনলেজই করেন নি বরং স্মরণ করিয়ে দিলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক (জনাব আনিসুর রহমান) মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় তিনি উদ্যোগী হয়ে সংস্থাপণ মন্ত্রনালয়ের তৎকালীন উপ সচিব জনাব আমিন মিয়া চৌধুরী’র কাছে হাতে হাতে দেন (সচিব জনাব ফয়েজ আহমেদ)। সাবেক সচিব ও প্রধান তথ্য কমিশনার জনাব আজিজুর রহমানের সঙ্গে সেই দিনগুলির বহু জোশ, তস, মাঠে ঘাটে স্থানীয় অনেকের নামসহ সৃষ্টির উন্মাদনার কথা এমন হইতেছিল যে পরবর্তীতে এসব স্মৃতি কাজ নিয়ে যোগাযোগ ও লেখা হবে জানিয়ে ফোনালাপ শেষ করালাম। সদ্য স্বাধীন দেশের নানামুখী চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ঐ উদ্যোগের বঙ্গবন্ধুর প্রশাসন বিকেন্দ্রিক গর্ভনর সিষ্টেমে এর উত্তর ছিল। দুর্ভাগ্য শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পক্ষ নির্মমভাবে হত্যা করে দেশ ও জন উন্নয়নের স্রোতকে থামিয়ে দেয়। যার মাশুল এখনো জাতি গুনছে। 

বর্তমানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা প্রতিরোধ প্রথম পর্যায়ে যশোরের নারী সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসকদ্বয়,  কিছু আর্মি ও পুলিশদের মূল্যবোধহীন অমার্জনীয় উপনিবেশিক চরিত্রের অপশিক্ষা ও পরাধীন শাষন প্রশিক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল। তবে জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন, সেনা ও পুলিশ বাহিনী প্রধান ও সংশ্লিষ্টদের সময়োচিত মানবিক সেবা ও কল্যাণমূলক প্রয়োগিক বক্তব্য জাতিকে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ পথ দেখিয়ে দেয়।

সর্ব শ্রেণী পেশার জনগনকে সম্পৃক্ত রেখে যার শ্লোগান হবে ‘ফ্রন্ট ফাইটিং করোনা, গেরিলা ফাইটিং উৎপাদন বৃদ্ধি’। সবাইকে ভয় আতঙ্কে না থেকে প্রকৃতিগত মুক্তভাবে স্ব স্ব কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে। যেমন পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানো অব্যহত আছে। রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জাতি আবারও ‘ধ্বংস থেকে সৃষ্টির সুখে জেগে উঠবে’। তাহলেই ‘গাঙে ঢেউ দেখে তরে আছাড় খাওয়া হবে না।

পশ্চিমা দেশগুলো জ্ঞান-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে, উন্নয়নে, শৃংখলায় ও ধনে-সম্পদে অনেক উর্ধ্বে ও পুর্নগঠনে এগিয়ে যেতে সক্ষম। অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি বহমান রাখার জন্য ইতিমধ্যে স্পেন, ইতালী বড় দাগে লক ডাউন শর্ত সাপেক্ষে ছাড় দিয়েছে। তাদেরকে অন্ধ অনুকরণের চেয়ে দেশজ ভাবে আমাদের এগিয়ে যাওয়াই হবে শ্রেয়। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছিলেন ‘তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক’। তাই বর্তমানে শ্রম-ঘন সম্পদ, জ্ঞান-দক্ষতা, মা-মাটি-মানুষ-মালিকানার যা আছে তা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্ত স্বাধীন দেশ পুর্নগঠন লক্ষ্যে সর্বপ্রথম রামগতির (আমার কর্ম এলাকা) চর পোড়াগাছা গ্রামে গিয়েই বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছাশ্রম, উৎপাদন ও গ্রামোন্নয়নে ডাক দিয়েছিলেন। ঐ ডাকের ফলশ্রুতিতে রামগতিস্থ বঙ্গবন্ধু শেখের কিল্লা বাতিঘর আজ লক্ষীপুর সোয়াবিন জেলা নামে খ্যাত। বঙ্গবন্ধু ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে ময়মনসিংহের এক সভায় সমবায় ও গ্রাম কেন্দ্রিক উৎপাদন ও কুটির শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার কথা বলেন। 

এখনো জাতির পিতার দেশজ উন্নয়ন রণ কৌশলের পুর্নরাবৃত্তি করাই হবে আমাদের পথ ও পাথেয়। সুস্থ্য ও ধীর মস্তিস্কে আদর্শ রাজনীতিক, সৎ ব্যবসায়ী ও দেশ প্রেমিক অগ্রগামী পরীক্ষিত নাগরিকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যাওয়াই আজ দেশবাসীর চাহিদা। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে স্রোতে গা ভাসিয়ে না দিয়ে যদি কেউ না আসে তবে একলা চলোরে’র জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। 

ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি ৩য় মেয়াদে ২৫ এপ্রিল, ২০২০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন। সরকার ও সরকার প্রধান বেশ কিছু নির্দেশনা, প্রণোদনা ও ব্যবহারিক বার্তা কেন্দ্র থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। এ সকল নির্দেশনা জন প্রশাসন, সেনা বাহিনী, আইন শৃংখলা বাহিনীকে দায়িত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দল ও জন প্রতিনিধিত্বের স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস তান্ডব মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তৎসংশ্লিষ্টরাই সম্মুখ যোদ্ধার ভূমিকায় আছে।  তাদেরকে ধন্যবাদ। এযাবৎ যে সকল বিধিমালা, অনেক প্রণোদনা বিশেষ করে-প্রান্তিক চাষীদেরকে আমাদের প্রস্তাবিত ৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছেন, মাননীয় প্রদানমন্ত্রী আপনাকে ধন্যবাদ। তা বাস্তবায়ন ও পরিস্থিতির কারনে প্রয়োজনে সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন হতে পারে বলেও অনুমান করা যায়।

এ প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আমি বিনীত কিছু প্রস্তাব করছি : 

১) ২৫ এপ্রিল, ২০২০’র পরে রাজধানী, বিভাগীয়, জেলা শহর শুধু প্রয়োজনে সরকারী নির্বাচিত শিল্প এলাকায় লক ডাউন বা হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেন কার্যকর থাকবে। রমজান মাসের পবিত্রতায় অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা সরকার নিবেন। 

২) তৎপ্রেক্ষিতে উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, বাড়ী পর্যায়ে জেলা/উপজেলা প্রশাসন শর্ত সাপেক্ষে ছাড় দিয়ে প্রয়োজনে লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেন ব্যবস্থা নিবেন।

৩) জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন সীমানা পর্যায়ে উপরোক্ত বিধি ও সতর্কতাগুলো মোটা দাগে ছাড় দিয়ে প্রয়োজনে বহাল বা সময় বৃদ্ধি/কমাতে পারবে। যা ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় স্থানীয় উদ্যোগে হচ্ছে। 

৪) প্রশাসনিক বা সরকারী সকল বিধি নিষেধের আওতায় থেকে স্থানীয় সরকারী, বেসরকারী, কারখানা, উৎপাদন কার্যক্রম, উপসনালয়সহ সকল কিছু, শর্ত সাপেক্ষে নির্বাচিত ভাবে চলমান থাকবে।

৫) সামাজিক নিরাপত্তা জাল আওতার বাহিরে কর্মহীন, কর্মচ্যুত, অসহায়, খাদ্যাভাবে থাকাদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তালিকা তৈরী করে স্বল্প মেয়াদী ত্রাণ সহায়তা অব্যহত রাখবে। ঘোষিত ১ কোটি রেশন কার্ড বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য সরকারের আইটি বিভাগের আওতায় জাতীয় পরিচয় পত্রকে মূল ধরে এদের স্থায়ী ডাটা বেইজ হবে। 

৬) সামাজিক নিরাপত্তা জাল আওতায় কার্যক্রম বাড়ানো-কমানোসহ চলমান থাকবে যা মধ্য মেয়াদী হিসেবে বিবেচিত হবে। 

৭) সামাজিক নিরাপত্তা জাল আওতায় উন্নয়ন বটম লাইনিং মাতৃত্বকালীন ভাতা ও তৎকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, জীবিকায়ণ কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ প্লাস সম্বলিত স্বপ্ন প্যাকেজ, এসডিজি ১নং এজেন্ডা দারিদ্র বিমোচন লক্ষ্যে একের ভিতর সতের ধরে ১ লক্ষ মা’কে টার্গেট করে এক প্রজন্ম ২০ বছর দীর্ঘ মেয়াদী স্বপ্ন প্যাকেজ মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত এভিডেন্স বেইজড সফল কর্মসূচী বাস্তবায়ন অব্যহত করতে হবে-যা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার বিরোধী জনৈকা আমলার পরশ্রীকাতরতায় ঝুলে আছে। 

৮) সরকার প্রদেয় প্রনোদণাকে ব্যবহারিক করে মাছ, মুরগী, গবাদিপশু (মামুগ) সহ সকল কৃষি-অকৃষি উৎপাদন অর্থনৈতিক চালিকা শক্তিকে পরিকল্পিতভাবে বেগবান ও জনসংখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। 

৯) রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস, চামড়া, ঔষধ ও অন্যান্য শিল্প সেক্টরকেও করোনা সংক্রমণ ভীতি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে চালু রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে দায়িত্ব নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে। 

১০) তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ, চীন থেকে উৎপত্তি কম্যুনিষ্ট ভাইরাস ফলশ্রুতিতে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে যা দেখা যায় (ক) পরিবেশগতভাবে রাজধানীসহ সকল শহর-গ্রাম তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। (খ) প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্থানীয় সরকারসহ সকল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসমূহ নিষ্ঠা ও শৃংখলার সাথে গণমুখী। (গ) দেশে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, ইয়াবা, মাদক, ক্যাসিনো মোটা দাগে নাই বলিলেই চলে। (ঘ) ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, রাজধানীসহ সকল নামী দামী চিকিৎসা কেন্দ্র, হাসপাতাল, রোগীর সংখ্যা ২৫-৩০ ভাগে কমে আসছে। এ অবস্থাকে পূর্বাপর গবেষণা সাপেক্ষে গুণগত মান সম্পন্ন হাসপাতালে ব্যবস্থাপণা, সুযোগ-সুবিধা সাধারণ জনগণের নাগালে রাখাসহ ইতিবাচক ধরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। করোনার এ অভিশাপ মোচনে আমাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ জয় করে গেরিলাভাবে উৎপাদনে বাংলার মূল চেহারার প্রতিষেধক ব্যবস্থায় যেতে হবে। 

১১) বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিকে নিয়ে রাজনৈতিক দল-ই দেশ পরিচালনা করছে ও করবেন। পাশাপাশি লোভী ব্যবসায়ী, ধনীলুটেরা, ঐচ্ছিক ঋণ খেলাপী, তৈল মর্দনকারী, স্বার্থ সিদ্ধির অভিলাষী, ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ, করফাঁকিদারী, অর্থ পাচারকারী ইত্যাদিদেরকে নজরদারীতে এনে অবশ্যই বর্জন করতে হবে এবং তালিকা প্রকাশ করার এখনই সময়। যেমনভাবে অসহায় কর্মহীন দরিদ্র, শোষিত ও বঞ্চিতদের রেশন কার্ডভূক্ত তালিকা করা হচ্ছে।

১২) প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহারিক বিকেন্দ্রীকরণ করাই হবে মুজিব বর্ষের গ্রাম বাংলা জেলার জন্য সেরা উপহার। (ক) প্রত্যেক জেলায় জেলা সেবক আওতায় স্থানীয় সরকার প্রাধান্যে কার্যক্রমসমূহ পরিচালিত হবে। (খ) কেন্দ্রীয় সরকারের বিভাগীয় (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, প্রাণী সম্পদ, পানি সম্পদ, সমবায়-বিআরডিবি, পিকেএসএফ-এনজিও ইত্যাদি) প্রতিনিধিগন জেলা সেবকের আওতায় ন্যস্ত থাকবে। (গ) জেলা সরকার (পরিষদ) কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিত ও স্ব-শাষিত বিধি, নীতি ও পন্থায় বাস্তবায়ন জবাবদিহীতায় থাকবে। 

কেন্দ্রীয় সরকার তদারকী করবেন। করোনা ভাইরাস আঘাত হানতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ, ৩১টি নির্দেশনা বিশেষ করে জেলা প্রশাসক সঞ্চালক কেন্দ্রিক সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তদারকী ও জবাবদিহীতায় এনে সকল পর্যায়কে সম্পৃক্ত করে এক মডেল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। বিকেন্দ্রিক মডেলটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বমূলক কার্যক্রম সমন্বিতভাবে অন্তর্ভূক্তিকরণ একটি সংস্কার - দিক দর্শন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, ‘পদ্মা সেতু নিজের টাকায় করবো’ ছিল বিশ্ব পরিমন্ডলে একটি সংষ্কার ঘোষণা। করোনা প্রসূত উদ্ভাবিত মডেলটি জেলা প্রশাসনসহ বিভাগীয় সকল কর্মকর্তা একটি ছাতা আওতায় কাজ করবেন। ছাতা প্রধানের নাম হবে জেলা সেবক। যিনি জেলার নির্বচিত প্রতিনিধি (জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান)। এই সেবক পরিষদের সাচিবিক দায়িত্বে যিনি থাকবেন, পদবী হবে প্রধান সঞ্চালক (জেলা প্রশাসক)। জেলায় কর্মরত বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা সেবক পরিষদ সঞ্চালক সদস্য থাকবেন। 

এ প্রসঙ্গে অর্গানোগ্রাম, কার্যপরিধি ইত্যাদি বিস্তারিত রূপরেখা একটি জনমুখী কমিটি কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তৈরী হবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালন ও তথ্য উপাত্ত ব্যবহার পদ্ধতি এখানে সূত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশটাকে শুধু এগিয়ে নিচ্ছেন নয় বরং মডেল রাষ্ট্র হিসেবে জগতে প্রতিষ্ঠিত করে দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।  করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ বিশ্বকে সমতালে।

আনা এ ধ্বংস লীলার জমিন থেকে ‘সৃষ্টির একটি কৃষ্টি, প্রকৃতি, জলবায়ূ’ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ তাঁর কন্যার নেতৃত্বেই অর্থনৈতিক মুক্তির বাংলাদেশ বিনির্মান হবে। আল্লাহ্’র দান প্রকৃতি। মা-মাটি, মানুষ ও ক্ষেত-খামার ইত্যাদি’র উপর জোর দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মুজিব-বর্ষ স্মরণে বঙ্গবন্ধুর শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়তে সাম্যতা ও ন্যয্যতার একটি বিশাল শিক্ষা আমাদের দ্বারপ্রান্তে। পৃথিবীব্যপী সৃষ্টিকর্তা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ধনী-গরীব নির্বিশেষে সব এক করে ফেলেছেন। কোথায় এখন কোন মন-চিন্তা-ভাবনার বৈষম্য ও বিভেদ নাই। সব মিডিয়ার একই রকম ভাষা ও সাবধানতা। সারা বিশ্বের এ একতাবোধ বিশ্বকে আপাতঃ এক করে ফেলেছে। গেরিলা উৎপাদন যুদ্ধের সাথে বিকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কল্যাণমুখী সেবা উন্নয়ন জানালা-দরজা তৈরী করতে হবে। পৃথিবীটাকে মাথা উঁচু করে আবার দেখিয়ে দেয়ার সময় এখনই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সে আহবান-ই জানিয়েছেন।

লেখক : এ এইচ এম নোমান, 
প্রতিষ্ঠাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও স্বপ্ন প্যাকেজ প্রবর্তনকারী সংগঠন-ডরপ। 
মোবাইল : ০১৭১১৫২০৩৫১