Opu Hasnat

আজ ৪ জুলাই শনিবার ২০২০,

খাগড়াছড়িতে করোনা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আসছে হাজারো মানুষ, বাড়ছে আতঙ্ক খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে করোনা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আসছে হাজারো মানুষ, বাড়ছে আতঙ্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলামুখী কারাখানা শ্রমিকদের স্রোত দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন জেলার রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলার চেক পোষ্ট দিয়ে নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক খাগড়াছড়ি ঢুকছেন। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। জেলা ৯টি উপজেলাতে ঢুকে পড়া শ্রমিকদের কোয়ারেন্টিনও নিশ্চিত করতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে বাড়ছে খাগড়াছড়িতে করোনা ঝুঁকি।

এক পরিসংখানে দেখা গেছে, গত তিন দিনে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও রামগড় চেক পোস্ট দিয়ে চার হাজার ৭শত ৬৫জন শ্রমিক প্রবেশ করেছেন। তার মধ্যে শুধু শনিবার খাগড়াছড়িতে প্রবেশ করেছে দুই হাজার একশ ৬জন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকরা তাদের বেতন দেয়নি। বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় তাদের বের করে দিচ্ছে মালিকরা। তারা বাধ্য হয়ে কেউ ট্রাকে, সিএনজি অনেকে পায়ে হেটে নিজ বাড়ীতে ফিরছেন। শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। তাদের সাথে রয়েছে শিশুও। অনেকে দিন ভর না খেয়ে ছিলেন তারা। এ দৃশ্য সত্যি অনমানবিক।

মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আমীর হোসেন জানান, শনিবার রাত পর্যন্ত মানিকছড়ি চেক পোস্ট দিয়ে এক হাজার ৯শ ১৯জন প্রবেশ করেছে। এরা সকলেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, রামগড় চেক পোস্ট দিয়ে শনিবার রাত পর্যন্ত একশ ৮৭জন প্রবেশ করেছে। এরা সকলে ঢাকার আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক। তাদের নাম লিপিবদ্ধ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক খাগড়াছড়ি প্রবেশ করলেও এ সব শ্রমিকদের কোয়ারেন্টিন কতটুকু নিশ্চিত করছে তা নিয়ে রীতিমত প্রশ্ন উঠেছে। কেননা সিভিল সার্জনের কোয়ারেন্টিনে থাকা তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা: নুপুর কান্তি দাশ’র শনিবার রাতে দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ৪শত ৮৯জন, হোম কোয়ারেন্টিনে ৩শ ৮৩ ও আইসোলেশনে তিন রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৩৯জনের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ২৬জনের রিরোর্ট এসেছে নেগেটিভ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাকী শ্রমিকগুলো আদৌ কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত হলো কিনা। 

ফলে খাগড়াছড়িতে এখনো পর্যন্ত করোনা রোগী সনাক্ত না হলেও ঝুঁকি কিন্তু বাড়ছে। এখনি ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়ানক হতে পারে এমনি শঙ্কা সচেতন মহলের।

এদিকে টানা ৫দিন খাগড়াছড়ির প্রবেশদ্বার মানিকছড়ির নয়াবাজার চেকপোস্টে গামের্ন্টস কর্মীদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়েছে। মানবিক কারণে এতদিন প্রবেশে সুযোগ দিলেও এখন ১৯এপ্রিল থেকে আর কাউকে প্রবেশ করতে দিবে না উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপি ‘করোনা’র প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে জনচলাচলে কঠোরতার বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। ফলে জনমানুষ যে যার অবস্থানে গৃহবন্দি রয়েছে। কিন্তু গত ১৩এপ্রিল থেকে খাগড়াছড়ির প্রবেশদ্বার রামগড় ও মানিকছড়ির চেকপোস্টে খাগড়াছড়িগামী মানুষের ভীড় সামাল দিতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়েছে।

প্রতিদিন বিভিন্ন অজুহাতে স্রোতের ন্যায় নারী-পুরুষরা চেকপোস্টগুলোতে ভীড় জমিয়ে অরাজকতার চেষ্টা করে! পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা করতেও তারা দ্বিধা করেনা। কিন্তু মানবিক কারণে প্রশাসন শেষমেষ উপস্থিত জনস্রোতকে জেলায় প্রবেশে সহযোগিতা দেখিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রশাসনের এই নমণীয়তার সুযোগে দিন দিন চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়িগামী মানুষের অপ্রত্যাশিত ভীড় বাড়তে থাকায় জেলাজুড়ে‘করোনা’ আতংকে ভুগছে সকলে।

ফলে মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আরও কঠোরতার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ১৯ এপ্রিল থেকে কোন ক্রমেই যুক্তিযুক্ত কারণ ব্যতিত কাউকেই আর জেলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না মর্মে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন(মানিকছড়ি সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, জেলা ‘করোনা’ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয়দের জোরদাবীর প্রেক্ষিতে ১৯ এপ্রিল থেকে সমতল জেলার কাউকে আর খাগড়াছড়ি জেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সবাই স্ব-স্ব জায়গায় অবস্থান এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দেশের সংকটকালে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

অপরদিকে সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ হলেও বিভিন্ন মাধ্যমে খাগড়াছড়ির দুইটি প্রবেশপথ দিয়ে প্রতিদিন খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গমাটির বিভিন্ন উপজেলায় আসছে হাজারো মানুষ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে মানিকছড়ি ও রামগড়র ২টি প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রায় ২হাজারের বেশি নারী-পুরুষ প্রবেশ করে খাগড়াছড়িতে। যাদের অধিকাংশ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিক। এছাড়া রামড়ের সোনাইপুল দিয়ে প্রবেশ করছে কুমিল্লা, ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন শিল্প- কারখানার শ্রমিকরা।

জেলায় কাউকে প্রবেশ করতে না দেয়ার অবস্থানে প্রশাসন কঠোর থাকলেও পরিস্থিতির কারনে তা শিথিল করেন। নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক দুরত্ব উপেক্ষা করে প্রতিদিন শতশত মানুষের প্রবেশে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়জনসাধারণের মাঝে। খাগড়াছড়ি জেলায় এখনও পর্যন্ত কোন করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্ত না হলেও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকের অবাধ প্রবেশ ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। তারা বিষয়টি মানবিক হলেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (দুপুর ২ টা) সর্বমোট মানিকছড়ি চেক পোস্ট দিয়ে ২হাজার ৬শত ৪৬জন ও রামগড় চেক পোস্ট দিয়ে আরো ২৩০জনসহ মোট প্রায় ৩হাজারের কাছাকাছি নারী-পুরুষ প্রবেশ করে খাগড়াছড়ি(রাঙ্গামাটির একাংশে)তে।

মানিকছড়ি ও রামগড়ের বিভিন্ন চেকপোস্টে দিয়ে আসা শ্রমিকরা জানান, কারখানা মালিকদের অমানবিক সিদ্ধান্তের কারণে আজ তাদের এ পরিণতি। অনেকে কয়েক মাসের বেতন পায়নি। আর বাড়ি ভাড়া না পেয়ে এবং করোনা সংক্রামণের আতঙ্কে অনেককে বের করে দেয়া হচ্ছে।

মানিকছড়ি ও রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, শ্রমিকদের নাম লিপিবদ্ধ করে সবাইকে কোয়ারেন্টিনে থাকার শর্তে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

উল্লেখ্য, তিনটি প্রবেশ পথ বন্ধ করেছে জেলা প্রশাসক। গত ১৫এপ্রিল জেলা প্রশাসকের ফেইজবুক আইডির মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস এমন সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়। চট্টগ্রামে গামের্ন্টস বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকরা। তবে অনেক গামের্ন্টস মালিক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে ভাড়া বাসার মালিকরা ঘরের চাবি রেখে শ্রমিকদের তাড়িয়ে দিচ্ছে! ফলে উভয় সংকটে পড়ে যার যার পিতৃভূমিতে ফিরতে শত শত মাইল রাস্তা পায়ে হেঁটে খাগড়াছড়ির প্রবেশদ্বার মানিকছড়ি’র নয়াবাজার আর্মি চেকপোস্টে এসে ভীড় করছে ক্ষুর্ধাত নর-নারীরা। বৃহস্পতিবার(১৬ এপ্রিল) কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ ও সেনাবাহিনী। গত ৩দিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন এসব মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর ঘটনায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সংগঠক ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি অংগ্য মারমা বৃহস্পতিবার ১৬এপ্রিল ২০২০ এক বিবৃতিতে জেলার ফটিকছড়ি সীমান্তে নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্প চেকপোস্ট এলাকায় ঘরমুখী পাহাড়ি কর্মজীবী নারী পুরুষের উপর নির্বিচার হামলাকে চরম অমানবিক ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বাইরের জেলা থেকে কেউ আসলে তাকে ফেরত যেতে হবে। এতোদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় প্রবেশকারীদের দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তাদের যথাযথভাবে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখতে পারেনি। তাই জেলা কমিটির জরুরী সিদ্ধান্তের সকল প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কেউ যেন কোনভাবে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এ সিদ্ধান্ত যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগীতা চেয়েছেন জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সচেতন মহলের ধারনা, খাগড়াছড়িতে জেলাকে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণের হাত থেকে রক্ষায় গঠিত জেলা কমিটির গৃহীত কোন সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের চিত্র দেখা যাচ্ছে না। গত ১২এপ্রিল জেলা কমিটির জরুরী সভা শেষে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও এখনও পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ১৫এপ্রিল বুধবারও খাগড়াছড়ি জেলার প্রবেশমুখ মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ খাগড়াছড়ি জেলায় ঢুকছে। এতে করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে। খাগড়াছড়ি জেলায় এখনও পর্যন্ত কোন করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্ত না হলেও প্রশাসনের এমন সমন্বয়হীনতার কারণে ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

আরো জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ১৫এপ্রিল ভোর রাত থেকে খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথ মানিকছড়ি উপজেলার নয়াবাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় অবস্থানরত লোকজন। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে পাশাপাশি দাড়িয়ে নাম নিবন্ধন করতে দেখা গেছে। বিশ্বব্যাপী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ যেন কোন গুরুত্ব পাচ্ছে না এদের কাছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন প্রেক্ষিতে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।

এইদিকে বুধবার(১৫ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথ মানিকছড়ির আর্মি চেক পোস্টে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। খাগড়াছড়িতে প্রবেশের জন্য সেখানে অপেক্ষায় রয়েছিল শত শত জনসাধারণ। তারা চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে এসে জড়ো হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রচারণা থাকা সত্তে¡ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে পাশাপাশি দাড়িয়ে নাম নিবন্ধন করতে দেখা গেছে তাদের। আর তাদের এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে জেলার সর্বত্র। এমন প্রেক্ষিতে নতুন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশ করোনা’র প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, মাদরাসাসহ জনপদে লোকজন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে গত ২৬মার্চ থেকে। পরে সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে গামের্ন্টস শিল্পও বন্ধ রেখেছে মালিকরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামের(সকল) গামের্ন্টস মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে ভাড়া বাসার মালিকরা শ্রমিকদেরকে ভাড়া পরিশোধ করতে বাধ্য করছে।

আবার কেউ কেউ ঘরের চাবি রেখে তাড়িয়ে দিচ্ছে! আবার অনেকে বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করতে বাড়িতে আসতে চট্টগ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে খাগড়াছড়ি প্রবেশের দুঃস্বপ্ন নিয়ে গত ১৩এপ্রিল থেকে ভীড় জমাচ্ছে জেলার প্রবেশদ্বার মানিকছড়ির নয়াবাজার বাজারস্থ আর্মি চেকপোস্টে। যার ফলে মানিকছড়ি প্রশাসন পুলিশ সেনাবাহিনী দিয়েও এসব লোকজনের গণজোয়ার ঠেকাতে গত দু’ দিন ব্যর্থ হলেও ১৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কঠোর নির্দেশে সকাল থেকে কঠোর অবস্থানে মানিকছড়ি প্রশাসন। ফলে অদ্যবদি শত শত নর-নারীরা জেলায় প্রবেশ করতে ভীড় জমালেও কাউকেই জেলায় প্রবেশ করতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

জেলার প্রবেশদ্বারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ, সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন ও সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না মাহমুদ জানান, এতোদিন জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় প্রবেশকারীদের দেয়া হলেও অদ্যবদি থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজকের পর থেকে কাউকে মানিকছড়ি সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয়া হবে না। ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে তারাও যেন কাউকে তাদের সীমানা অতিক্রম করতে না দেয়।

খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ মুখ জিরোমাইলে স্বেচ্ছা উদ্যোগে জীবাণু নাশক কার্যক্রমে কাজ করছে একঝাঁক তরুণ। তাদের কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রিয় খাগড়াছড়ি জেলাকে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি। যারা বাহির থেকে আসছেন তাদের ও পরিবহনগুলো জীবাণু নাশক স্প্রে করা হচ্ছে। তবে যে হারে প্রতিনিয়ত লোকজন আসছে তাদের যদি রুখতে প্রশাসন ব্যর্থ হয় তাহলে খাগড়াছড়ির অবস্থা কিছুদিনের মধ্যে ভয়ানক হতে পারে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আজকের পর থেকে(১৫ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি জেলায় কোন শর্তে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এতোদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় প্রবেশকারীদের দেয়া হলেও তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তাই জেলা কমিটির জরুরী সিদ্ধানোক সকল প্রবেশ মুখ কাউকে ঢুকতে না দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশের যে প্রান্ত থেকে আসুক না কেন তাকে সেখানে ফিরে যেতে হবে। এ জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকুরীতে নিয়োজিত উক্ত পাহাড়িরা অর্থাভাবের কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু পথে জেলা সীমান্তে আটকিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’ করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের চরম পরিকল্পনাহীনতা, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে লকডাউনের মধ্যেও উক্ত পাহাড়িরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন মন্তব্য করে ইউপিডিএফ নেতা বলেন, ’তাদেরকে আটকিয়ে একত্র করে বলপ্রয়োগ করে জেলার ভেতরে ঢুকতে না দেয়া সমস্যার সমাধান হতে পারে না, বরং এতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেশী বেড়ে গেছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন তিন জেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সত্বেও কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশ উৎকোচ নিয়ে লোকজনকে ঢুকতে দিচ্ছে, যা আরও অনেক পাহাড়িকে লকডাউন উপেক্ষা করে বাড়ি ফিরতে উৎসাহিত করছে। অংগ্য মারমা আটকিয়ে রাখা পাহাড়িদেরকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্দিষ্ট স্থানে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে রাখার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা, চট্ট্রগ্রাম ও কুমিল্লাসহ দেশের সমতল জেলায় অবস্থানরত বা আটকে পড়া পাহাড়িদের জন্য পযাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানান। ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আরো উল্লেখ্য যে, করোনা ভাইরাস থেকে খাগড়াছড়ি জেলাকে সুরক্ষায় জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে জেলায় বাহির-প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল জেলা প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও জনসাধারণের অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়নি। নিষেধাজ্ঞা জারির পরও প্রায় ৮শতাধিক জনসাধারণ খাগড়াছড়িতে প্রবেশ করেছে। তাদের নিজ এলাকার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অথবা মেম্বারদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর