Opu Hasnat

আজ ৩ জুন বুধবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

একজন কবির ‘খোলা চিঠি’ মতামত

একজন কবির ‘খোলা চিঠি’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
শুরুতেই আমার শতকোটি সালাম ও ভালোবাসা জানিবেন। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে সবিনয়ে কিছু কথা বলতে চাই--

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ব জুড়ে মরন ঘাতক করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্যে আপনি বাংলাদেশের জনগণের জানমাল নিরাপত্তার লক্ষ্যে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং কর্মহীন সকল জনসাধারণ কে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন। সঠিক সময়ে জাতির জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আপনাকে বাংলাদেশের সকল জনগণের পক্ষ থেকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে লক্ষ কোটি সালাম ভালোবাসা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বর্তমান সময়ের এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ নিয়ে গুজব হোক আর সত্যি মিথ্যা যাই হোকনা কেন বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে কিছুটা হলেও আপনি অবগত আছেন। শুরু থেকে সেনাবাহিনী অথবা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলে দেশে এই অনিয়ম অথবা চোরের সৃষ্টি হতো না। ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিত না। এটাকে নিয়ে ভিন্ন দল ভিন্ন মতের মানুষ গুলো খেলা ও গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য। কিন্ত সেটা হতে দেওয়া যাবে না। বরাবরের মতো আপনি শক্ত হাতে হাল ধরুন। কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করুন। চোর যে দলের হোক তার কোন দল, মত, ধর্ম, দেশ নাই। ওরা মানবতার শত্রু। ওদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য আপনাকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে প্রশাসন দুরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে ত্রাণ সামগ্রী চুরি করতে সহজ হয়। ঘরের শত্রু বিবিশন। আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। সাত কোটি বাঙালি আট কোটি কম্বল আমার কম্বল কই? আমরা তো সেই বাঙালি!!! আমরা এতোটা বছরে ও নিজেকে শুধরে নিতে পারিনি। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি এই চোরের সাথে বুদ্ধিতে পারবেন না। কারণ চোরের বুদ্ধি খোরে খোরে। প্রিয় দল আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন যাতে না হয় সেই জন্য আপনি দ্রুত পদক্ষেপ নিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সাদা মনের মানুষ। সবাই কিন্ত আপনার মতো নয়। আপনি যতই বলেন কোন লাভ হবে না। লোভ সামলানো সবার পক্ষে সম্ভব নয়। চোরের দল দিনে দিনে ভারী হচ্ছে। ডর, ভয়, লজ্জা, শরম এদের নেই। দেশে ভয়াবহ গজব চলছে। মৃত্যু হাতছানি দিচ্ছে। তারমধ্যে কিভাবে সম্ভব গরীব অসহায় মানুষের রিজিক চুরি করা? সে যে দলেরই হোক না কেন। তাকে বিচারের আওতায় আনা হোক । জনগণের এতো ধিক্কার শুনেও চুরি থেকে বিরত থাকছেন না । চোরের দল ভারী। আপনি বেশি কিছু বললে ওরা আপনার বিপক্ষে অবস্থান নিবে। আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আজ আমার বিপক্ষে যিনি তাকেও আমি চোর ধরেছিলাম। তিনি এখন বিশাল ক্ষমতা শীন। চোর ধরা ছিলো আমার অপরাধ। আমি প্রমাণ সহ দেখাতে পারি। চোরদের দেওয়া বুদ্ধি নিয়ে আপনি দলের ইমেজ নষ্ট করবেন না। আমি আপনার কাছে অতি সাধারণ, তুচ্ছ, নগন্য, একজন মানুষ। কিন্তু আমার এই ক্ষুদ্র চিন্তা থেকে বলা কথা গুলো একটু ভেবে দেখতে পারেন। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে অনেক অনেক ভালোবাসি। বলতে পারেন আপনার অন্ধ ভক্ত। সেই ছোটবেলা থেকে। বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধু ও আপনার আকাশ ছোঁয়া অবদান। এতোকিছু করেও এই ত্রাণ সামগ্রীর জন্য কেন নানাবিধ প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন? চোরের দায়ভার বহন করবেন? এমনটা হবে আগেই ভেবেছিলাম। এবং ফেসবুকে একটা স্টেটাস দিয়েছিলাম। কাঙালের কথা বাসি হলেও ফলে। জানি এই ধরনের লেখা আমার জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে। হোক দেশের স্বার্থে, দলের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে আমার জীবন চলে গেলে ও আপসোস নাই। একদিন তো মরতে হবেই। আজ নয়তো কাল । 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্য বিত্ত পরিবার গুলো বেশি অসহায়। তারা না পারে নিজে রোজগার করতে না পারে কারো কাছ থেকে হাত পেতে চেয়ে নিতে। আপনি বাংলার প্রাণ ও গর্ব। বাংলাদেশের আর্শীবাদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার উদ্দেশ্য সৎ ও মহৎ। এখনো সময় আছে,এই মহৎ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য চোরের বুদ্ধি না নিয়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণে স্থানীয় সরকার, স্বেচ্ছাসেবীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী অথবা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ত্রাণ সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করুণ। তাহলে একদিকে কর্মহীন প্রতিটি মানুষ খাদ্য সহায়তা সঠিক ভাবে পাবেন, আত্মীয় করন অথবা এক ঘরে তিন চার নামের খাদ্য সামগ্রী যাবে না,অন্য দিকে জনসমাগম হবে না। ফলে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কমবে।

অনুরোধ ক্রমে
সালমা বেগম
কবি কথা সাহিত্যিক ও গীতিকার
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
সোনার তরী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা।
পটুয়াখালী