Opu Hasnat

আজ ২২ জুন শুক্রবার ২০১৮,

সংঘর্ষ থামাতে ৩০ রাউন্ড গুলি

কালিয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে গ্রামবাসির সংঘর্ষ, আহত ৩০ নড়াইল

কালিয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে গ্রামবাসির সংঘর্ষ, আহত ৩০

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চিহিৃত সন্ত্রাসী হাসনাত বাহিনীর সাথে তিন গ্রামের বাসিন্দাদের ঘন্টা ব্যাপি সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন কম বেশি আহত হয়েছে। আহতদেরকে কালিয়া ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করেছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার বিকালে কলাবাড়িয়া বাজারের চাউল ব্যবসায়ী মুলখানা গ্রামের সবর শিকদারের দোকানে সন্ত্রাসী হাসনাত হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করা সহ লুটপাট করে। সন্ত্রাসীদের কাছে আগ্নেয় অস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র থাকায় ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। এ ঘটনার পর সন্ত্রাসী হাসানাত তার লোকজন নিয়ে শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে সবরের মুলখানা গ্রামে হামলা ও লুটের জন্য আক্রমন চালায়। মুলখানা গ্রামের লোকজন ও পুলিশ প্রতিরোধ করে দেয়। ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসী হাসানাত বাহিনী এলাকায় ভয়াবহ তান্ডব চালানোর ঘোষনা দেয়। এ ঘোষনায় ক্ষুব্ধ হয় এলাকবাসি। সন্ত্রাসী হাসনাত বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি তথা কলাবাড়িয়া পূর্ব পার, মুলখানা ও বিলাফর গ্রামের বাসিন্দারা শনিবার সকাল ৯ টার দিকে কলাবাড়িয়া গ্রামের জহুর মোল্যার পুত্র সন্তাসী হাসনাত ও তার বাহিনী ধরতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরাও তাদের উপর হামলা চালালে উভয় পক্ষের মুলখানা গ্রামের সবর ফকির, শরিফুল শিকদার, ঝিকুল শিকদার, আকিদুল শিকদার, উজ্জ্বল ফকির, লালন ফকির, টিপু শিকদার, উত্তর কালিনগর গ্রামের টিকলি মোল্যা, বিলাফর গ্রামের কাইয়ুম শিকদার, তুহিন শিকদার, কলাবাড়িয়া গ্রামের গাউস মোল্যা, হাবিবুল শেখ, বাবু মোল্যা, আকিজ মোল্যা, রহিম মোল্যা, মশিয়ার মোল্যা, হেকমত মোল্যা, আবুজার মোল্যা, রাজা মোল্যা, ছবুর মোল্যা, কবুর মোল্যা, হেল­াল মোল্যা, হাসান মোল্যা, সহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। 

নড়াগাতি থানার ওসি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে পৌছে শর্টগানের ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন ও লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। পুলিশের লাঠিচার্জে ১০ জন আহত হয়। এদিকে সন্ত্রাসী হাসনাত ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে, কলাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান কায়েস ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ মজিবর রহমান, কৃষকলীগের সভাপতি হাসমত আলী শিকদার সহ এলাকবাসিরা অভিযোগ করে বলেছেন, সন্ত্রাসী হাসনাত তার বাহিনীর জখমিদের মধ্য থেকে যে কোন একজনকে চিকিৎসার নামে অন্যত্র নিয়ে কৌশলে হত্যা করে গ্রামবাসির নামে হত্যা মামলা দিয়ে তার সন্ত্রাসী রাজত্ব আবার কায়েমের ষড়যন্ত্র করছে।

নড়াগাতি থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, গ্রামবাসির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।