Opu Hasnat

আজ ২১ জুলাই শনিবার ২০১৮,

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি, পাখি কেমনে আসে-যায়.... বিনোদনকুষ্টিয়া

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি, পাখি কেমনে আসে-যায়....

সাঁইজির বানী ছিলো সত্য বল, সু-পথে চল। মানুষকে ভজলেই সোনার মানুষ হওয়া সম্ভব। সমাজে অন্যায়, অত্যাচার, ব্যাবীচার, সহিংসতা বন্ধ করতে হলে লালনের দর্শনে আসতে হবে। সাঁইজির দেখানো পথে চলতে হবে। তাতেই আমরা খুজে পাবো আলোর পথ। আর সর্বশেষ্ঠ ধর্ম হলো মানব ধর্ম। মানুষকে ভালবাসতে হবে, তবেই তো তার (সৃষ্টিকর্তার) দেখা পাওয়া যাবে। তাই সাঁইজি বলেছেন-
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি।।
দ্বিদলে মৃণালে
সোনার মানুষ উজলে।
মানুষ গুরুর কৃপা হলে
জানতে পাবি।।
এই মানুষে মানুষ গাথা,
গাছে যেমন আলকলতা।
জেনে শুনে মুড়াও মাথা
জাতে উঠবি।।
এই মানুষ ছাড়া মন আমার
দেখবি রে তুই শূন্যকার।
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে তারে পাবি।।
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেউড়িয়ায় আধ্যাত্মিক চিন্তার পথিকৃত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র ১২৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তার মাজারে আসা ফকির সাত্তার আলী শাহ্।

তিনি জানান, বাউল সম্রাট, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহাপুরুষ, আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহ্। তিনি জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে মানুষকে শান্তির পথে চলার আহবান জানিয়েছেন। তিনি মানুষের মাঝে ধনী-গরীবের যে বিভেদ সেটা ভাঙ্গতে চেয়েছিলেন। মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন। মিথ্যাকে পরিহার করে সত্যের পথে চলার আহবান জানিয়েছিলেন। তার দর্শনে আসলে আমাদের সকলের মনে শান্তি আসবে। মানুষকে ভজলেই পাওয়া যাবে অমূল্য তিথি। তাই সাঁইজি বলেছিলেন-
“পাবিরে অমূল্য তিথি,
পাবি বর্তমানে.....
সহজ মানুষ ভোজে দেখনা রে মন দিব্ব জ্ঞানে......।
তিনি আরো জানান, আমি প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে এখানে আসি। আমি যখন এখানে আসতাম তখন সাঁইজির এই মাজারে ৩০-৪০ জন ভক্ত ও আশেকানরা আসতো। সাঁইজির এই মাজারে আসা অনেকেই আর নেই। কিন্তু আমাদের মতো ভক্ত আশেকানদের মনে প্রাণে সাঁইজির সেই গানের কথা আজও ভেসে আসে। এর জন্যই প্রতিবছর দোলপূণিমার সময় তার স্মরণ উৎসবে এবং ১লা কার্তিক তার তিরোধান দিবসে ছুটে আসি এখানে। 

সাঁইজির ১২৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে হাজারো ভক্তের পদচারনায় মুখরিত হয়েছে তার মাজার এলাকা। দেশি বিদেশী সাদা পাঞ্জাবী, শাড়ী ও সাদা কাপড়ের টুকরা পরিহিত ভক্তদের এক মিলনায় পরিনত হয়েছে। আখড়াবাড়ীর মূল আঙ্গিনা, কালীনদীর তীরে সাঁইজির মাজার এলাকায় ভজন-সাধনের মাধ্যমে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন লালন ভক্তরা। হাতে একতারা, ডুগি, তবলা, হারমোনিয়াম, বাঁশি, ঢোল, খঞ্জনি, নিয়ে দিনরাত গলা ছেড়ে গাইছেন আত্মাধিক গান। 

ছোট ছোট কাপড়ের টুকরোর উপরে, শিতল পাতার মাদুরে, এমনকি মাটিতে গামছা বিছিয়ে বসেছে এধরনের গানের আসর। আসরে গানের সময় তাদের সাথে তাল দিচ্ছেন সাধারন দর্শনার্থীরাও। প্রত্যেকটি গানের শেষে এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছেন আসরের গুরুরা। তাই মনোযোগ দিয়ে শূনছে শিষ্যরা।

পাশেই শুকচান ফকির গাইছেন.......
  আমি ধরতে পারলে মন বেড়ী,
  দিতাম পাখির পায়....
  খাঁচার ভিতর অচিন পাখি,
পাখি কেমনে আসে-যায়....
এমন সব গানের সুরে মূখরীত হয়ে উঠেছে আখড়াবাড়ী।