Opu Hasnat

আজ ২৮ মে বৃহস্পতিবার ২০২০,

দেশে আরও ১ জন করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা

দেশে আরও ১ জন করোনায় আক্রান্ত

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও একজন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। ভাইরাসটি থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ৪ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন।

সোমবার (৩০ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন আক্রান্ত রোগী একজন নারী। তার বয়স ২০-এর কোঠায়। গত ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনে ফোন এসেছে ৪ হাজার ৭২৪টি। এর মধ্যে করোনা সংক্রান্ত কল এসেছে ৩ হাজার ৯৯৭টি। আর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫৩টি। সর্বমোট ১ হাজার ৩৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত ৪৯ জনের মধ্যে আরও চার জনের শরীরে সংক্রমণ আর নেই। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছর। আরও দুজনের বয়স ৬০-এর বেশি। তার মানে বয়োজ্যেষ্ঠ হলেই ঝুঁকিপূর্ণ এমন নয়। চার জনের মধ্যে দু’জন বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিন জনের বিভিন্ন রোগ ছিল। এই চার জনের মধ্যে একজন চিকিৎসাকর্মী ছিলেন। সব মিলিয়ে ১৯ জন করোনামুক্ত হয়েছেন।

ডা. মীরজাদী বলেন, এক জায়গায় ৩৬ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ছিল। তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাস না পাওয়া না যাওয়ায় তাদের  ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে এখনও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৩২ জন। আর ৬২ জন আছেন আইসোলেশন। সব মিলিয়ে আইসোলেশনে আছেন ২৬২ জন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একদিন কোনও কেস ডিটেক্টেড না হলে ধরে নেওয়া যাবে না আমরা ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেছি। আপনাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ আপানারা ঘরে থাকবেন। এই সময় আপনাদের ঘরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমরা গণমাধ্যমে খবর দেখেছি আপনারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন। দয়া করে কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। একান্ত প্রয়োজনে যদি কেউ বের হন, তাহলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন। এছাড়া প্রতিরোধের জন্য সরকার সেসব করতে বলেছে তা করুন।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এমআইএস বিভাগের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান।

হাবিবুর রহমান বলেন, দেশে ৫৫ হাজার মানুষ এখন কোয়ারেন্টিনে। কোয়ারেন্টিন মুক্ত করা হয়েছে ২৯ হাজার। বাকিরা এখনও আছেন। ঢাকা শহরে ৮টি সরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত। 

এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। গত দু’দিন দেশে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরেন ডা. ফ্লোরা। তুলে ধরেন করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে ঘরে থাকাসহ প্রয়োজনীয় করণীয়ও।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারীতে পরিণত করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সোয়া ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৩৪ হাজার। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এর পর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েছে। সবশেষ হিসাবে করোনায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯, মারা গেছেন ৫ জন। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৯ জন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটি ১১ এপ্রিল কিংবা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর