Opu Hasnat

আজ ২ জুন মঙ্গলবার ২০২০,

দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হচ্ছে মতামত

দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হচ্ছে

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে স্থানীয় সরকারের ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশে চলমান স্থানীয় সরকারের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু দলীয় প্রতীকে  স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হওয়ায় সেই ঐতিহ্য ভুলন্ঠিত হচ্ছে। 

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বার, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যাদের স্থানীয় পর্যায়ে জনগনের সাথে ব্যাপক সংশ্লিষ্টতা থাকে। এখেত্রে ভোটাররা বিবেচনায় নেন প্রার্থীকে দলকে নয়। এ বিবেচনার ভিত্তি জনগনের সাথে প্রার্থীর সম্পর্ক, জনসেবার ঐতিহ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রার্থীর সততা আচার আচরন ইত্যাদি। 

অথচ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে প্রার্থীর যোগ্যতার চেয়ে দলকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। দলীয় প্রতীকের উপর ভর করে অনেক জায়গায়  অযোগ্য অথর্ব অগ্রহনযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হচ্ছে। এই সকল অযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের  নির্বাচন হওয়ায় আমাদের দেশের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে দলাদলি, মারা মারি খুনোখুনি শুরু হয়েছে। ফলে সাধারন ভোটারদের নির্বাচনের প্রতি একটা অনিহার সৃস্টি হয়েছে । 

যখন আমাদের দেশে দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হইত তখন ভোটারদের স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি লক্ষ করা যেত। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় তখন নির্বাচনে প্রায় শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ লোক ভোট দিত। আর বর্তমানে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচনে শতকরা ৫০ ভাগ ভোটার ও ভোট দিতে যায় না । অথ্যাৎ যদি দলীয় প্রতীকে না হয়ে স্বতন্ত্র প্রতীকে স্থানীয় সরকারের  নির্বাচন হত তাহলে নির্বাচনে বেশী প্রার্থী অংশগ্রহন করত । এই প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেত ভোটাররাও আগ্রহ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সৎ এবং যোগ্য প্রাথীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করত। ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সারা দেশে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও গোপালগঞ্জ জেলায় ক্ষমতাসীন আ’লীগ কোন দলীয় প্রার্থী দেয়নি সেখানে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন হয়েছে। সারা দেশে যেখানে শতকরা  ৩০ থেকে ৪০ ভাগের বেশী ভোটার উপস্থিত হয়নি। অথচ গোপালগঞ্জের ৫ টি উপজেলায় শতকরা ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এতে প্রমানিত হয়েছে দলীয প্রতীকের চেয়ে স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন হলে প্রাথীদের অংশগ্রহন এবং ভোটারদের ভোটদানের পরিমান বেশী হয়। নির্বাচন অংশগ্রহন মুলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপুর্ণ হয়। 

সারা দেশে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না আগের মত স্বতন্ত্রভাবে হবে। পত্র পত্রিকার খবর থেকে জানা গেছে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ ও চাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীকে না করার । কারন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দিতে গিয়ে দলের মধ্যে নানা ধরনের কোন্দল দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে আ’লীগের কেন্দ্রীয কমিটির একটি মিটিংয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দেবার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে একাধিক জাতীয় পত্রিকার খবরে জানা গেছে। স্থানীয় সরকারের গৌরবউজ্জল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং স্থানীয় সরকারে সৎ ও সুযোগ্য প্রতিনিধিদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে আগের মত স্বতন্ত্র প্রতীকে করার দাবি আজ গন দাবিতে পরিনত হয়েছে। 

লেখক : শওকত আলী শরীফ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট  
সভাপতি 
নগরকান্দা উপজেলা প্রেসক্লাব, ফরিদপুর।