Opu Hasnat

আজ ১ জুন সোমবার ২০২০,

মুন্সীগঞ্জে হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ! মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ!

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনার কারণে ঘরে ঘরে নিজেদের আবদ্ধ রাখছে মানুষ। আর এই সুযোগে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিনব্যাপি উপজেলার বাঘড়া বাজারে ন্যাশনাল ব্যাংক সংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামের মার্কেটে এ চাল বিতরণের অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেছে স্থানীয়রা।

সারাদেশব্যাপী উদ্ভূদ পরিস্থিতিতে দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই সরকার হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে শ্রীনগরের বাঘড়া ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণের জন্য ৫৪০টি কার্ড দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে বাঘড়া ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাই চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মুক্তি হোসেন ও ডিলার হোসেন আলী যোগসাজশ করে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাকে না জানিয়ে হতদিরদ্রদের কাছ থেকে কার্ডপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায়ের মাধ্যমে ২৭ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন।

এমনকি প্রতি কার্ড হোল্ডারদের কাছ থেকে ৩০ কেজি চালের মূল্য নিয়ে তাদের দুই কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগে জানিয়েছে। অন্যদিকে হতদরিদ্রদের কার্ড দেওয়ার সরকারি বিধান থাকলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে সচ্ছল পরিবারকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ডিলার হোসেন আলী জানান, আমি এবারই ডিলার হিসেবে যুক্ত হয়েছি। তাই ট্যাগ অফিসার কি বা কে তা জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ঢাকা অবস্থান করছেন জানিয়ে বলেন, হতদরিদ্রদের চাল বিতরণে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা তদন্ত করে দেখবেন অনিয়ম হয়েছে কিনা।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, হতদরিদ্রদের চাল বিতরণের কার্ড ও চাল নিয়ে কেউ অনিয়ম করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসেও বাঘড়া ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ২৪০ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেয় সংশ্নিষ্ট ডিলার।