Opu Hasnat

আজ ১ জুন সোমবার ২০২০,

চিকিৎসকদের জন্য পিপিই ও গাড়ির ব্যবস্থা করলো ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ফরিদপুর

চিকিৎসকদের জন্য পিপিই ও গাড়ির ব্যবস্থা করলো ফরিদপুর জেলা প্রশাসন

গত ২৬ তারিখ থেকে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পেশার সাথে বিশেষত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কাজের জন্য যে সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের উপযুক্ত যানবাহন না থাকায় যাতায়াত করতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো মাত্রই জেলা প্রশাসন থেকে সকল উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জন্য মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করে দেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে অথবা সর্দি কাশি ও জ্বর নিয়ে যে সমস্ত রোগী হাসপাতালে আসছেন, চিকিৎসক ও নার্সরা যাতে নির্ভয়ে তাদের শশ্রুষা করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় পিপিই এর সংস্থান করা হয়েছে এরই মধ্যে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের নিকট হতে প্রাপ্ত পিপিই সমূহ জেলা এবং উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা হয়েছে এবং আরো বেশ কিছু পিপিই মজুদ রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এ টু আই হতে আরও পাঁচশত সেট পিপিই ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এরই মধ্যে। 

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, এই মুহূর্তে পিপিই নিয়ে কোনো সংকট নেই ফরিদপুরে। চিকিৎসকগণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছেন। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় আমরা কমিউনিটি সেন্টারের ডাক্তারদের জন্যও পিপিইর ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের জন্য পিপিই ও গাড়ির ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়াই চিকিৎসা পেশার সাথে বিশেষত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কাজের জন্য যে সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের উপযুক্ত যানবাহন না থাকায় যাতায়াত করতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো মাত্রই জেলা প্রশাসন থেকে সকল উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জন্য মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করে দেয়া হয়েছে। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাযায়, জেলায় এই মূহুর্তে পিপিই নিয়ে কোন সমস্যা নেই। এর ভিতর ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিজ উদ্যোগে শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর ডায়বেটিক হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে পাচঁশতটি পিপিই হস্তান্তর করেন। তিনি যথেষ্ট পরিমানে বিষয়টি খেয়াল রাখছেন বলেও তারা জানান। এছাড়া ফরিদপুর শিশু হাসপাতাল ও ফরিদপুর ডায়বেটিক হাসপাতাল নিজস্ব উদ্যোগে পিপিই তৈরি করে তারা ব্যবহার করছে। সব মিলিয়ে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সবাঙ্গিন ভাবে প্রস্তুত রয়েছে। 

এসব বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পেশার সাথে বিশেষত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কাজের জন্য যে সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের উপযুক্ত যানবাহন না থাকায় যাতায়াত করতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। সিভিল সার্জন বিষয়টি আমাকে জানানো মাত্রই জেলা প্রশাসন থেকে সকল উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জন্য মাইক্রোবাস রিকুইজিশন করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে অথবা সর্দি কাশি ও জ্বর নিয়ে যে সমস্ত রোগী হাসপাতালে আসছেন, চিকিৎসক ও নার্সরা যাতে নির্ভয়ে তাদের শশ্রুষা করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় পিপিই দেয়া হয়েছে। একই সাথে প্রতিদিন জেলার মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট, মাইকিং, মাস্ক, সাবান সহ বিভিন্ন উপকরন দেয়া হয়েছে। একই সাথে হোম কোয়ারেন্টাইন না মানার কারনে অনেক বিদেশ ফেরতকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সহনশীল রাখার জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে এই দূযোর্গের সময়ে অতি দরিদ্রদের তালিকা করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার। আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি এরই মধ্যে তাদেরকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করার জন্য। অনেক জায়গায় সেটা শুরু হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, আমি জেলা বাসিকে অনুরোধ করে বলবো আপনারা সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে সেটি মেনে ঘড়ে থাকুন। আমরা জেলা প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছি সব সময়। একই সাথে বলবো কোন গুজবে কেউ কান দিবেন না। তিনি আরো বলেন, জেলার দুটি সরকারী হাসপাতাল ৮৫টি বেড প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে ২টি এ্যাম্বুলেন্স ও ৩৫টি আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৯টি উপজেলার খাদ্য সহায়তা বিতরন কর্মসূচিতে ৩১শত ০৬টি পরিবারের জন্য ১১৫ মেঃ টন খাদ্য ও নগদ ১৮ লক্ষ ১০হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। একই সাথে মজুদ রয়েছে ১৯২ মেঃ টন খাদ্য ও ২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা।  প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। এরপরেও আরো কিছু জায়গা নির্ধারন করে রাখা হচ্ছে আইসোলশনের জন্য বলে তিনি জানান। 

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে ৯১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৫৬৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়। এর ভিতর ছুটি দেয়া হয়েছে ৫৩৪ জনকে।