Opu Hasnat

আজ ১ এপ্রিল বুধবার ২০২০,

নদী বন্দর ও নৌ-যানসমূহ ধূমপানমুক্ত রাখতে নোটিশ জাতীয়

নদী বন্দর ও নৌ-যানসমূহ ধূমপানমুক্ত রাখতে নোটিশ

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ঢাকা নদী বন্দর ও নৌ-যানসমূহে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশে বলা হয়, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন,২০০৫(সংশোধিত, ২০১৩) এর ৪(১) ধারা মোতাবেক পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই পাবলিক প্লেস হিসেবে নদী বন্দর এলাকা ও পাবলিক পরিহন হিসেবে সকল নৌ-যান ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহন সর্র্ম্পূনরূপে নিষিদ্ধ। আইন অনুসারে ঢাকা নদী বন্দর ও সকল নৌ-যান; বিশেষ করে নদী বন্দর ভবন ধূমপানমুক্ত ঘোষনা করা হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ইউনিট প্রধানগণ, আইন-শৃংখলা বাহিনী, নৌ-পুলিশ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করবেন। 

এ প্রসঙ্গে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-পরিচালক (বন্দর) এ.কে.এম. আরিফ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ পাবলিক প্লেস হিসাবে ঢাকা নদী বন্দরকে ও  পাবলিক পরিবহন হিসেবে সকল নৌ-যান ধূমপানমুক্ত ঘোষনা ছাড়াও  লঞ্চের ক্যান্টিনে সিগারেট বিক্রি বন্ধ করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে বিআইডাব্লিউটিএ ও এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা/ এসোসিয়েশন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করে, যেমন- তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন নোটিশ; চিঠি প্রদান; ধূমপানমুক্ত সাইনেজ প্রদর্শন; নৌ-বন্দর এলাকায় তামাক বিরোধী বিলবোর্ড স্থাপন; মনিটরিং করা; এ সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা;  লঞ্চ, স্টিমার বা অন্যান্য জলযানসমূহে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা; যাত্রীদের সতর্ক ও সচেতন করতে মাইকিং করা।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে ধূমপানমুক্ত নৌ বন্দর ও নৌ-যান রাখতে কাজ করছে। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো: মোখলেছুর রহমান বলেন,  নৌ-বন্দর ও নৌ-যান পরোক্ষ ধূমপান থেকে বিশেষত অধূমপায়ী , নারী ও শিশুদের দূরে রাখতে এই ধরনের নোটিশ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখবে।

উল্লেখ্য,  গ্লোবাল এডাল টোব্যাকো সার্ভে- ২০১৭ অনুযায়ী, ২ লক্ষ ৫০ হাজার  (৪৪%) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন অনুযায়ী সকল পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ হলেও  আইন প্রতিপালনের ক্ষেত্রে জড়িত একাধিক অংশীদার যেমন, পরিবহন মালিক, চালক, শ্রমিক এবং যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার ব্যাপক অভাব রয়েছে। এসব কারণে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার হার মাত্র ১৭.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গণপরিবহনকে তামাকমুক্ত করতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে।