Opu Hasnat

আজ ৪ এপ্রিল শনিবার ২০২০,

স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না যাত্রীরা, পরিনতি ভয়ঙ্কর হওয়ার শঙ্কা রাজবাড়ী

স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না যাত্রীরা, পরিনতি ভয়ঙ্কর হওয়ার শঙ্কা

প্রানঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় বার বার নির্দেশনা দেওয়ার পরও কোন প্রকার তোয়াক্কা করছেন না দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটের লঞ্চে পারাপার হওয়া যাত্রী। সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রতিটি মানুষতে তিন ফুট দুরত্বে থাকতে বলা হলেও লঞ্চের যাত্রীরা তিন ইঞ্চিও মানছেন না। অনেকটা গাদাগাদি করে জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছে মানুষ।

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখাযায়, প্রতিটি লঞ্চে ১৫০ থেকে ১৭০ জন যাত্রী নেওয়া কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে অন্তত চার শতাধীক যাত্রীকে। এ ব্যপারে তদারকির যেন কেউ নেই। 

এ সময় লঞ্চে আসা ফরিদপুরগামি যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকার দশ দিন ছুটি দিয়েছে তাই নিরাপদ স্থান গ্রামের বাড়িই বেছে নিয়েছি। লঞ্চে চলাচলের নিয়মমের ব্যপারে চাইলে তিনি বলেন এখন কোন নিয়ম দেখার সময় নেই। জীবনের মূল্যে হলেও গন্তব্যে যেতে হবে। 

এদিকে দৌলতিদিয়া ঘাট এলাকায় লম্বা হচ্ছে ঢাকামুখি যাত্রীবাহি বাস ও পন্যবাহি ট্রাকের লম্বা সাড়ি। বিকেল নাগাদ দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা খুলনা মহা সড়কের দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় আটকে পরেছে অন্তত চার শত  যানবাহন।

জানাগেছে, ঘাতক করোনা ভাইরাস সংক্রামন প্রতিরোধে গণ পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। সেই সাথে নৌপথে নৌযান পারাপার সীমিত করেছে। তবে পন্যবাহি ট্রাক ও জরুরী যানবাহন পারাপারের জন্য চালু আছে ফেরি সার্ভিস। জরুরী যানবাহন পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করায় ওই সকল ফেরিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী পারাপার হচ্ছে। এছাড়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় লঞ্চে প্রচন্ড চাপ বেড়েছে যাত্রীদের। লঞ্চে ঠাসাঠাসি করে নদী পারাপার হওয়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রামন ঝুকি রয়েই গেছে। এতেকরে কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য সফল না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র পোর্ট ইন্সপেক্টর ফরিদুল ইসলাম জানান, দুপুরে লঞ্চ বন্ধের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশনা পেলেও যাত্রী চাপের কথা ভেবে কর্র্তৃপক্ষ আবার লঞ্চ চালানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে যেকোন সময় বন্ধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। 

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বস্তাবায়নে ইতিমধ্যে যাত্রীবাহি বাসের জন্য নির্ধারিত টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পন্যবাহি ট্রাকসহ জরুরী যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রাখতে সীমিত আকারে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে পুরোপুরি ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর