Opu Hasnat

আজ ৪ এপ্রিল শনিবার ২০২০,

প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি, এমদাদ স্বাভাবিক জীবন চায় সুনামগঞ্জ

প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি, এমদাদ স্বাভাবিক জীবন চায়

সুনামগঞ্জের ছাতকে জাউয়াবাজার কলেজের একাদ্বশ শ্রেনীর ছাত্র এমদাদুর রহমান (১৮) স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে চায়। সে এক বছর বয়সে অসুস্থতার কারণে পঙ্গু হয়ে পড়ে। হাঁটতে শেখার পর থেকে এক পায়ে ভর করেই হাঁটছে সে। দেশের প্রখ্যাত একজন অর্থোপেডিক চিকিৎসক বলেছেন, উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সে স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে পারবে। এতে খরছ হবে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

এমদাদের পিতা মতিউর রহমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কাল থেকেই আওয়ামী লীগের কর্মী। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ হলেও মতিউর রহমান আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে ৫০ বছর ধরে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে আসছেন। 

উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিউর রহমান মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর তনয়া তার আকাঙ্খা পূরণ করবেন। তার বড় ছেলেটি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে সহযোগীতা করবেন তাঁর নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

মতিউর রহমান আরো বলেন, সামান্য জমি-জামা চাষাবাদ করে যা পাই তা দিয়েই সংসার চালাচ্ছি। ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীেেগর কর্মী হিসাবে দলীয় প্রচারণায় যুক্ত হয়েছিলাম। সেই থেকে এখনো স্থানীয় এমন কোন কর্মসূচী নেই আমার অংশগ্রহন ছাড়া হয়েছে। ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর অনেকে পরিচয় লুকিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। আমি তা করিনি। আওয়ামী লীগের হয়ে এলাকায় কাজ করেছি। রাজনীতি করতে গিয়ে বিলম্বে করেছি বিয়ে। ২ ছেলে ও ২ মেয়ের বাবা হয়েছি। বড় ছেলেটি পঙ্গু। জন্মের পর এক বছর বয়সে হাঁটু ফুলে গিয়েছিল। এর পর সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ বার অপারেশন করার পরও ভাল হয়নি সে। ছোট ছেলে মুহিতুর রহমান সপ্তম শ্রেনী, মেয়ে শিমু পঞ্চম ও মাঈসা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। 

মতিউর রহমান আরও বলেন, মিছিল-সংগ্রাম আন্দোলন করে কয়েক যুগ কাটিয়ে দিলেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। আমার অনুপস্থিতিতে সংসার চলবে কীভাবে এই চিন্তায় পেয়েছে এখন আমায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের নিকট গিয়েছিলাম। তিনি সাধ্যমত সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সহায়তায় রাজধানী লালামাটিয়ার বারী ইলিজারভ অর্থোপেডিক সেন্টারে ছেলেটিকে নিয়ে দেখানোর পর অধ্যাপক ড. মো. মোফাখখারুল বারী প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বলেছেন, আমার ছেলে এমদাদুর স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবে। তবে এ জন্য ১০ লাখ টাকার মতো খরচ লাগবে। এর পর থেকেই ভীষণ কষ্টে আমার দিন কাটছে। কষ্ট হলো বাবা হয়ে টাকার জন্য ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছিনা। কিন্তু ভরসা ছাড়ছিনা আমি। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে কাটিয়েছি। আমার দল ক্ষমতায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি পৌছালে নিশ্চয়ই তিনি সহায়তার হাত বাড়াবেন। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর