Opu Hasnat

আজ ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের নামে এজাহার দায়ের নড়াইল

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের নামে এজাহার দায়ের

নড়াইলের মুলিয়া ইউনিয়নের শালিয়ারভিটায় হতদরিদ্রের সরকারি ঘর নির্মানে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর নামে সদর থানায় এজহার দায়ের হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) এজহার দায়ের করেন মুলিয়া ইউনিয়নের কোড়গ্রামের বাসিন্দা ও মুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান বিপুল বিশ্বাস।  

মামলার এজাহারে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ (টি,আর) কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনশীল বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে পিআইসি’র মাধ্যমে গৃহহীন হতদরিদ্রদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রতি ঘর ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় নড়াইল সদরে ১৩টি ইউনিয়নে ৩৮টি ঘরের জন্য মোট ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৬৮০ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এ প্রকল্পের ১টি ঘর মুলিয়া ইউনিয়নের শালিয়ারভিটা গ্রামে নির্মিত হচ্ছে। শালিয়ারভিটা গ্রামের বিধবা  মিরা রানী বিশ্বাসকে এ ঘর দেয়া বাবদ মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।  হাতে পায়ে ধরে অনেক অনুরোধ করায় চেয়ারম্যান ২ হাজার টাকা কম অর্থাৎ ৪৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। চেয়ারম্যানকে এ টাকা দিতে তিনি ভাইদের কাছ থেকে এবং কয়েকজন থেকে ধার ও সুদে টাকা এনেছেন। 

এজহারের ব্যাপারটি নিশ্চিত করে সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, গুরুতর এ অপরাধের বিষয়টি দুদকে হস্তান্তর করা হবে। দুদক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। 

ভুক্তভোগি মিরা রানীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা দেয়ার কথা স্বিকার করে জানান, টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান ঘরটা আরোও বড় ও ভালো করে করছেন। নড়াইল সদরের পিআইও সৈয়দ আজিম উদ্দিন জানান, মিরা রানী ব্যক্তিগত ভাবে যে টাকা দিয়েছে, তা-ওই ঘরের পিছনেই ব্যয় করা হয়েছে। আর যেহেতু আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে এজহার দায়ের হয়েছে, এখন বিষয়টি দদুক দেখবে। দুদক ফাইলপত্র দেখে যে ব্যবস্থা নেয়, তাই হবে। 

নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম জানান, মিরা রানী টাকা দেয়ার কথা স্বিকার করে জানিয়েছে ঘরটি প্রশস্ত ও আরোও উন্নত করার জন্য কিছু টাকা দিয়েছে। তার দেয়া টাকা ঘরেই ব্যয় করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে সেটাও পরিস্কার হয়ে যাবে। জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা জানান, মামলায় দোষি সাব্যস্ত হলে তার বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া তার বিরূদ্ধে অভিযোগ উঠায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে। 

এদিকে মামলার বাদি মুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান বিপুল বিশ্বাসের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, সমাজসেবার নামে হতদিরদ্র বিধবা মহিলার সাথে এতোবড় প্রতারনা মেনে নেয়া যায় না। ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারির ঘুষ কেলেংকারীর জন্য একদিকে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে  অপরদিকে হতদরিদ্ররা আর্থিক ভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তাই তার বিরূদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। 

মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, মিরা রানীর অনুরোধে তার নিকট হতে টাকা নিয়ে তার ঘরটি আরোও প্রশস্ত ও সুন্দর করে করা হচ্ছে। এ নিয়ে মামলার কি আছে ?