Opu Hasnat

আজ ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

নড়াইলে ইমামের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নড়াইল

নড়াইলে ইমামের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা

নড়াইল আদালতে মসজিদের ইমামের বিরূদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। গৃহবধু আছিয়া খাতুন (১৮) কে যৌতুকের দাবিতে নির্মম নির্যাতন ও শিশু সন্তান কেড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা হয়েছে। নড়াইল সদরের বিছালী গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের মেয়ে ভুক্তভোগি আছিয়া খাতুন এ মামলাটি করেছেন স্বামী মোঃ আব্দুল হান্নান শেখ (২৬) এর নামে। আসামী হান্নান শেখ যশোরের অভয়নগর থানার বর্ণি গ্রামের হবিবর শেখ এর ছেলে। 

রোববার (২২মার্চ) নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দেয়া মামলার বিবরন ও ঘটনার সাক্ষী সূত্রে জানা গেছে, আছিয়ার সাথে পার্শ্ববর্তী বণী গ্রামের আব্দুল হান্নানের মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের সময় হান্নান নানা কৌশলে শ্বশুরবাড়ি হতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার যৌতুক নেয়। বিয়ের কিছু দিন পর আছিয়া জানতে পারে তার স্বামী হান্নান পর নারীতে আসক্ত। তাকে নানা ভাবে বুঝিয়ে ভালো করার চেষ্টা করে আছিয়া ব্যার্থ হয়। স্বামীর পরকিয়ায় বাঁধা দেয়ায় সে আছিয়াকে মারধর করে বাবার বাড়ি তাড়িয়ে দেয়। এমনকি সাফ জানিয়ে দেয় ২ লাখ টাকা না দিলে সে স্ত্রী আছিয়াকে গ্রহন করবে না। এ ঘটনার কয়েকদিন পর আছিয়ার ভাই জাকারিয়া অনেক অনুরোধ করে আব্দুল হান্নানকে তাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রন করে। তার অনুরোধে হান্নান গত ১৬ মার্চ শ্বশুর বাড়ি যায়। পরদিন সকালে সে আছিয়াকে জানায় ২ লাখ টাকা না দিলে তাকে বাড়িতে নেয়া হবে না। এই বলে শিশু সন্তান হামজাকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় আছিয়া তার সাথে যাওয়ার জন্য পিছ পিছ বের হলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। মারপিটে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে আছিয়াকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এ ঘটনায় গত ১৮ মার্চ নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে বাদি ২২ মার্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসামী আব্দুল হান্নান কোন কাজ করে না। স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামের দ্বায়িত্ব পালন করে। প্রতিবেশী এক মহিলার সাথে তার পরকিয়া প্রেম রয়েছে। স্থানীয়রা আরোও জানান, হান্নান খুব খারাপ চরিত্রের মানুষ। প্রায়ই স্ত্রীকে নানা অজুহাতে মারপিট করে। হত্যার হুমকি দেয়। এসব  নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তাকে মসজিদের ইমামতির দ্বায়িত্ব হতে কিছু দিনের জন্য বাদ দেয়া হয়েছে। ভালো হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সে ভালো হয়নি।