Opu Hasnat

আজ ৩১ মার্চ মঙ্গলবার ২০২০,

করোনা প্রতিরোধে সৈয়দপুরে তৈরি হচ্ছে মাস্ক, কমমূল্যে সরবরাহ নীলফামারী

করোনা প্রতিরোধে সৈয়দপুরে তৈরি হচ্ছে মাস্ক, কমমূল্যে সরবরাহ

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সৈয়দপুর বাজারে তীব্রভাবে মাস্ক সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রায় ২০টির মতো ক্যাপ তৈরি কারখানায় ক্যাপ না তৈরী হয়ে তৈরি হচ্ছে মাস্ক। সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর এসব মাস্ক বাজারে সরবরাহ হচ্ছে খুবই কম মূল্যে। 

সরেজমিনে সৈয়দপুর শহরের উপকন্ঠে চৌমুহনী বাজার এলাকায় গেলে দেখা যায়, মাস্ক তৈরির কাজে ব্যস্ত  শ্রমিকরা। তারা বলেন, দেশে করোনা ভাইরাস এসেছে। এর সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে। বাজারে মাস্ক সংকটের কারণে আমরা ক্যাপ উৎপাদন বন্ধ রেখেছি। সে স্থলেই তৈরি করা হচ্ছে মাস্ক। এসব মাস্ক উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে বলে জানান তারা।

দেলোয়ার হোসেনের কারখানায় চলছে ২০টি স্বয়ংক্রিয় মেশিন। ওই মেশিনে মাস্ক তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে ব্যাপক চাহিদা। আমরাও মনে করলাম। মানুষের সেবায় কাজে লেগে পরি। কেননা মানুষের জীবন রক্ষা মহান কাজ। ফলে ক্যাপ তৈরি বন্ধ রেখে মাস্ক বানাচ্ছি। প্রতিদিন তার কারখানায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মাস্ক তৈরি হচ্ছে। পাইকাররা এসব নিয়ে যাচ্ছেন কিনে। ১৩ থেকে ২০ টাকায় এসব সরবরাহ করা হচ্ছে। 

একই এলাকার মেহেদি হাসানের কারখানাতেও চলছিল মাস্ক তৈরির কাজ। এর পাশের কারখানার মালিক জাবেদুল হক মন্ডল নিজেই ডাইসে কাপড় কাটতে বসেছেন। নেট, রেক্সিন, সুতি কাপড়, টিসু ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে মাস্ক বানাচ্ছেন তারা। জাবেদুল হক মন্ডল জানান, এত অর্ডার পাচ্ছি। তাই রাতদিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আমাদের কারখানায় মেশিন কম, লোকবল কম। তাই বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। আমরা জানি নভেল করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে এ আশংকায় এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের উদ্যোগ।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় সৈয়দপুুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) পরিমল কুমার সরকারের সাথে। তিনি বলেন, সৈয়দপুরের কয়েকটি কারখানায় মাস্ক তৈরি হচ্ছে। এটি অত্যন্ত ভালো খবর। এসব মাস্ক চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কারখানার মালিকদের প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো, মুনাফার আশায় নয়, স্বল্পমুল্য এসব সরবরাহ করুন। যাতে করে আমরা অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারি।