Opu Hasnat

আজ ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

ঝিনাইদহে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৪৮৪ জন

ডাক্তার-নার্সদের নেই বিষেশায়িত পোষাক, জ্বর নিয়ে দুই চিকিৎসক ছুটিতে ঝিনাইদহ

ডাক্তার-নার্সদের নেই বিষেশায়িত পোষাক, জ্বর নিয়ে দুই চিকিৎসক ছুটিতে

ঝিনাইদহের সরকারী বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে করোনা প্রতিরোধে ডাক্তার ও নার্সদের বিষেশায়িত কোন পোষাক নেই। ফলে চিকিৎসকরা জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলায় কোন করোনা আক্রান্ত রোগী না থাকলেও সর্বক্ষন উদ্বোগ আর উৎকন্ঠায় দিন কাটছে চিকিৎসা কর্মীদের। কবে নাগাদ বিষেশায়িত পোষাক আসবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আইয়ুব আলী। 

এদিকে ঝিনাইদহে নতুন করে ৫১ জন বিদেশফেরতসহ ৫৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত সারা জেলায় মোট ৪৮৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো। এদিকে কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩৭ জন বিদেশফেরতসহ ১৮৯ জনকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা কর্মীদের কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ডিউটি শেষ করে বাড়িতে গিয়ে ঠান্ডা, কাশি ও জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুইজন চিকিৎসক। বর্তমানে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। 

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আয়ুব আলী বলেন, আমরা শুধুমাত্র করোনা চিহ্নিত ব্যক্তি বাদে অন্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে দিচ্ছি না। শুধু মাস্ক ব্যবহার ও অন্যান্য স্যানিটাইজেশনের কথা বলছি। যে দুইজন চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদেরকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। সিজনাল চেঞ্জের কারণেও তাদের এই সমস্যা হতে পারে। 

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিকেল অফিসার বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতেও কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করছে না সেটা বুঝতে পারছি না। আমাদের দুইজন সহকর্মী অসুস্থ হয়েছে, আমরাও তো হতে পারি। যদি আমরা সুরক্ষিত না থাকি তাহলে কেমন করে চিকিৎসা সেবা দেব? কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলা চলতে থাকলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।