Opu Hasnat

আজ ১ এপ্রিল বুধবার ২০২০,

ভোট বন্ধে একজন ভোটারের খোলা চিঠি মতামত

ভোট বন্ধে একজন ভোটারের খোলা চিঠি

প্রিয় প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন এবং গণ্যমাধ্যমকর্মী,                 

শুভেচ্ছা জানবেন। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমরা কেউই ভাল আছি এটি আশা করা মোটেই ঠিক নয়। আমরা অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি যখন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারা পৃথিবীর মানুষ হিমশিম খাচ্ছে আতংকিত হয়ে সেখানে আমরা বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উপ-নির্বাচনের আয়োজন করছি। সংবিধান রচিত হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য এবং সংবিধানসম্মত সকল আইনও প্রয়োগ হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সকল নাগরিকের কল্যাণের জন্য। আইন পরিবর্তন প্রয়োজন হলে আইনপ্রণেতাদের সেটি বিবেচনায় নেয়া উচিত। কিন্তু আমরা খুবই উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যেখানে ব্যস্ত এবং উদ্বিগ্ন হয়ে করোনা প্রতিরোধে গণজমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সেখানে আমরা উপ-নির্বাচনের আয়োজন করছি নির্বোধের মত। যেখানে প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী সকলেই দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের স্বীকার হতে পারেন। ইতিমধ্যে আমরা জানি প্রাণভয়ে আতংকে নিষেধ স্বত্ত্বেও আমাদের প্রবাসী ভাই বোনদের অনেক বড় একটা অংশ (৫৫ দিনে ৬ লক্ষ ২৪ হাজার) দেশে চলে এসেছেন। তারা ইতিমধ্যে তাদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসীসহ পরিচিত অপরিচিত অনেকের সংস্পর্শে এসেছেন। আর আমাদের দেশে ঈদ পূজার চেয়েও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে সকল ধর্মের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সেকারণেই এটা অনুমান করাই যায় আমরা কি পরিমাণ ঝুঁকিতে রয়েছি। আমরা নিশ্চয়ই ইতালির মত করোনা ভাইরাসকে অবহেলা করার পরিণতি ভোগ করতে চাইনা। যেহেতু সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করেছে, পাবলিক পরীক্ষা পিছিয়েছে, লকডাউন করছে, গণপরিবহন চলাচল সীমিত করছে, ধর্মীয় গণজমায়েতও নিরুৎসাহিত করছে, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনোর ব্যাপারে নাগরিকদের উৎসাহিত করছে না সেহেতু আমরা কেন উপ-নির্বাচনকে উৎসাহিত করে খাল কেটে কুমির আনছি নিজেদের জন্য। 

এমতাবস্থায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ২১ মার্চের মধ্যে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ এবং বাগেরহাট-৪ আসনের উপ- নির্বাচন করতে হলেও চট্টগাম সিটি নির্বাচন, বগুড়া-১, যশোর-৬ উপ-নির্বাচন দুই সপ্তাহ পেছানো সম্ভব। কেননা ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ এবং ২১ জানুয়ারি যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করেন ৯০ দিন হবে ১৮ এপ্রিল এবং ২১ এপ্রিল। 

তাই জাতীয়স্বার্থে আগামী ২৯ মার্চ নির্বাচন পেছানোর জোর দাবি জানাচ্ছি সকলের নিরাপত্তা ও সুস্থতার কথা চিন্তা করে কেননা প্রচার প্রচারণা ও গণজমায়েত ছাড়া নির্বাচন করা সকল প্রার্থীর জন্যই দুস্কর। ইতিমধ্যে ২১ মার্চ পর্যন্ত গণমাধ্যমে বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ, বিএনপিপ্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে।

আমি মোঃ সিজুল ইসলাম বগুড়া -১ আসনের সোনাতলা উপজেলার একজন সচেতন নাগরিক ও ভোটার হিসেবে নির্বাচন কমিশনের কাছে ২৯ মার্চ উপ-নির্বাচন পেছানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং প্রার্থীদের প্রচারণা স্থগিত করার অনুরোধ করছি। তা না হলে করোনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে আগামী ২৯ মার্চ আমি ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিচ্ছি।

মোঃ সিজুল ইসলাম
ভোটার, বগুড়া-১