Opu Hasnat

আজ ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ২০২০,

মুন্সীগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু হবে কবে ? স্বাস্থ্যসেবামুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু হবে কবে ?

১০০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সাথেই গড়ে তোলা হয়েছে ২৫০ শয্যার নতুন ভবন। নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে সেই ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। তারপর আজ অবধি আর চালু করা হয়নি।

বারবার আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। চালু হবে হবে করেও  হাসপাতালটি  ৭ বছরেও চালু হয়নি। সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস বলেছেন, আমি জানি না, কবে এটা চালু হবে তা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ই জানাতে পারবেন। বর্তমান মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন ২০২০ সালের জুন মাসেই চালু হবে।  

বর্তমানে ১শ’ শয্যার হাসপাতালেই  চিকিৎসা চলছে। দুঃখজনক সত্য এই যে,  তাও চলছে ৫০ শয্যার লোকবল দিয়ে। ফলে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

জানা গেছে, নতুন ভবনটি নির্মিত হয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রজেক্টের আওতায়। ভবনটির কাজ যেন শেষ হয়েও হচ্ছেনা। পাঁচ তলা ভবনটির চার পাশ দেয়াল ঘেরা। প্রতিটি তলার কক্ষের দরজা-জানালার কাজ শেষ হয়েছে। তবে কোন কক্ষে বাতি ও পাখা লাগানো হয়নি। লিফটের জায়গাও ফাঁকা। প্রতিটি তলা ও কক্ষে ধুলাবালির আস্তরণ জমে আছে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুরানী এন্টারপ্রাইজ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ২ কোটি ৭৭ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা ব্যয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্বাবধায়ক জানান, এখনও ভবনে পানি-গ্যাস লাইন, ইলেকট্রিক ও লিফটের কাজ করা হয়নি। এগুলো আমাদের কাজ নয়। আড়াই বছর আগে কাজ শেষ হলেও গণপূর্ত অধিদফতর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হাসপাতালটি বুঝে নেননি।

স্থানীয় লোকজন বলেন, গত দুই বছর ধরেই শুনছি নতুন হাসপাতালটি সামনের মাসে চালু করা হবে। তাদের দাবি অবিলম্বে নতুন হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু করা হোক। কবে এই নতুন হাসপাতাল থেকে মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে তা কেউ জানে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সু-স্পষ্ট করে কিছু বলছে না।

এদিকে, প্রায় ১৫ লাখ জনসংখ্যার এই জেলায় ১শ’ শয্যার হাসপাতালটিতেও ব্যহত হচ্ছে রোগীদের সেবা। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এখানে সেবা নিতে আসেন গড়ে আট থেকে নয় শ’ রোগী। দিন যত যাচ্ছে রোগীর চাপও এখানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ভর্তি রোগীদের শয্যার বাইরে হাসপাতালের বারান্দা ও কক্ষের মেঝেতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে দেখা গেছে।

হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিলিং ফ্যান নেই। যেগুলো আছে সেগুলোও ঠিকমত চলছে না। হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহার অনুপোযোগি। পানির ব্যবস্থা নেই। রোগীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের ময়লা স্তুপ আকারে জমা হয়ে আছে। হাসপাতালের তিনটি এ্যাম্বুলেন্সের একটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দুটি সচল থাকলেও কিছু দিন পরপর মেরামত করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের অবস্থান নেওয়া একজন রোগীর স্বজনরা বলেন, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি থাকতে বলে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মহিলা ওয়ার্ডে অনেক রোগী। আফসোসের ব্যাপার হচ্ছে, একটু আগে যেখানে কয়েকটা বেড ছিল এখন তাও নেই। ভিতরের পরিবেশটা খুব খারাপ। তাই বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস বলেন, নতুন হাসপাতাল কবে চালু হবে, কি ভাবে হবে আমার এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই। আমাদের (পুরোনো) হাসপাতালটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল ছাড়া কোন রকমে চলছে। নতুন ভবন চালু করতে হলে, নতুন জনবল নিয়োগ দিতে হবে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ই এখন বলতে পারবে হাসপাতালটি কবে চালু করা হবে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নতুন জনবল নিয়োগ দিয়ে গত বছরের (২০১৯ সালের) জুন মাসে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু নতুন ভবনটি কেন চালু করা হচ্ছে না তা দ্রুত মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইবো।