Opu Hasnat

আজ ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

ফরিদপুরে টমেটো চাষে এক কৃষকের দিন বদলের গল্প কৃষি সংবাদফরিদপুর

ফরিদপুরে টমেটো চাষে এক কৃষকের দিন বদলের গল্প

ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নে শিবরামপুর এলাকার চাষী বিপুল ঘোষ টমেটো চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। আর টমেটো চাষের মাধ্যমে তিনি তার কৃষি স্থাপনায় এক বিপুল পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে তার দিন বদল শুরু হয়েছে। প্রায় ছয় একর জমিতে তিনি ১৬ জাতের টমেটো চাষ করেছেন। এর মধ্যে নবেল, মিন্টু সুপার, ইস্পাহানী দিপালী, বিপুল প্লাস, চামেলি, বহুবলী, বিজলী, রাজাবাবু, সুমো, এফ ওয়ান সুপার অন্যতম।

বিভিন্ন জাতের রোপন করা টমেটোর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হয়েছে ইস্পাহানী দিপালী। ওই জাতের টমেটো এক একটি ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বিশিষ্ট হয়েছে। আর এই টমেটোর এতবড় আকার দেখে ইস্পাহানী কোম্পানী ক্ষেত থেকে টমেটো সংগ্রহ করে অষ্টোলিয়া পাঠিয়েছে।   

শুক্রবার দুপুরে শিবরামপুর এলাকায় বিপুল ঘোষের মালিকানাধীন বিপুল এ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে টমেটো উৎপাদনের এক মহাযজ্ঞ চোখে পড়ে।

৫৪ টি প্লটে ১৬ জাতের ওই টমেটোর প্রতিটি গাছে ব্যাপক ফলন ধরেছে। ফলের ভারে গাছগুলি নুইয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা বাশের চটা দিয়ে বেধে গাছগুলি সোজা করে দিচ্ছেন। অনেক গাছে টমেটো পেকে লাল হয়ে রয়েছে। এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। 

৫৪টি প্লটে আনুমানিক ৪৪ হাজারটি টমেটোর গাছ রয়েছে। ওই খামারের ব্যবস্থাপক যশোর সদরের চুরামানকাঠি মহল্লার বাপ্পী ঘোষ (৪১) বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩২ ক্যারেট টমেটো বিক্রি করা হয়। এক ক্যারেটে ২৬ কেজি টমেটো ধরে। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৮৩২ কেজি টমেটো বিক্রি করা হচ্ছে।

গত কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে অগ্রহাণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টমেটোর চারা রোপন করা হয়। গত পৌষ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই টমেটো বাজারজাত করা শুরু হয়। বৈশাখ মাস পর্যন্ত এ বিক্রি চলবে।

জমি চাষ করা, সেচ দেওয়া, সার দেওয়া, ছত্রাক নাশক ব্যবহার, করাসহ যাবতীয় কাজসহ এক বিঘ জমি চাষ করতে বিপুল ঘোষের খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে দুই হাজার ৮০০টি গাছ রয়েছে। প্রতিগাছে ১০ কেজি করে টমেটো উৎপন্ন হবে বলে ধারনা করছেন তিনি। সে হিসেবে প্রতি বিঘা জমিতে ২৮ হাজার কেজি টমেটো উৎপন্ন হবে। গড়ে প্রতি কেজি টমেটো ১৫ টাকা করে বিক্রি করলে প্রতি বিঘা জমিতে চার লাখ ২০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি হওয়া সম্ভব। এ থেকে খচর বাবদ ৪০ হাজার টাকা বাদ দেওয়া হলে প্রতি বিঘা জমি থেকে বিপুল ঘোষের তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা নীট লাভ হওয়ার কথা।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্ত্তী বলেন, বিপুল ঘোষ বিভিন্ন জাতীয় সবজির বড় একটি খামার করেছেন। ওই খামারে উল্লেখ করার মত টমেটোর আবাদ করেছেন তিনি। তবে প্রথম দিকে কিছু টমেটো গাছ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। এখন সে সংকট কাটিয়ে উঠেছেন তিনি । আমরাও ওই খামারটি তদারকি করছি।

বিপুল ঘোষ বলেন, তিনি ১৯৮২ সাল থেকে কৃষির কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষির সাথে যুক্ত থাকায় তার মনে হয়েছে প্রতি ইউনিয়নে মাটি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হলে এবং কৃষি বিভাগের বিএস’গণ (ব্লক সুপারভাইজার) যদি সঠিক ভাবে তদারকি করেন তাহলে দেশের কৃষি উৎপাদনে যুগান্তকরী পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগকে আরো বেশী কৃষকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।