Opu Hasnat

আজ ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

পতিতাবৃত্তি করে ঋণ শোধ করার তাগিদ সিও এনজিও’র মাঠ কর্মীদের! ঝিনাইদহ

পতিতাবৃত্তি করে ঋণ শোধ করার তাগিদ সিও এনজিও’র মাঠ কর্মীদের!

সময় মতো ঋণ শোধ না করায় ঝিনাইদহের সিও এনজিও’র মাঠ কর্মীরা একজন টাইফায়েড জ্বরে আক্রান্ত ঋণ গ্রহীতাকে পা দিয়ে দলিয়ে চটকিয়ে গুরুতর জখম করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ মার্চ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামে। এই গ্রামের শামছুল ইসলামের ছেলে আক্তারুল ইসলাম (২৮) কে মাত্র দুই হাজার টাকার জন্য সিও এনজিও’র মাঠ কর্মীরা অকথ্য ভাবে শারিরীক নির্যাতন করে। নির্যাতনের ফলে তাকে ৩ দিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় আক্তারুল লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ার এনজিও সিও’র গান্না বাজার শাখার মাঠ কর্মী সাইফুল ইসলাম, কণক রহমান, হিসাব রক্ষক আসলাম, ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম, ম্যানেজার আব্দুল লতিফ ও অফিসার হাসানকে আসামী করা হয়েছে। 

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আক্তারুল ওই এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করেন। প্রতি সপ্তাহে তাকে ৫৫০ টাকার কিস্তি দিতে হয়। এক মাস টাইফায়েড জ্বরে আক্রান্ত থাকার কারণে আক্তারুল কিস্তি দিতে পারেনি। এতেই বিগড়ে যায় এনজিও কর্মীরা। 

আক্তারুলের বড় ভাবি গান্না ইউনিয়নের মেম্বর নার্গিস বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন এনজিও কর্মীরা বাড়ির উপর গিয়ে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ এবং আক্তারুলের স্ত্রী জেসমিন খাতুনের উদ্দেশ্যে পতিতাবৃত্তি করে স্বামীর নেওয়া কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বলে। এ কথার প্রতিবাদ করলে এনজিও কর্মীরা তার দেবর আক্তারুলকে ব্যাপক মারধর করে। তিন দিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহনের পর আক্তারুল ১১ মার্চ বাড়ি আসে। মহিলা মেম্বর আরো জানান, এনজিও কর্তৃপক্ষ তার দেবরকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপুরণ দিতে সম্মত হয়েছে। ৫ দিন পর টাকা প্রদান করবে। 

এনজিও কর্মীদের নির্যাতনের শিকার আক্তারুল জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি মিমাংশার জন্য গান্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিথা দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি যে বিচার করবেন তাই আমি মাথা পেতে নেব। 

স্থানীয় বেতাই পুলিশ ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চেয়ারম্যান সমঝোতা করার উদ্যোগ গ্রহন করায় আমরা কিছুদিন ঘটনা পর্যবেক্ষন করছি। নির্যাতিত উপযুক্ত বিচার না পেলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। 

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ প্রশাসনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সিও এনজিও কর্তৃপক্ষ সারা জেলায় ঋন দিয়ে চড়া হারে সুদ আদায় করছে। কিস্তির টাকা দিতে না পারলে গ্রামের হতদরিদ্র মহিলাদের নামে মামলা করে তাদের পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে জেলে ভরছে বলে অহরহ অভিযোগ রয়েছে। সিও সংস্থার শাখা অনুযায়ী সমিতির সদস্য সংখ্যায় গরমিল রয়েছে। এনজিও’র নামে ঋন নিয়ে ব্যক্তি নামে জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে সিও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অসংখ্য মামলা দিয়ে ফাসানো হয়েছে সিও সংস্থার কর্মীদেরকে। 

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সমাজ সেবা কর্মকর্তাদের অভিমত হচ্ছে, কোন এনজিও এমন আচরণ করতে পারে না। করলে তার নিবন্ধন বাতিল হবে।