Opu Hasnat

আজ ২২ জুলাই রবিবার ২০১৮,

আর্থিক ও মানসিক কষ্টে দিন পার করছে বড়াইগ্রামের ৩২ মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিবার্তানাটোর

আর্থিক ও মানসিক কষ্টে দিন পার করছে বড়াইগ্রামের ৩২ মুক্তিযোদ্ধা

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ৩২ মুক্তিযোদ্ধার সরকারী মাসিক ভাতা স্থগিত করে দেয়ায় হতাশা, আর্থিক ও মানসিক কষ্টে দিন পার করছে তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। ১৯৭১ সালে ২৬ শে মার্চ তারিখে ১৩ বছর পূর্ণ না হওয়ায়  এ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারী ভাতা  ও সুযোগ-সুবিধা স্থগিত রেখেছে সরকার। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, তৎকালীন সময়ে বয়স কমিয়ে অনেকেই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। যার কারণে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলেও ওই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাতাভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসলেম উদ্দিন জানান, বয়স কমিয়ে স্কুলে ভর্তি হওয়ার অনুশীলন বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালে উদ্যমী ও প্রতিবাদী কিশোররা দেশ রক্ষায় জাপিয়ে পড়েছিলো। অনেক সাহসী কিশোর বিভিন্ন ধরণের ভ‚মিকা রেখেছে যুদ্ধাহতদের সেবা করতে, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতে। আবার অনেকেই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। দেশকে বাঁচাতে তখন কেউ বয়সের হিসেব করেনি। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান বা রাষ্ট্র কর্তৃক ভাতা ও সুবিধা প্রাপ্তিতে বয়সের হিসেবেটা যুক্তিসঙ্গত হলেও তখনকার প্রেক্ষাপটটা চুল-চেরা বিশ্লেষণ করে আরও যতœশীলভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সরকারী ভাতার তালিকা থেকে স্থগিত করা যেতো বলে তিনি মনে করেন। 

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা  মো. মেহের আলী জানান, হঠাৎ করে ঈদ-উল-আযহার আগে এই ভাতা স্থগিত করা হয়। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে মাসিক ভাতা আগষ্ট মাসে ৫ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকায় উন্নিত করে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা আশার আলো দেখেছিলো এবারের  ঈদটা ভালই কাটাবে। কিন্তু সে আশা তাদের আর পূর্ণ হলো না। সরকারী এই স্থগিত আদেশ পাওয়ার পর  তাদের ঈদ-আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। হতাশা ও কষ্ট নিয়ে তারা ঈদটাকে পার করলেও সেই হতাশা, অর্থকষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে। উপজেলার ছাতিয়ান গাছা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা  ওসমান আলী জানান, প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগেই মনে হয় পায়ের নীচে মাটি নেই। অথচ এই মাটি রক্ষায় যুদ্ধ করেছি। মাটির মানুষকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেয়ার জন্য যুদ্ধ করেছি। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, সরকার কী বুঝে কোন ধরণের যাচাই-বাছাই করে এই স্থগিত সিদ্ধান্ত নিলো তা বোঝার ক্ষমতা আল্লাহতালা হয়তো আমাদের দেননি। 

বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো, রুহুল আমিন জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের  ২ সেপ্টেম্বর তারিখের ৩৪০ নং স্মারকে জারীকৃত পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলার ২২৬ জন ভাতাভোগী  মুক্তিযোদ্ধার গেজেট, জন্ম সনদ, মুক্তিবার্তা/ভারতীয় তালিকাসহ সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ক্রটি/গড়মিল পরিলক্ষিত হয়েছে এমন ৩২ জন ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধার নাম সরকারী ভাতার তালিকা থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট ও উপজেলা ইউনিটের প্রতিনিধি সমম্বয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেই সভায় এই স্থগিত বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। 

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রাপ্তির তালিকা থেকে বাদ পড়া বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, দীর্ঘদিন চাকুরী করার আশায় তাদের অভিভাবক প্রকৃত বয়স কমিয়ে দিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেও শুধু মাত্র অভিভাবকের ভুলে মুক্তিযুদ্ধ করেছি কিনা এই সন্দেহের তীর আমাদের দিকে তুলে ধরায় আমরা সবচেয়ে বেশী মানসিক কষ্ট পেয়েছি। আর সেই সাথে সরকারী ভাতা বন্ধ করায় এই যন্ত্রণা কত বেশী বেড়ে গেছে তা দেখানোর সাধ্য আমাদের কারও নেই। এ সকল ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধারা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের এই মানসিক কষ্টের যন্ত্রণা বিবেচনায় এনে তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন । 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর