Opu Hasnat

আজ ১০ জুলাই শুক্রবার ২০২০,

ঠাকুরগাঁওয়ে বৈষম‌্যরে শিকার নারী শ্রমিকরা! ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে বৈষম‌্যরে শিকার নারী শ্রমিকরা!

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও : সারাদেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নানা আয়োজনে পালন করা হলে ঠাকুরগাঁওয়ে তার ব্যাতিক্রম হয়নি।  নারীদের নিয়ে সভা সমাবেশ অনেক কিছুই হয়। অনেক সময় বক্তারা নারীদের নিয়ে অনেক কিছু বক্তব্য দেন, কিন্তু শ্রম আইন এর বাস্তব প্রয়োগ ঠাকুরগাঁও জেলায় নেই বললেই চলে। ফলে চরম মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের নারী শ্রমিকরা।

‘জগতে যা কিছু মহান চির কল্যান কর, অর্ধেক করিয়াছে নারী আর অর্ধেক তার নর।’
সেই নারীরা আজ কর্ম ক্ষেত্রে অবহেলীত।

কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, পুরুষ শ্রমিকের পাশা পাশি নারী শ্রমিকরা কাজ করছে। বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে নারী শ্রমিকের কদর বেশী হলেও বৈষম্যে থেকে তারা রেহাই পাচ্ছে না।

নারী শ্রমিকরা হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর ন্যায্য মজুরী থেকে বঞ্চিত হয়ে অতি কষ্ঠে জীবন যাপন করছে। ধান লাগানো, আলু ফার্মে কাজ, মাটি কাটা, হোটেলে রান্না, রাইচ মিল, চাতাল, বিড়ি ফ্যাক্টরী, রাজমিস্ত্রীর জোগালী, পাথর ভাঙ্গার কাজ সহ সব রকম ভারী কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা সফলতার সাথে কাজ করলেও মালিকদের কাছ থেকে ন্যায্য মজুরী পাচ্ছে না নারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের অধিকাংশ নারী শ্রমিক স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা, কেউবা অধিক সন্তানের জননী আবার কারও স্বামী পঙ্গু। অভাবের তাড়নায় তাদের হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। বিনিময়ে মালিকরা যা দেয় তা দিয়ে ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। যদি কেউ মজুরী নিয়ে প্রতিবাদ করে তবে তাদের কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হয়। 

নারী শ্রমিক আয়শা, পারভিন ও বৈশাখী রানী জানান, পুরুষ শ্রমিক যেখানে একই কাজ করে পায় ৩০০টাকা সেখানে নারী শ্রমিকরা পায় ২০০ টাকা। ফলে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। কিন্তু কিছুই করার নেই। কারণ অভাবে ভরা আমাদের সংসার। যা পাই তাই দিয়ে কোন মতে বেঁচে থাকি, খেয়ে না খেয়ে। যারা শ্রম আইনের আওতায় নেই বরং বৈষম্যের শিকার।

সভ্যতার বিকাশে নারীর অবদানের জয়গান শোনা গেলেও ঠাকুরগাঁওয়ে নারী শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো শ্রমের মর্যাদা ধুলোয় লুটিয়ে মিশে যেতে বসেছে। যত বৈষম্যে সব যেন শুধু নারীরই জন্য। নারী শ্রমীকদের ন্যায্য অধিকার ফিরে দিতে শ্রম আইনের বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক জানান, নারীদের কর্মমূখী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মহিলা বিষয়ক অধিপ্তরের অধীনে সেলাই, বিউটিশিয়ান, প্রযুক্তিসহ নানা প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণার্থীরা ৩-৬ মাস মেয়াদী এসব প্রশিক্ষণে গ্রহণকালে সম্মাতি ভাতা প্রদান করছে সরকার। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ নিয়ে নিজেরাই উদ্যোক্তা হলেই এ মজুরী বৈষম্য আর থাকবেনা।