Opu Hasnat

আজ ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ২০২০,

ঝিনাইদহ জুড়ে যথেচ্ছা জমির শ্রেণি পরিবর্তন, নেই কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা! ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ জুড়ে যথেচ্ছা জমির শ্রেণি পরিবর্তন, নেই কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা!

ঝিনাইদহ জুড়ে যথেচ্ছা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। সহকারী কমিশনার ভুমি (এসিল্যান্ড) অফিস ও ইউনিয়ন ভুমি অফিস জমির শে্িরণ পরিবর্তন রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। ঝিনাইদহ, হরিণাকুন্ডু, শৈলকুপা ও কোটচাঁদপুর এলাকায় ধানী, বাস্ত, বাগান ও ডোবা জমিতে পুকুর খনন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে যথেচ্ছা এই পুকুর খনন রোধ করা গেলেও তা করা হচ্ছে না। 

অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসি অভিযোগ দিলে ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে পুকুর খনন সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়। তারপর সবার ম্যানেজ করে আবার চলে পুকুর খননের মচ্ছব। এদিকে আইনের তোয়াক্কা না করে হরিণাকুন্ডুর চাঁদপুর, শাখারীদহ, ভালকী, শিতলী, পায়রাডাঙ্গা, নারায়নকান্দি, সাহেবনগর ও পারমথুরাপুর গ্রামে ফসলী জমির মাঠে খনন করা হয়েছে গভীর পুকুর। এতে ভূমি ধ্বসের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। খনন করা পুকুরের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারাও রয়েছেন ভূমি ধ্বস আতংকে। গত এক মাস ধরে জেলার হরিণাক্ন্ডুু উপজেলার পারমথুরাপুর গ্রামের মৃত হয়বাত বিশ্বাসের ছেলে জাহাঙ্গীর তিন বিঘা জমির উপর খনন করেছেন বিশাল গভীর পুকুর। এছাড়া নারায়নকান্দি গ্রামের আক্তার মেম্বর ত্রিশ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করেছেন। ক্যানেল কেটে বছরের পর বছর ধরে বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন তিনি। 

অভিযোগ উঠেছে-ফসলী জমির টপ সোয়েল বিক্রয় করে দেওয়া হচ্ছে। ফসলী জমিতে পুকুর কাটা যাবে না এমন আইনী নির্দেশনা থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। পুকুর সংলগ্ন বাসিন্দা আনিচুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, মুনতাজ আলী, বাছের আলী, আশাদুল ও আব্দুল বারী জানান, গায়ের জোরে আক্তার মেম্বর ও জাহাঙ্গীর হোসেন ভেকু মেশিন দিয়ে বালি এবং মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছেন। আমরা বাধা নিষেধ করেও ঠেকাতে পারছি না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ঝিনাইদহ জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বেঞ্চসহকারী হাফিজুর রহমান। 

তিনি বলেন, সদ্য খনন করা ওই পুকুরের সাথে তার কয়েক বিঘা ফসলী জমি রয়েছে। ভারী বর্ষন হলে সব জমি ধ্বসে পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ৮নং চাঁদপুর ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, কেউ অভিযোগ করলে আমি ব্যবস্থা নেব। 

হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাফিজা সুলতানা বলেন, ফসলের মাঠে পুকুর খনন করতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে। এভাবে পুকুর কেটে মাটি বা বালি বিক্রি করা আইনত অপরাধ। তিনি এলাকার ভুক্তভোগীদের নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আক্তার মেম্বর, জাহাঙ্গীর হোসেন এবং তার ছেলে আব্দুল কুদ্দুসের মোবাইলে ফোন করা হলে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।