Opu Hasnat

আজ ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০২০,

মাথাভাঙ্গা নদী মরাখালে পরিনত, দুই পাড় দখল করে চলছে চাষাবাদ! চুয়াডাঙ্গাবিশেষ সংবাদ

মাথাভাঙ্গা নদী মরাখালে পরিনত, দুই পাড় দখল করে চলছে চাষাবাদ!

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা মাথাভাঙ্গা নদী নব্যতা হারিয়ে মরাখালে পরিনত হয়েছে। নদীর দুইপাশের ঢাল কর্ষণ ও কোমড় দিয়ে মাছ শিকারের কারনে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুস্ক মৌসুমে নদীটিতে পানি থাকেনা বললেই চলে। ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতীর মাছ। দামুড়হুদা উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ৫০ কিলোমিটার এই নদীর দুই পাশের ঢাল জুড়ে চলছে চাষাবাদ।

দামুড়হুদার কোষাঘাটা, বিষ্ণপুর, কেশবপুর, দামুড়হুদা, রঘুনাথপুর, দর্শনার জয়নগর হয়ে ভরতে প্রবেশ করেছে। খরস্রোতা এই নদী বর্ষা মৌসুম শ্রাবন, ভাদ্র ও আশ্বিন মাস পর্যন্ত পানিতে কানাই কানায় পরিপূর্ণ থাকে বাকী নয় মাস নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিনত হয়ে থাকে। বর্ষা শেষে পানি শুকানো শুরু হলে স্থানীয়রা নদীর দুই পাশের ঢাল জবর দখল কর্ষণ করে চাষাবাদের প্রতিযোগীতা শুরু করে। তিন মাস পানি থাকলেও বাকী নয় মাস নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিনত হয়ে থাকে। এসময় কোন কোন স্থানে নদীর মাঝখানে চর জেগে উঠে তার দুই পাশ দিয়ে শরু নালা হয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমর পানি থাকে তখন মানুষ নদীর মাঝখান দিয়ে হেটে চলা ফেরা করে। ঢাল কর্ষন করে ধান, গম, ভুট্টা, তামাক, পিয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে থাকে। 

এছাড়াও মৌসুম হিসাবে লাল শাক, কফি, পালনশাক, টমেটো, ছোলারশাক মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ করে থাকে। কর্ষণ করায় ধোঁয়াট এসে ও কোমড়, বাঁধ দিয়ে শ্রোত আটকানোর কারনে পলিজমে নব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে পরিবেশ দুষণ হচ্ছে। পরিবেশ দুষন ও নদী রক্ষা করতে নদীটি পূর্ণঃ খনন প্রয়োজন। পুণঃ খনন করে দুই পাড়ের জমি কর্ষণ বন্ধ করলে আবার নব্যতা ফিরে পাবে। সেই সাথে পরিবেশ দুষণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। পানির বহুমুখি ব্যাবহারসহ দেশীয় মাছের জীব বৈচিত্র রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম মুনিম লিংকন জানান, সি এস রের্কড ধরে নদীর ঢাল দখল মুক্তকরে কর্ষন বন্ধ করে প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত খনন করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

দামুড়হুদা উপজেলা মৎস অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আযুব আলী জানান, জমি কর্ষণের কারনে ধোঁয়াট এসে পলি জমায় ৮০ভাগ ভরাট হওয়ার কারন। এছাড়াও কোমড় ও বাধেঁর কারনে স্রোত আটকানে   ২০ভাগ ভরাট হয়ে থাকে। নদীতে পানি না থাকায় থাকায় আবাসস্থলের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।ঢাল কর্ষণ, কোমড় ও বাধঁ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করে পূনঃ খনন করলে আবার নব্যতা ফিরে পাবে।তেমনি ভাবে মাথাভাঙ্গা নদীতে বৃদ্ধপাবে দেশীয় প্রজাতীর মাছ।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর