Opu Hasnat

আজ ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ২০২০,

মাটিরাঙ্গায় বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ খাগড়াছড়ি

মাটিরাঙ্গায় বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বিজিবি’র সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের এক বিজিবি সদস্য এবং বাবা-ছেলে-মা একই পরিবারের তিনজনসহ ৫জন নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরের বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাটিরাঙা সদর উপজেলার অদুরে গাজীনগর এলাকায় গাছ কাটা ও জ্বালানি কাঠ পরিবহনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। মূলত: মাটিরাঙ্গায় গাজীনগরে জ্বালানি কাঠ পরিবহনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে ৪০ বিজিবি‘র সদস্যদের ঘন্টাব্যাপী কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়। 

নিহত ছয়জনরা হলেন-বিজিবি-৪০ এর সদস্য মো: শাওন খান (৩০), মাটিরাঙ্গার আলুটিলা বটতলী গ্রামের বাসিন্দা শাহেদ মিয়া ওরফে মো: মুছা মিয়া (৭০), তার ছেলে মো: আহমদ আলী (২৫), মো: আলী আকবর (২৭) এবং মো: মফিজ (৬০)। এদের ২জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এদিকে বিজিবির গুলিতে স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে আলুটিলা বটতলীর নিজ বাড়িতে হৃদ ক্রিয়াবন্ধ হয়ে শাহেদ মিয়ার স্ত্রী রঞ্জু বেগম মারা যান।

এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মো: মফিজ মিয়া ও মো: হানিফ মিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের একজনের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মো: মফিজ মিয়া নিহত হয়। ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন তবে ভয়ে কেউ নাম বলতে রাজি হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে আরো হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। 

সাধারনত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের সংঘর্ষে নিহত পাঁচজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে বাবা ও দুই ছেলেসহ চারজনের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে গুলিতে নিহত বিজিবি সদস্যের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহতরা হলেন-বিজিবি সদস্য বরগুনার বেতাগী থানার মো: সুজন খানের ছেলে মো: শাওন খান(৩০), মাটিরাঙ্গার বটতলী এলাকার বাসিন্দা মো: মুছা ওরফে শাহেদ মিয়া(৭০), তার দুই ছেলে আহমদ আলী(২৫) ও আলী আকবর(২৭), একই এলাকার বাসিন্দা মো: মফিজ মিয়া (৬০) ।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী সমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনে সাংসদ বাসন্তির চাকমার প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, গুইমারা সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহরিয়ার জামান, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার (এসপি) মো: আব্দুল আজিজসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। 

এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেককের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সুষ্ঠ তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩রা মার্চ) বেলা ১১টার দিকে বৈদ্যুতিক তার টানার জন্য কয়েকটি গাছ কাটা হয়। এসময় একটি ট্রাক্টরে করে শাহেদ মিয়া ও তার ছেলে আহাম্মদ আলী কয়েক টুকরা গাছ গাজিনগর বাজারের একটি কাঠের মিলে নিয়ে যাওয়ার পথে  বিজিবি সদস্যরা তাদের বাঁধা দেন। বিজিবির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে শাহেদ মিয়া ও তার ছেলে। এক পর্যায়ে বিজিবির সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয়রা। এসময় বিজিবি সদস্যরা গুলি করলে ঘটনা স্থলেই মারা যায় শাহেদ মিয়া ও তার ছেলে মো: আকবর আলী। এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বিজিবি সদস্য শাওন, স্থানীয় আহাম্মদ আলী, মফিজ মিয়া এবং মো: হানিফ মিয়াকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানেই মারা যায় বিজিবি সদস্য শাওন ও আহাম্মদ আলী। 

ঘটনার বিবরনে আরো জানা যায়, একটি ট্রলিতে করে জ্বালানি কাঠ নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি- ৪০ এর সদস্যরা বাধা দেয়। কথা কাটা-কাটি এক পর্যায়ে এ নিয়ে বাকবিতন্ডার গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিজিবির গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আহমদ আলী, আলী আকবর তাদের বাবা মুছা মিয়া। গ্রামবাসীর পাল্টা হামলায় নিহত হন বিজিবি সদস্য শাওন খান। পরে আহত অবস্থায় বিজিবি সদস্য শাওন ও আহম্মদ আলীকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদের মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মফিজ মিয়া মারা যান। 

এদিকে গুলিবিদ্ধ মো: হানিফকে (২৮) প্রথমে মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুলিবিদ্ধ হানিফের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন বিনা উস্কানিতে বিজিবি সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছেন।

নিহত মুছার ছোট ভাই মো: আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমার ভাতিজা (নিহত আলী আকবর) ট্রলিতে করে গাছ গাজীনগর থেকে পরিবহন করার সময় বিজিবির সদস্যরা বাধা দেন। তারা গাছগুলো বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এ সময় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় লোকজনদের লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি ছোড়ে। নিহত অন্য দুইজন হলেন মুছা ওরফে শাহেদ মিয়া (৭০) মিয়া ও তার ছেলে মো: আলী আকবর ঘটনাস্থলে মারা যান। এ দুজনের লাশ ঘটনাস্থলে রয়েছে বলে দাবী নিহতের ছোট ভাই মো: আবু বকর ছিদ্দিক। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে নিজের বাড়ি আলুটিলা বটতলীর বাড়িতে স্ট্রোক করে শাহেদ মিয়ার স্ত্রী রঞ্জু বেগমও মারা গেছে। এনিয়ে বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বন বিভাগের কর্মকর্তা। তদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামসুদ্দিন ভুইয়া সংঘর্ষে ছয় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহত বিজিবি সদস্যসহ দুজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। অন্য দুজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। চারজনের মরদেহ মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা পর ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মো: মফিজ। স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবরে মারা গেছেন শাহেদ মিয়ার স্ত্রী রনজু বেগম। 

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে আটক করেছে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। তবে মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামছুদ্দিন ভুইয়া জানান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় সাধারন মানুষের আতংক ছড়িয়ে পড়ায় ষ্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে গাছ কেটে জ্বালানি কাঠ নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক বিজিবি সদস্যসহ ৬’জন মারা যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের আনা হয়েছে। তবে আশঙ্কজনক অবস্থায় আহত দু’জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি মো: শামসুউদ্দিন।

মাটিরাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: মহিউদ্দিন আহম্মদ জানান, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ২জনকে আটক করলেও মূলত: তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত টিম পরামর্শে মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অপরদিকে, ঘটনার পর বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো: আব্দুল আজিজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম সালাহ উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাশ, মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো: শামছুল হক ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম হুমায়ুন মোরশেদ খান।

এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান ও খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। এ ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় তিনি এলাকাবাসীর সকলকে শান্ত থাকারও আহবান জানান। এ ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে জানিয়ে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান সকলকে শান্ত থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। বিষয়টি ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এসময় স্থানীয়রা বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহারের দাবি জানালে তিনি বলেন, গুটি কয়েক খারাপ লোকের জন্য একটি বাহিনীকে দোষারোপ করা যাবেনা।        

এর প্রেক্ষিতে বিজিবি’র গুইমারা সেক্টর কমান্ডার, সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর ঘটনাটি তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তারা জানান। 

খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন মিঠুন চাকমা বলেন, স্পর্শকাতর ঘটনা হওয়ায় আমরা রাতের মধ্যে মরদেহগুলোর ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে মাটিরাঙ্গার বটতলী মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে পারিবারিকভাবে নিহত সবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। 

এদিকে নিহত বিজিবি সদস্যের মরদেহ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত অপর চারজনের মরদেহ বুধবার সকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শামছূদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। মামলা করলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

এ ঘটনার জন্য বিজিবির হাবিলদার মো: ইসহাককে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ইসহাক নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এ সময় সহকর্মী শাওনের ওপরও গুলি চালায় সে। এমনকি গুলিবিদ্ধদের উদ্ধারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে চাইলেও মো: ইসহাকের বাধার কারণে শুরুতে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি।

মাটিরাঙ্গার ঘটনায় বিজিবি’র ব্যাখ্যা :
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষে ৪০বিজিবি‘র সদস্য শাওনসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার(৩রা মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাটিরাঙা সদরের অদুরে গাজীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার গাজীনগর বাজার থেকে ১০০গজ দক্ষিণে বিজিবি’র একটি টহল দল অবৈধ কাঠ পাচাররোধে ব্যবস্থা নিলে বেসামরিক স্থানীয় লোকজন বিজিবি টহল দলকে ঘিরে ধরে। এতে বিজিবি টহল দল ও বেসামরিক জনগণের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিজিবি’র এক রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার ও ধাক্কাধাক্কির রেশ ধরে এক পর্যায়ে বেসামরিক লোকজন বিজিবি’র অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গুলি বর্ষণ করে। আলোচ্য ঘটনায় বিজিবি’র সিপাহী শাওন ও ৫ জন বেসামরিক জনগনের গায়ে গুলি লাগে। ফলশ্রুতিতে বিজিবি সদস্য শাওন ও বেসামরিক ৫জন মৃত্যুবরণ করে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গার গাজী নগর এলাকায় স্থানীয় চান মিয়ার জায়গা থেকে কয়েকটি গাছ কেটে তা ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের ৪০ বিজিবির সদস্যরা বাধা দেয়। এ সময় কথা বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি হলে বিজিবি সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে প্রাণ হারান আহমদ আলী, আলী আকবর, তাদের বাবা মুছা মিয়া ও  বিজিবি সদস্য শাওন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মফিজ মিয়া। এ সময় মো: হানিফ নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। গ্রামবাসীর সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির সংঘর্ষে এক বিজিবি সদস্যসহ মোট ৬জন নিহত হয়।