Opu Hasnat

আজ ৩ এপ্রিল শুক্রবার ২০২০,

পাপিয়ার নামে-বেনামে বিপুল অর্থ, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, অস্ত্র উদ্ধার আইন ও আদালত

পাপিয়ার নামে-বেনামে বিপুল অর্থ, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি, অস্ত্র উদ্ধার

যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা ও নরসিংদীতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক শাফী উল্লাহ বুলবুল বলছেন, পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী নরসিংদী এলাকায় ‘অস্ত্র ও মাদকের কারবার, চাঁদাবাজি, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্নভাবে মানুষের অর্থ আত্মসাত করে’ ওই সম্পদ গড়েছেন। 

রোববার বিকালে কারওয়ানবাজারে  র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, “এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে আসামিরা পুলিশের এসআই ও বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছে বলে জানা যায়।”

র‌্যাব কর্মকর্তা বুলবুল বলেন, “তাদের আয়ের আরেকটি উৎস হচ্ছে নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো।”

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া ওরফে পিউ, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, তাদের দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যবিাকে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১ এর একটি দল।

পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারের সময় ওই চারজনের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট,  ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পাপিয়াসহ গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর রোববার ভোর ৪টার দিকে হোটেল ওয়েস্টিনে পাপিয়ার নামে বুক করা প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট এবং ইন্দিরা রোডের ‘রওশনস ডমিনো রিলিভো’ ভবনে ওই দম্পতির দুটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায় র‌্যাব।

কাছাকাছি সময়ে নরসিংদী শহরের ভাগদীতে পাপিয়ার বাবার বাড়ি এবং পশ্চিম ব্রাহ্মন্দীতে তার শ্বশুরবাড়িতেও অভিযান চলে।

বিকালে ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এসে র‌্যাব-১ অধিনায়ক শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, ঢাকায় হোটেল কক্ষ আর পাপিয়ার বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট ও কিছু বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

“সুনির্দিষ্ট পেশা না থাকলেও তারা স্বল্প সময়ে বিশাল সম্পত্তি ও অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। এই বিশাল অর্থের প্রকৃত উৎস জানতে চাওয়া হলে সন্তোষজনক কোনো জবাব তারা দিতে পারেননি।”