Opu Hasnat

আজ ২৭ মে বুধবার ২০২০,

দেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দুতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন কক্সবাজারসংগঠন

দেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দুতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন

সাগর কুলের মানুষের বড় আদরের, সোহাগের ধন সাগর। সাগর তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। তাদের ঘুম ভাঙ্গে দড়িয়ার গর্জনে, দড়িয়ার ফেনিল সাদা পানিতে জীবনকে সপে দেয়ার মধ্য দিয়ে সাম্পানে পাল তুলে পাড়ি জমায় অকুল দড়িয়ায়। তারা যেন বলতে চান আমরা হারতে শিখিনি।

একুশ মানে মাথা নত না করা। এই কথাটির মর্মার্থ সাবরাংয়ের মানুষ জানে না। কিন্তু তারা জানে কোনো ভাবেই জীবনের কাছে মাথানত করা যাবে না। জীবন যুদ্ধে জয়ী হতেই হবে, এর কোন বিকল্প জানে না তারা। তারা আজ জানলো, ঠিক একই বিশ্বাসে আজ থেকে প্রায় ৬ যুগ আগে তাদের পূর্বপুরুষরা মাথা নত না করার আদর্শে জীবন উৎসর্গ করেছিলো। জানলো ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আম্রতলায় ভাষার দাবী আদায়ের সংগ্রামে শাসকের গুলিতে নিঃষেশে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাদেরই ভাইয়েরা। তারা আজ দেখলো শহীদদের কিভাবে স্মরণ করা হয়, করতে হয়।

২য় জাতীয় কমিউনিটি বেইজড স্কাউট ক্যাম্পে মেরিন ড্রাইভ ঘেষে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে অস্থায়ী শহীদ মিনার। দিনের প্রথম প্রহরেই বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ বিন্দু সাবরাংয়ের অস্থায়ী শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে ১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ছিলেন সহ সভাপতি হাবিবুল আলম বীর প্রতীক, জাতীয় কমিশনার, জাতীয় উপকমিশনার, নির্বাহী পরিচালক, স্কাউটার, অংশগ্রহণকারী সকল স্কাউট। 

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা শেষে অংশগ্রহণকারী রোভার স্কাউটদের ক্র্যাশ ব্যাগ হিসেবে ব্যবহারের জন্য বড় ব্যাগ দেওয়া হবে। 

এ  ক্যাম্পে থাকাকালীন কাগজ, পলিথিন ও  খালি প্লাস্টিক এর বোতল সংগ্রহ করে আলাদা আলাদা ব্যাগে সংরক্ষণ করে। ক্যাম্প  সিডিউল অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হয়ে সংগৃহীত দ্রব্যাদি আলাদা আলাদা ডাম্পিং এর স্থানে ফেলে। সংগৃহিত দ্রব্যাদির ওজন অনুযায়ী প্রত্যেক ইউনিটকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, যা দিয়ে তারা নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে গাছের চারা ক্রয় করবে এবং ইউনিটের নিজস্ব তত্ত্বাধানে নিয়মিত পরিচর্যা করবে। গাছের চারা রোপনের বিষয়টি ফেইস বুক পেইজে প্রকাশ করবে। এছাড়াও এই মিশনে আওতায় নির্দিষ্ট স্থানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্কশপের বিভিন্ন স্টলে মানুষের ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট (কাগজ, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল) বিভিন্ন দ্রব্যাদি ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রসেস করে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস তৈরি করার পদ্ধতি হাতে কলমে দেখানো হয়। যাতে অংশগ্রহণকারীরা রিসাইকেলিং ও রিইউজ সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। অংশগ্রহণকারী স্কাউটরা অ্যাডভেঞ্চারে অংশগ্রহণ করে।

আপনাদের অবগতির জন্য,  ১৭ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, টেকনাফ, কক্সবাজারে ২য় কমিউনিটি বেইজড স্কাউট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্যাম্পে বাংলাদেশের ২২০টি মুক্ত স্কাউট ও রোভার স্কাউট দলের ১৯৮০ জন সদস্য, ভারত থেকে ২৩ জন, নেপাল থেকে ২৬ জন ও যুক্তরাজ্য থেকে ১জন স্কাউট ও স্কাউটার, কর্মকর্তা ৩৮৫ জন, স্বেচ্ছাসেবক রোভার স্কাউট ২৬৫ জন ও সহায়তাকারীসহ সর্বমোট ২৮০০ জন অংশগ্রহণ করছেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬.০০ টায় মাননীয় ভূূমিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পের সমাপনী করবেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি  ভোরে সকলে ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করবে।