Opu Hasnat

আজ ২৯ মার্চ রবিবার ২০২০,

মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেও স্বীকৃতি পাননি চা বিক্রেতা ফজলুল হক মাদারীপুর

মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেও স্বীকৃতি পাননি চা বিক্রেতা ফজলুল হক

৭১সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেও আজও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি মাদারীপুরের কালকিনিতে ফজলুল হক সরদার (৮০) নামে এক বৃদ্ধ চা বিক্রেতার। সে পৌর এলাকার দক্ষিন কৃষ্ণনগর গ্রামের খোরশেদ আলী সরদারের ছেলে। তিনি সামান্য পুজি খাটিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন চা বিক্রি করে। তিনি বর্তমানে উপজেলা সদরের ইউএনও অফিসের পিছনে ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে সারাদিন চা বিক্রি করে ১০০শ’ থেকে ২০০শ’ টাকা আয় করে থাকেন। তা দিয়ে কোন রকম তার পরিবারের দিন কেটে যায়। কিন্তু বেশির ভাগ সময় যখন তিনি অসুস্থ্য থাকেন, তখন আর চা বিক্রি করতে পারেননা। ফলে মাঝে মধ্যে পরিবার নিয়ে অর্ধহাড়ে দিন কাটাতে হয় ফজলুল হকের। 

১৯৭১ সালে জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনেন। লাখো বীর সেনাদের মধ্যে একজন ফজলুল হক। ৭১’ এর রনাঙ্গনে ছিলেন একজন তরতাজা যুবক। সেই যুবক এখন বৃদ্ধ। ভোটার আইডি কার্ড অনুসারে তার বয়স এখন ৮০ বছর। তার দরিদ্র সংসারে বর্তমানে রয়েছে স্ত্রী  সেতারা বেগম, ১ মেয়ে ও ১ ছেলে। তার একমাত্র ছেলে আকরামও বেকার। তারও কোন রোজগারের পথ নেই। তাই এই বৃদ্ধ বয়সে এসেও ফজলুল হক নিরুপায় হয়ে চা বিক্রি করে তার সংসারের হাল ধরে রাখতে হচ্ছে। ছোট বেলা থেকেই ফজলুল হক সংসারে অভাব অনাটনের কারনে খুব বেশি পড়ালেখার সুযোগ পাননি। তিনি পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। ১৯৭১ সালে এদেশের বাঙ্গালির উপর নির্বিচারে যখন  গুলি চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি। তখন তিনি পেটের দায়ে খুলনা সদরে একটি কোম্পানিতে ছোট পদে চাকরি করতেন। তখন তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে দেশ বাঁচাতে চাকরি ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। এবং কি তিনি ভারত গিয়ে প্রায় ১৫ দিন ট্রেনিং করেন। ট্রেনিং শেষে দেশে এসে খুলনা জেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু সুফিয়ানের দলে তিনি নাম লেখান। এরপর তিনি পূরোদমে খুলনা থেকে বরিশাল জেলা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে থেকে দেশ রক্ষায় যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তাকে প্রধান করে ২৬ জনের একটি মুক্তিযোদ্ধাদের গোয়েন্দা টিম গঠন করা হয়। তখন তার কাজ ছিল ছদ্ধ বেশে পাকসেনাদের খোঁজখবর রাখা। সঠিকভাবে পাকসেনাদের অবস্থান নিধারন করা। তার দেয়া সঠিক তথ্যমতে তখন সকল মুক্তিযোদ্ধারা মিলে এক সঙ্গে পাকসেনাদের ওপর হামলা চালাতেন। এবং কি সে সময় প্রত্যেকটি অপারেশনে তার ভুমিকা ছিল প্রসংসনীয়। ফজলুল হক সরদার জীবন বাজী রেখে খুলনা-বরিশাল সদরের গুরত্বপূর্ন স্থানে একের পর এক পাকসেনাদের মুখোমুখি যুদ্ধ করেন। এভাবে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়। দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু আজ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি জোটেনি বৃদ্ধ ফজলুল হক সরদারের ভাগ্যে।

এ বিষয় ফজলুল হক সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি সেই সময় মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীনের জন্য। কোন সার্টিফিকেটের জন্য নয়। দেশ স্বাধীন করে আজকে আমরা স্বাধীন বাংলা পেয়েছি এটাই বড় কথা। আমি মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য অনেকের কাছে ধর্ণা দিয়েছি। অনেক হয়রানীর স্বীকার হয়েছি। দুঃখের বিষয় আমি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও আমি স্বীকৃতি পাইনি আজও।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সাবেক কমান্ডার আবদুল জলিল বলেন, ফজলুল হক সমস্ত প্রমানাদি নিয়ে আবেদন করলে হয়তবা মুক্তিযোদ্ধা সনদ পেতো।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে আবেদনের করার আর কোন সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় এমপির কাছ থেকে ডিউ লেটার নিয়ে সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় বরাবর মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য ফজলুল হক আবেদন করলে স্বীকৃতি পেতেও পারেন।