Opu Hasnat

আজ ২০ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ২০২০,

ব্রেকিং নিউজ

সবজি চাষে মুন্সীগঞ্জের কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি কৃষি সংবাদমুন্সিগঞ্জ

সবজি চাষে মুন্সীগঞ্জের কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি

মুন্সীগঞ্জ আলুর জন্য প্রসিদ্ধ। গত কয়েক বছর যাবত আলুতে লোকসান হওয়ায় শীতকালীন সবজির দিকে ঝুঁকছেন মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা। জেলায় এবার ব্যাপক পরিমাণে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। এরই মধ্যে যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আর বাজারে মৌসুমি সবজিগুলোর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এর দামও চড়া। ফলে শীতকালীন এসব সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছে কৃষক। এতে তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলায় এবার সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৮৩ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার ৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমি এবার সবজির চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের পরিমাণ ১ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত পাঁচ বছরের হিসেব থেকে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জেলায় ৪ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়। আর উৎপাদন হয় ১ লাখ ৬৮১ মেট্রিকটন সবজি। একইভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদন হয় ১ লাখ ৫ হাজার ৭৬১ মেট্রিক টন।

এছাড়া ২০১৬-১৭ তে আলু চাষ বেশি হওয়ায় প্রায় ৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়। ওই সময় উৎপাদন হয় ৯৭ হাজার ৯৬১ মেট্রিক টন সবজি। একইভাবে আলুতে ধস ও সবজির দাম ভালো পাওয়ায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে সবজির উৎপাদন হয় ১ লাখ ৭ হাজার ৭০ মেট্রিক টন। তবে সবচেয়ে বেশি সবজি আবাদ হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। আর উৎপাদনও ছিল খুব বেশি। ওই সময় মোট ৪ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে সবজির উৎপাদন হয় ১ লাখ ১২ হাজার ৫৮৪ মেট্রিক টন সবজি।

শীতকালীন সবজির মধ্যে এ অঞ্চলে বর্তমানে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, টমেটো, শিম, মূলা, করলা, লালশাক খুব বেশি পরিমাণে চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি স্বল্প কিছু জমিতে ধনেপাতা, গাজরসহ অন্যান্য খোরাকি সবজিও আবাদ হয়েছে। এসব সবজি সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও সিরাজদিখান উপজেলায়।

সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল, বজ্রযোগনী, দক্ষিণ চরমসুরাসহ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধীপুর ও সিরাজদিখান উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকায় মিষ্টি কুমড়া, টমেটো, লালশাক, শিম, লাউ, মুলাসহ প্রায় ২০ ধরনে সবজির আবাদ হয়েছে। কোনো কোনো জমিতে সবজি আবাদ ও পরিচর্যা ছাড়াও উত্তোলন শুরু করছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বছর অল্প পরিসরে সবজির চাষ হতো। তবে আলুর চাষটাই এসব এলাকায় বেশি পরিমাণে হতো। আলুতে লোকসান গুণে এখন সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন তারা। এখন পর্যন্ত যারা শীতকালীন সবজি বিক্রয় করতে পেরেছেন তাদের প্রত্যেকেই খরচ পুষিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লাভবান হয়েছেন। উৎপাদিত এসব সবজি মুন্সীগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলার বাজারগুলোতে বিক্রয় হয়। তারা বলছেন, এবার সব ধরনের সবজি চাষিরা লাভবান হয়েছে। পাশাপাশি গত ৫ বছরে এবারই সব পণ্যের দাম খুব ভালো পেয়েছেন।

সদর উপজেলার রামসিং এলাকার শাহ আলম বলেন, ৩৫ শতক জমিতে দেশীয় জাতের শিমের চাষ করেছি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। গত দেড় মাসে শিম বিক্রয় করে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছি। এভাবে আরও তিন মাস তিনি সবজি বিক্রয় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

একই উপজেলার দক্ষিণ চরমসুরা এলাকার চাষি জুলহাস জানান, এবার তিনি ১২ হাজার বাঁধাকপি ও ৩ হাজার ফুলকপির চাষ করেছেন। প্রতিটি কপির জন্য ৮থেকে ১০টাকা খরচ হয়েছে। আর পাইকারি দরে প্রতিটি কপি বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। জমিতে ফলনও ভালো হয়েছে। তাই খরচ বাদে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধীপুর এলাকার লাউ, শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়াল বিলে মিষ্টি কুমড়া এবং সিরাজদিখান উপজেলায় করলার ফলনও বেড়েছে। একই সঙ্গে শীতকালীন এসব সবজি বিক্রয় করে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জ কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নীর উত্তম কুমার শাহা জানান, আলুর জন্য প্রসিদ্ধ ছিল মুন্সীগঞ্জ। আলুতে কয়েক বছর লোকসান হওয়ায় শীতকালীন সবজির দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। বর্তমানে বেশি বেশি সবজির উৎপাদনের পাশাপাশি ভালো দাম থাকায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা।

তিনি আরো বলেন, জেলায় ধীরে ধীরে সবজির আবাদ বাড়তে শুরু করেছে। এবার শীত একটু বেশি হলেও তা সবজি চাষের জন্য ভালো ছিল। ফলে চলমান অর্থবছরে মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন সবজির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।