Opu Hasnat

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার ২০২০,

পদ্মা সেতুতে বসলো ২৪তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ৩৬০০ মিটার মুন্সিগঞ্জ

পদ্মা সেতুতে বসলো ২৪তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ৩৬০০ মিটার

পদ্মা সেতুতে ২৪তম স্প্যান (সুপার ষ্ট্রাকচার) বসলো শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে। দৃশ্যমান হলো মূল সেতুর ৩ হাজার ৬০০ মিটার। পিলার ৩০ ও ৩১ এর উপর স্থাপন করা হলো এ স্পেন।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এ বসানো সম্পন্য হয়। ২৩ তম স্প্যান বসানোর ৯ দিনের মাথায় বসলো ২৪তম স্প্যানটি। তবে এ স্প্যানটি (১০ ফেব্রুয়ারি) সোমবার বসানোর কথা থাকলেও অনিবার্য কারণ বসত তা বসানো সম্ভব হয়নি।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩ হাজার ১৪০ টন উজনের স্প্যানটিকে অস্থায়ীভাবে রাখা ১২ ও ১৩ নং পিলার থেকে নিয়ে সেতুর ৩০ ও ৩১ নং পিলারের কাছে রওনা দেয় তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ভাসমান ক্রেন 'তিয়ান-ই'। স্পেনটি সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সেতুর কাছে গিয়ে পৌঁছে। ভাসমান ক্রেনটি নোঙর করে পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। রাখা হয় দুই পিলারের বেয়ারিং এর ওপর। স্প্যান বসানোর জন্য উপযোগী সময় থাকায় এবং সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীরা যথা সময়ের মধ্যেই স্প্যান বসাতে সক্ষম হন।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সেতুর ৮ নম্বর পিয়ার এর কাজও দুই-একদিনের মধ্যে শেষ হবে। পিয়ার ক্যাপ কংক্রিটিং কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সেতুর ৪২ টি পিলারের মধ্যে ৩০ ও ৩১ সহ ৩৮ টি পিলারের কাজ দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। তাছাড়াও গত ১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার সেতুর সর্বশেষ পিলার-২৬ এর সর্বশেষ ০৫ নম্বর পাইলটিতে কংক্রিট ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যেই এটির বেস কংক্রিটিং করা হবে। যে চারটি পিলার বাকী আছে তা হলো পিলার-১০,১১,২৬ এবং ২৭। এদের মধ্যে পিলার-১০ এবং ১১ এর কাজ এ মাসেই (ফেব্রুয়ারি) শেষ হবে।

পুরো সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি। পদ্মাসেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।