Opu Hasnat

আজ ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ২০২০,

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬৩৬, আক্রান্ত ৩১ হাজার আন্তর্জাতিক

চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৬৩৬, আক্রান্ত ৩১ হাজার

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটির কবলে পড়ে মোট ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ৩ হাজার ১৪৩ জন আক্রান্ত হওয়ায় দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩১ হাজার ১৬১ জনে।

এদিকে চীনের মূল ভূ-খণ্ডের বাইরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন অন্তত দুজন। মঙ্গলবার হংকংয়ে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। তিনি কিছু দিন আগেই করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ফিরেছিলেন। এর আগে গত সপ্তাহে ফিলিপাইনে মারা যান উহানফেরত আরও একজন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। 

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহানম গেব্রিয়াসাস। বহু দেশেই করোনা ভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতি না থাকাই বড় দুশ্চিন্তার কারণ বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তাদের সেবা নিশ্চিতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো ঠেকাতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।’

এদিকে যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তৃতীয় রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর থেকে আসা ওই ব্যক্তিকে ব্রাইটনে পরীক্ষার পর ভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্দ করা হয়েছে। পরে তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

অন্তত ২৫টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। মহামারীর আশঙ্কায় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই চীন থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়া এ ভাইরাস ঠেকাতে চীন-ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ।

বিশ্বের অনেক দেশই ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে চীন থেকে আগতদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলো চীনগামী ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন।
বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও ভয়াবহ কোপ পড়েছে হুবেই প্রদেশে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে চীনসহ বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত এবং প্রাণহানি যত হয়েছে তার ৯৭ শতাংশ হুবেইতে এবং সব রোগীর ৬৭ শতাংশও সেখানকার।

নতুন এই করোনাভাইরাস উহানের একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজার থেকে পশুর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমণ ঘটায়। এর পর মানুষের মধ্যে ব্যাপকহারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। চীনের নতুন চন্দ্রবর্ষ শুরুর দিন ২৪ জানুয়ারির আগে এটি পুরোপুরি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর ও শুষ্ক কাশি হতে পারে। এর সপ্তাহখানেক পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। তবে এসব লক্ষণ মূলত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই জানা গেছে।

সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একদম প্রাথমিক লক্ষণ কী বা আদৌ তা বোঝা যায় কি-না তা এখনও অজানা। তবে নতুন এই করোনাভাইরাস যথেষ্ট বিপজ্জনক। সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের লক্ষণ থেকে এটি মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্তও নিয়ে যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসের নাম দিয়েছে ২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস।