Opu Hasnat

আজ ৩১ মার্চ মঙ্গলবার ২০২০,

ব্যতিক্রমী আয়োজনে ১৩৯ বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা কিশোরগঞ্জ

ব্যতিক্রমী আয়োজনে ১৩৯ বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

কিশোরগঞ্জের ১৩৯ বছরের পুরনো প্রাচীনতম এক  প্রতিষ্ঠান কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ১৩৯ বছরের ইতিহাসে  প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে প্রথম বারের মতো পূর্নমিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বন্ধুদের এ মহা-মিলনমেলায় ৭৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিচারপতি হাফিজুর রহমান থেকে শুরু করে ভিআইপি সকলেই ছিলেন একই সারিতে।

শহরতলীর নেহাল গ্রীণ পার্কে কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ছয়শত শিক্ষার্থীরা এই ব্যতিক্রমী আযোজনে অংশগ্রহণ করে। ৩১ জানুয়ারী সকালে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই চলে রেজিষ্ট্রেশান ও পুরস্কার-কুপন সংগ্রহ। সকাল ১০টায় প্রাক্তন শিক্ষকগণ মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের প্রথমে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে স্কুলের ঘন্টা বাজিয়ে অনুষ্টানের সূচনা করা হয়, পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার পর প্রয়াত শিক্ষক ও ছাত্রদের মঙ্গলকামনা করে ১ মিনিট নিরবতা পালণ করা হয়।

আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক এয়ার ভাইস মার্শাল সানাউল হক জানান, ১৮৮১ সালে কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ১৩৯ বছর পর দেশ বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এটাই সবচেয়ে বড় মিলন মেলা। ১৯৫৮ ব্যাচ থেকে ২০১৮ ব্যাচ পর্যন্ত ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য এসেছেন। বিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ করেন ১৯৭২, ১৯৭৪ ব্যাচসহ বিভিন্ন ব্যাচের করে শিক্ষার্থীরা। 

আয়োজকরা অতিথি, প্রধান অতিথি ও নিবন্ধিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠান শুরুর ঘন্টাখানেকের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল সরগরম হয়ে উঠে। দীর্ঘদিন পর প্রানের বন্ধুদের কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে যান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, মেতে উঠেন আড্ডায়।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অনুপম মাহমুদের সঞ্চালনায় বিদ্যালয়ের বয়োজ্যেষ্ঠ প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আবদুল গণীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক বিরেন্দ্র কিশোর রায়।

অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে দেশ বিদেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। কেউ চিকিৎসক আবার কেউবা গবেষক। কেউ চাকরি আবার কেউ ব্যবসা করছেন। অনেকেই রাজনীুত করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। হাজারো সুখের মাঝে স্কুল জীবনের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার মতো আনন্দ পৃথিবীতে আর নেই। আজকের দিনটির জীবনের অন্যতম স্মরনীয় দিন বলেও মন্তব্য করেন। এত বছর পর হলেও বিদ্যালয়ের পূর্নমিলনী অনুষ্ঠিত হওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদও জানান তারা।

পরে বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। রাতে আতশবাজি ফুটিয়ে এবং ফানুষ উড়িয়ে জাঁকজমকপূর্ণ এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর