Opu Hasnat

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার ২০২০,

পিকনিকে এসে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু নারী ও শিশুকুমিল্লা

পিকনিকে এসে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু

পর্যটন খ্যাত কুমিল্লা কোটবাড়ি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কে শিক্ষা সফরে এসে মারা গেছে লক্ষ্মীপুর ইলেভেন কেয়ার একাডেমির ছাত্রী ফৌজিয়া আরেফিন সামিউন (৮)। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কে এই ঘটনা ঘটে। সামিউন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড সমসেরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। 

পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষকদের অসচেতনতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই তাদের শিশু মারা গিয়েছে। সঠিক সময়ে শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি বলেও দাবি করেন পরিবার। সামিউনের মৃত্যুতে মা-বাবা, পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকালে বনভোজনের উদ্দেশ্যে ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কে আসেন লক্ষ্মীপুরের ইলেভেন কেয়ার একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বনভোজনে আসলেও সামিউনের মা-বাবা কেউই যাননি। বনভোজনস্থলে অন্যান্যদের সঙ্গে সেও খেলা করছিল। একপর্যায়ে শিশুরা পার্কের একটি পুলে হাঁটু পরিমাণ পানিতে খেলাধুলা শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই খিঁচুনি এসে বমি করতে থাকে সামিউন। এ অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মেয়েটির বাবা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। মেয়েকে একা ছাড়তে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা দায়িত্ব নেওয়ায় বনভোজনে যেতে দিতে আমি বাধ্য হয়েছি।’

ইলেভেন কেয়ার একাডেমির অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এ মৃত্যু সবাইকে মর্মাহত করেছে। এটি খুবই বেদনাদায়ক।  ঠান্ডা লেগে সামিউন অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঠান্ডাজনিত কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। বনভোজনে শিশুদের প্রতি দায়িত্বে আমাদের কোনও অবহেলা ছিল না।’

কোটবাড়ি ম্যাজিক প্যারাডাইসের এক পরিচালক জানান, ‘পার্কের সুইমংপুলের পানিতে নেমে ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়ে এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুনেছি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কোন হাসপাতালে মারা গিয়েছে তা পার্ক কর্তৃপক্ষও বলতে পারছে না। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।