Opu Hasnat

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার ২০২০,

করোনাভাইরাস : বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা স্বাস্থ্যসেবা

করোনাভাইরাস : বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

চীনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস অন্যান্য দেশে দ্রæত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’। বৃহস্পতিবার হু’র শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের এক বৈঠকের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. টেড্রোস অ্যাডানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেছেন, ‘এই ঘোষণার মূল কারণ চীনে যা হচ্ছে তা নিয়ে নয়, বরং অন্যান্য দেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে তার জন্য।’ উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, যেসব দেশের স্বাস্থ্য সেবা ততটা উন্নত নয় সেসব দেশে এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৩  জনে। এছাড়া ৯,৬৯২ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চীনের প্রতিটি অঞ্চলে এখন ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

‘হু’ জানিয়েছে, চীনের বাইরে ১৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে ৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জার্মানি, জাপান, ভিয়েতনাম এবং আমেরিকায় মানুষে-মানুষে সংস্পর্শের মাধ্যমে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডা. টেড্রোস এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে চীনের নেওয়া ব্যবস্থাকে ‘অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে মানুষে-মানুষে সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস যেভাবে কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তা উদ্বেগের ব্যাপার।’

গত মাসে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। চীন ছাড়াও থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ ১৮ দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।

প্রসঙ্গত, জনস্বাস্থ্য সংকটের আন্তর্জাতিক উদ্বেগ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে’ দেখা হয়। এটি আইনগতভাবে বাধ্য কোনো ঘোষণা নয়। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, পরিস্থিতিকে মারাত্মক হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু, ২০১৪ সালে পোলিও, ২০১৬ সালে জিকা ভাইরাস এবং ২০১৪ ও ২০১৯ সালে ইবোলা ভাইরাস মোকাবেলায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।