Opu Hasnat

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারী বুধবার ২০২০,

অপারেশন বন্ধ ২ মাস, এক্সরে মেশিন অকেজো ৫ মাস, আল্ট্রাসনোগ্রাম হয়না প্রায় ২ বছর

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল শুধু নামেই আধুনিক, ক্লিনিকই রোগিদের ভরসা স্বাস্থ্যসেবাঝালকাঠি

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল শুধু নামেই আধুনিক, ক্লিনিকই রোগিদের ভরসা

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ওপারেশন থিয়ারটার অচল হয়ে পরে আছে প্রায় ২ মাস ধরে। ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নষ্ট ৫ মাস। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও কাজ হচ্ছেনা ২ বছর। এ কারনে জেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগিদের দূর্ভোগের শেষ নেই। এতে একদিকে হয়রানীর শিকার হচ্ছে গরীব অসহায় রোগীরা অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাহিরে অপারেশন বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে পারছেনা। স্বচ্ছল রোগীরা অর্থের বিনিময়ে বাহির থেকে অপারেশন করাতে পারলেও ২ থেকে ৩ গুণ অর্থ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সিভিল সার্জন আন্তরিক না হয়ে শুধু কাগজে কলমে মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করে বসে আছেন। অপরদিকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ সুযোগে রোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই ভূক্তভোগীদের অভিমত জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসককে এ বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেয়া উচিত। 

হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, গত ৩০ নভেম্বর থেকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের অপারেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩ জন চিকিৎসক বদলী হয়ে চলে যায়। তাঁরা হলেন অজ্ঞান চিকিৎসক ফকরুল আলম, গাইনী চিকিৎসক মৃণাল কান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় ও সার্জারি চিকিৎসক প্রদীপ কুমার কর্মকার। এদের মধ্যে সার্জারি চিকিৎসক মিতু দেবনাথকে ঝালকাঠিতে পোস্টিং দেয়া হলেও অজ্ঞান ও গাইনী চিকিৎসক পদে নিয়োগ না দেয়ায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছেনা। এ অবস্থায় বিপাকে পরেছে জেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগিরা। চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা। তাই বাধ্য হয়ে অপারেশনের রোগী নিয়ে স্থানীয় ক্লিনিক, ডায়ানস্টিক সেন্টার এবং বরিশালে চিকিৎসা করাতে স্বজনদের ৪/৫ গুণ বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সদর হাসপাতালে সিজার অপারেশন করাতে খরচ পরে মাত্র ১ থেকে ২ হাজার টাকা। একই অপারেশন করাতে বাইরে দিতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সার্জারি অপারেশন করাতে সদর হাসপাতালে খরচ হয় ১ হাজার টাকা। বাহিরে প্রয়োজন হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নষ্ট হয়ে আছে ৫ মাস ধরে। দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের এক্সরে ফিল্ম  কিছুদিন পরেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে। তখন বাহিরে ফেলে দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। সরকারিভাবে মেশিনটি সচল করতে চিঠি চালাচালি করতেই এত মাস পার হলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ সুযোগে বাহিরে এক্সরে করাতে ২/৩ গুণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে। এ হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট হয়ে  আছে প্রায় ২ বছর ধরে। চারটি অত্যাধুনিক মেশিন থাকলেও সেগুলো অকেজ পরে থাকায় নষ্ট হবার উপক্রম হয়ে পরেছে। 

এ বিষয়ে ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, এই মুহুর্তে মেজর কোন অপারেশন হচ্ছেনা। কারন অজ্ঞান ও সিজার চিকিৎসক নেই। গত ৩০ নভেম্বর থেকে এ দু’জনের সাথে সার্জারি চিকিৎসকও বদলি হয়ে যায়। এরপর নতুন সার্জারি চিকিৎসক যোগদান করলেও অন্য দুজনের পদ এখনো খালি। এ বিষয়ে আমি মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি লেখা ছাড়াও সরাসরি সচিবের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। কবে নাগাদ ডাক্তার পাওয়া যাবে তা বলা যাচ্ছেনা।